হারাম জাতিয়তাবাদী মানচিত্র অনুযায়ী একই মুসলিম ভূমিতে আরাফা, শবে কদর, রোযা, ঈদ ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন দিনে কেন? (৫ম অংশ)
13 November 2013 at 03:08
৪র্থ অংশের পর
৫ম অংশ
যারা নিজ নিজ দেশের চাঁদ অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করে থাকেন তাদের দলীল ও তাঁর জবাব
বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে সমাজে প্রচলিত এলাকা ভিত্তিক আমলকে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য কিছু সংখ্যক ওলামায়ে কিরাম হাদিসে কুরাইব (রাঃ) নামে প্রসিদ্ধ একটি হাদীসকে দলীল পেশ করেন। উক্ত হাদিসটি নিম্নরূপঃ
মুসলিম শরীফের এক বর্ণনা থেকে; এতে বর্ণিত আছে: "উম্মুল ফাযল বিনতুল হারিছ তাকে (কুরাইব) আশ-শামে মুয়াবিয়ার কাছে প্রেরণ করলেন; তিনি বলেন: আমি আশ-শামে গেলাম এবং তার (উম্মুল ফাযল বিনতুল হারিছ)-এর পক্ষ থেকে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করলাম। আশ-শামে তখন রমযান মাস শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেখানে আমি শুক্রবারেই রমযানের নতুন চাঁদ দেখেছিলাম। মাসের শেষদিকে আমি তখন মদিনায় ফিরে এলাম, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) আমকে রমযানের নতুন চাঁদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন: "তুমি এটা কখন দেখেছ? আমি বললাম: শুক্রবার রাতে আমরা এটা দেখেছি। তিনি বললেন: তুমি কি এটা নিজে দেখেছ? আমি বললাম: হ্যাঁ, আমি দেখেছি এবং অন্যান্য লোকজনও দেখেছে এবং সিয়াম পালন করেছে, মুয়াবিয়া (রা) ও সিয়াম পালন করেছেন; একথা শুনে তিনি বললেন: কিন্তু আমরা এটা দেখেছি শনিবার রাতে। অতএব আমাদেরকে ত্রিশ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অথবা এটি শাওয়্যালের (নতুন চাঁদ) না দেখা পর্যন্ত সিয়াম পালন অব্যাহত রাখতে হবে। আমি বললাম: মুয়াবিয়ার চাঁদ দেখা কি আপনার জন্য যথেষ্ট না? তিনি বললেন: না, কারণ এভাবেই আল্লাহর রাসূল আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন।"
পবিত্র হাদীসটির জবাব
সুবিজ্ঞ মুহাদ্দেসীনে কিরাম এবং হানাফী, হাম্বলী ও মালেকী মাযহাবের ইমামগণ অত্র হাদিসে পাককে দলীল হিসেবে গ্রহণ না করে হাদিসটির নিম্নরূপ জবাব দান করেছেন-
১। অত্র ফাতওয়ায় “রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নিজ আমল” শিরোনামে পবিত্র মিশকাত শরীফের ১২৭ ও ১৭৪ পৃষ্ঠা থেকে যে তিনটি হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে তার দ্বারা প্রমাণিত যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম একজন মরুচারীর সংবাদকে ভিত্তি করে নিজে রোযা রেখেছেন এবং অন্যদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। দূরদূরান্ত থেকে আগত একটি কাফেলার সংবাদের ভিত্তিতে ৩০শে রমযান মনে করে রাখা রোযা নিজে ভঙ্গ করেছেন এবং অন্যদেরকেও ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়েছেন।
তাহলে যেখানে শরীয়ত প্রবর্তক নিজেই অন্যের সংবাদ গ্রহণ করে রোযা রেখেছেন এবং ঈদ করেছেন, সেখানে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সংবাদ গ্রহণ করলেন, কি করলেন না তা কোন যুক্তিতেই দলীল হতে পারেনা।
২। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র আমল বিষয়ক উক্ত হাদীস তিনটি হাদিসে মারফু। (মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা ও কাজ), আর কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর হাদীস হচ্ছে হাদিসে মাওকুফ। (সাহাবীগণের কথা ও কাজ) অতএব অছুলে হাদীস বা হাদীস ব্যাখ্যার মূলনীতি অনুযায়ী হাদিসে মারফুর মোকাবিলায় হাদিসে মাওকুফ কখনও দলীল হতে পারেনা।
৩।হাদিসে কুরাইব (রাঃ)-এর মধ্যে هكذا امرنا النبى صلى الله عليه وسلم এবং فلانزال نصوم حتى نكمل ثلثين اونراه বিশেষ উক্তি দু’টি মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নয় বরং অত্র উক্তিদ্বয় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিজস্ব উক্তি। তাই কোন সাহাবীর নিজস্ব উক্তি কখনই কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াত এবং মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নির্দেশ ও আমলের বিপরীতে দলীল হতে পারেনা।
৪। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু তার উক্তিদ্বয় দ্বারা মূলত ইঙ্গিত করেছেন রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর বাণী- لاتصوم حتى تروه ولاتفطرو حتى تروه এবং صوموا لرؤيته وافطروا لرؤيته এর দিকে। আর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর এ বাণীর আমল উম্মতগণ কিভাবে করবেন তা মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম নিজ জীবদ্ধশায়ই আমল করে দেখিয়ে গেছেন। তাহলো সকলকে চাঁদ দেখতে হবে না বরং কিছু সংখ্যকের দেখাই অন্যদের দেখার স্থলাভিষিক্ত হবে। অতএব ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর উক্ত উক্তিদ্বয় দ্বারা নিজ নিজ এলাকায় চাঁদ দেখে আমল করতে হবে এ ব্যাখ্যা ঠিক নয়।
৫। ছহীহ মুসলিম শরীফের বর্ণনায় কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর চাঁদ দেখার স্বীকৃতি মূলক শব্দ نعم رأيته “হ্যা আমি চাঁদ দেখেছি” কথাটির উল্লেখ থাকলেও তিরমীযী সহ অন্যান্য বর্ণনায় কুরাইব (রাঃ) নিজে চাঁদ দেখেছেন এরকম শব্দের উল্লেখ নেই। ফলে অত্র হাদিসটি مضطرب বা মূল ভাষ্য কম-বেশী হওয়ায় স্পষ্ট মারফু হাদিসের বিপরীতে কখনই দলীল হতে পারেনা।
৬। আল্লামা শাওকানী (রঃ) তার লিখিত “নাইলুল আওতার” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত কুরাইব রাদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সংবাদ এবং শামবাসীর চাঁদ দেখাকে গ্রহণ না করা এটা আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিজস্ব ইজতিহাদ। যা সার্বজনীন আইন হিসেবে প্রযোজ্য নয়।
৭।আল্লামা ইবনু হুমাম (রঃ) ফতহুল কাদীরে এবং আল্লামা ইবনু নাজীম (রঃ) বাহরুর রায়েক-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, পরিষ্কার আকাশে পবিত্র রমযানের চাঁদ দেখা প্রমাণিত হওয়ার জন্য শরয়ী পদ্ধতি হচ্ছে ৪টি। একঃ দু’জন আকেল, বালেগ ও স্বাধীন মুসলিম সাক্ষ্য দিবে, দুইঃ উক্ত গুণে গুণান্বিত দু’জন, অনুরূপ দু’জনের চাঁদ দেখার প্রতি সাক্ষ্য দিবে। তিনঃ অনুরূপ গুণে গুণান্বিত দু’ ব্যক্তি চাঁদ দেখায় কাজীর ফয়সালার প্রতি সাক্ষ্য দিবে। চারঃ চাঁদ দেখার খবর মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচার পেয়ে দৃঢ়তার পর্যায়ে এমন ভাবে পৌঁছে যাবে যাকে মিথ্যা বলে ধারণা করা যায়না।
কিন্তু শামবাসীর চাঁদ দেখার সংবাদ কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু কর্তৃক অত্র চার পদ্ধতির কোন পদ্ধতিতেই ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট উপস্থাপিত হয়নি। তাই শরয়ী বিচারে তিনি উক্ত সংবাদ গ্রহণ করেননি।
৮। আল্লামা ইবনু ক্বুদামাহ্ (রঃ) তার মুগণী কিতাবে এবং শাইখুল হিন্দ হোসাইন আহমদ মাদানী মায়ারিফুল মাদানিয়া-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, যদিও ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সাথে কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর আলোচনা হয়েছিল রমজানের চাঁদ দেখা নিয়ে কিন্তু এর প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া পড়ছিল অত্যাসন্ন ঈদুল ফিতরের উপর। কারণ উক্ত হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুরাইব রাদি আল্লাহু তায়ালা আনহু রমযানের শেষের দিকে শাম থেকে মাদিনায় এসে ছিলেন। আর শরীয়তের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কমপক্ষে দু’জনের সাক্ষী ছাড়া রোযা ছেড়ে ঈদ করা যায়না। তাই ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ না করে বলেছিলেন- هكذا امرنا النبى صلى الله عليه وسلم এবং فلانزال -نصوم حتى نكمل ثلثين اونرا
(দেখুনঃ তানযীমুল আশতাত, খন্ড-২, পৃঃ-৪১, মিফতাহুন্নাজ্জাহ, খন্ড-১, পৃঃ-৪৩২,মায়ারিফুল মাদানিয়া, খন্ড-৩, পৃঃ-৩২-৩৫)
৯। হযরত ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর আমলকে দলীল গ্রহণ করে, যে সকল পূর্ববর্তী আলেমগণ এলাকা ভিত্তিক আমলের সপক্ষে মতামত দিয়েছেন তারা প্রায় সকলেই একথা বলেছেন যে, নিকটবর্তী দেশ বা অঞ্চলে চাঁদের উদয় স্থলের ভিন্নতা গ্রহণীয় হবে না। এক স্থানের দেখা দ্বারাই সকল স্থানে আমল করতে হবে। আর যদি চাঁদ দেখার দেশটি চাঁদ না দেখার দেশ থেকে অনেক দূরে হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে যার যার দেখা অনুযায়ী আমল করতে হবে। একটু গভীর ভাবে লক্ষ্য করলে সকলের নিকটই একথা সূর্যালোকের মত পরিষ্কার যে, এক দেশের চাঁদ দেখার সংবাদ অন্য দেশ থেকে গ্রহণ করা না করার দিক থেকে ঐ সকল সম্মানিত ওলামাই কিরাম পৃথিবীকে নিকটবর্তী ও দূরবর্তী এ দু’ভাগে ভাগ করার কারণ হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা। তাদের যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে তাদের এ মতামত ঐ যুগের জন্য যুক্তিযুক্ত এবং যথার্থ ছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী সম্মানিত ওলামাই কিরামের ঐ মতামত বর্তমানে দু’টি, কারণে গ্রহণ যোগ্য নয়। এক: যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে বর্তমান পৃথিবীর বিপরীত মেরুর দেশ দু’টিও তাদের যুগের পাশাপাশি অবস্থিত দু’টি জেলা শহরের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। সুতরাং আজকের যোগাযোগ ব্যবস্থায় দূরবর্তী দেশ বলতে আর কোন কথা নেই। দুই: তারা যে ওজর বা বাধ্যবাধকতার কারণে এ মতামত দিয়েছেন আজকের বিশ্ব ব্যবস্থায় সে ওজর সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
১০। চার মাযহাবের সুবিজ্ঞ ইমামগণের প্রত্যেকেই হাদীস শাস্ত্রে গভীর পান্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। অতএব কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বর্ণিত হাদীস তাদের জানা ছিলনা এমনটা ভাবা যায়না। তাই তারা জেনে বুঝেই রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর আমলমূলক হাদীসের উপর ফাতওয়া দিয়েছেন যা সার্বজনীন আইন হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। আর তারা কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর হাদীসকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে গণ্যকরে পবিত্র কুরআন, হাদীস এবং রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নিজ আমলের ভিত্তিতে ফাতওয়া দিয়েছেন যে, “চাঁদের উদয় স্থলের ভিন্নতা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং পৃথিবীর যে কোন স্থানে প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে সমগ্র পৃথিবীতে এক কেন্দ্রিক তারিখ গণনা করতে হবে এবং একই দিনে সকলের উপর আমল করা জরুরী হবে।”
প্রসংগত উল্লেখ্য যে, ইমাম যায়লায়ী (রহঃ) ৬ষ্ঠ স্তরের ফকীহ। তাই তিনি মুজতাহিদ ফিদ্ দ্বীন নন বরং একজন মুকাল্লিদ। অতএব একজন মুকাল্লিদ হিসেবে নিজ ইমামের সিদ্ধান্তের অনুসরণই তার জন্য যুক্তিযুক্ত। তিনি নিজেই وهو قول اكثر المشائخ বলে স্বীকার করেছেন যে বেশীর ভাগ ফকীহ উক্তমত গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তার সমসাময়ীক সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে চাঁদ উদয়ের সংবাদ দেয়া-নেয়ার সমস্যার সমাধান কল্পেই তিনি নিকটবর্তী দেশ এবং দূরবর্তী দেশ অনুসরণের ফাতওয়া দিয়েছিলেন। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন অসুবিধা না থাকায় সম্মানিত ইমামগণের কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক মূল সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমলের কোন বিকল্প নেই।
১১। যদি সমস্ত বাহাছ তর্ক পরিহার করে হাদিসে কুরাইব-এর ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন দিনে রোযা ও ঈদ মেনে নেওয়া হয় এবং কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের উল্লেখিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোযা, ঈদ, কুরবানীসহ চাঁদের তারিখ সংশ্লিষ্ট ইবাদাত সমূহ সমগ্র বিশ্বে একই দিনে অনুষ্ঠিত না হয় তাহলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন সব জটিল সমস্যার সৃষ্টি হবে যার কোন সমাধান নেই। নিম্নে এরকম প্রধান প্রধান কিছু সমস্যা তুলে ধরা হল-
এক: বাংলাদেশে বর্তমান প্রচলিত আমলের কারণে পবিত্র রমযানের প্রথম দিকের এক বা দুই দিনের রোযা আমরা কখনই পাইনা। কারণ মাসয়ালা মতে আমাদের এক বা দু’দিন পূর্বেই পবিত্র রমযান মাস শুরু হয়ে যায়। এটা জেনেও আমরা ঐ এক বা দু’দিন ফরয রোযা রাখিনা।
দুই: মাসয়ালা অনুযায়ী সমগ্র পৃথিবীতে যেদিন পহেলা শাওয়াল হিসেবে ঈদ পালন হয় আমরা সেদিন ২৯ বা ৩০ রমযান হিসেবে রোযা রাখি। অথচ সর্ব সম্মত মতে ঈদের দিনে রোযা রাখা হারাম। জেনে শুনে ঐ দিন রোযা রাখা জায়েজ মনে করলে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী ঐ ব্যক্তির ঈমান চলে যাবে। কারণ সে হারামকে হালাল মনে করে কার্য সম্পাদন করেছে।
তিন: বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রতিদিনই এক দেশ থেকে অন্য দেশে বহু লোক যাতায়াত করছে। এ ধারাবাহিকতায় মধ্য প্রাচ্যসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে রোযা শুরু করে বাংলাদেশে এসে ঈদ করলে ঐ ব্যক্তির রোযা হবে ৩১ বা ৩২টি। আবার বাংলাদেশে রোযা শুরু করে অন্য দেশে গিয়ে ঈদ করলে ঐ ব্যক্তির রোযা হবে ২৭ বা ২৮টি। অথচ হাদীস শরীফে বলা হয়েছে আরবী মাস ২৯-এর কম হবেনা এবং ৩০-এর বেশী হবেনা। তাই পবিত্র ইসলামে ২৭, ২৮ অথবা ৩১, ৩২টি রোযার কোন বিধান নেই। বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেব কোরিয়াতে ঈদের নামায পড়ে এসে দেখেন বাংলাদেশে আরও একদিন রোযা বাকী। এধরনের সমস্যার সমাধান কখনই সম্ভব নয়।
চার: হাদীস শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী তাকবীরে তাশরীক বলা শুরু করতে হবে আরাফার দিনের ফজর নামায থেকে। কিন্তু আমাদের দেশে উক্ত তাকবীর বলা শুরু করা হয় এখানকার স্থানীয় ৯ই জিল-হাজ্জ। যে দিন সারা পৃথিবীতে ১০ বা ১১ জিল-হাজ্জ। ফলে ঐ দিনটি আরাফার দিনতো নয়ই বরং আরাফার দিনের পরের দিন বা তৎপরবর্তী দিন। তাহলে ফলাফল দাড়ালো বাংলাদেশের স্থানীয় তারিখ অনুসরণের কারণে আমাদের পাঁচ বা দশ ওয়াক্ত নামাজের ওয়াজিব তাকবীর ছুটে যাচ্ছে। আবার শেষ দিকে গিয়ে এমন এক বা দু’দিন তাকবীর বলছি যখন আমলটির ওয়াজিব আর বাকী নেই।
পাঁচ: যে সকল সম্মানিত ভাইয়েরা একাধিক পশু কুরবানী দেন, তাদের অনেকেই বাংলাদেশের স্থানীয় ১১ ও ১২ জিল-হাজ্জ তারিখে কুরবানী দিয়ে থাকেন। কিন্তু কুরআন, সুন্নাহর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐ সময় সারা বিশ্বে ১৩ বা ১৪ জিল-হাজ্জ। (যদি চাঁদ দেখায় ২দিনের তারতম্য হয়)। তাহলে ফলাফল দাঁড়ালো তাদের দু’দিনের কুরবানী-ই বিফলে যাচ্ছে। কারণ কুরবানী করার সময় ১০ থেকে ১২ জিল-হাজ্জ। ১৩ ও ১৪ জিল-হাজ্জ কুরবানী করা যায়না।
ছয়: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন যে, আরাফার দিনে রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহর উপর এ বিশ্বাস রাখি, ঐ দিনের রোযার বিনিময়ে আল্লাহ পাক রোযাদারের পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেন।
----- (মুসলিম শরীফ, খন্ড-১, পৃঃ-৩৬৭)
পবিত্র হাদীস ঘোষিত এ মহান পূন্য লাভের আশায় অগণিত মুসলিম নর-নারী বাংলাদেশের স্থানীয় ৯ জিল-হাজ্জ রোযা রাখেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল ঐ দিন মক্কা মোয়াজ্জেমা সহ সারা বিশ্বে ১০ বা ১১ জিল-হাজ্জ। অর্থাৎ কোন ভাবেই ঐ দিনটি আরাফার দিনতো নয়ই বরং কুরবানীর দিন বা তাশরীকের প্রথম দিন। যে দিন গুলোতে রোযা রাখা চার মাযহাবের সকল ইমাম ও আলেমের ঐক্যমতে হারাম। তাহলে ফল হল স্থানীয় চাঁদ দেখার হিসেবে একটি নফল রোযা রেখে হারামে নিমজ্জিত হচ্ছেন অগণিত মুসলিম নারী-পুরুষ।
সাত: পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুল মি’রাজ ইত্যাদি আল্লাহর নিকট এক একটি সুনির্দিষ্ট রাত। যা সমগ্র বিশ্বের সকল মানুষের জন্য একই রাতে সংগঠিত হয়। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন দিন এ রাত গুলো নির্ধারণ করার ফলে এসকল রাতের ফযীলত থেকে দেশবাসীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যখন সংবাদ পৌঁছেনি তখন স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে এসব পর্ব পালন ওজর হিসেবে যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সে ওজর নেই।
আট: আল্লাহ পাক এরশাদ করেন “নিশ্চয়ই আমি এ কুরআনকে নাযিল করেছি ক্বদরের রাতে।”
----- (সুরাহ আল ক্বদর)
পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর আল কুরআন ঘোষিত একটি মর্যাদাপূর্ণ রাত। যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। আমরা যারা একদিন পরে রোযা শুরু করি আমরাতো কখনই ঐ রাত পাইনা। কারণ আরব বিশ্বে যেদিন বেজোড় রাত আমাদের দেশে সেদিন জোড় রাত। তাদের বেজোড় রাত হিসাবে ক্বদর হলে আমরা কখনই ক্বদর রাত পেতে পারিনা। কারণ এ রাত তো একটিই। যা অঞ্চলের ভিন্নতায় কয়েক রাত মেনে নেয়া হাস্যকর বৈকি?
জাতীয়তাবাদ ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম
বৃটিশরা দাগ টেনেছে মাটিতে আর কিছু মুসলিমরা সেই দাগ আকাশেও টেনে বলছে যে এই দাগের ভিতর চাঁদ আসলে এটা আমার আর তোমার দাগের ভিতর আসলে তোমার। কি মুসলিম ! কি ভয়ঙ্কর জাতিয়তাবাদ! বৃটিশদের টানা দাগের প্রতি এদের কি সম্মান!
আমরা জানি, জাতীয়তাবাদ ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা বলেন,
“তোমরা সকলে আল্লাহ্র রজ্জুকে শক্ত করে আকড়ে ধর এবং পরস্পর বিভক্ত হয়ো না। [সূরা আলে ইমরান: ১০৩]”
রাসূল (সা) বলেন,
"যে জাতীয়তাবাদের দিকে আহ্বান করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়"। [আবু দাউদ]
তিনি (সা) আরো বলেন,
"এটা (জাতীয়তাবাদ) ছেড়ে দাও, নিশ্চয়ই এটা পঁচে গেছে"। [বুখারী]
সুতরাং, কোনো জাতি-রাষ্ট্রের সীমানা মুসলিম উম্মতের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি করেনা। শরীয়তের দৃষ্টিতে পৃথিবীর প্রত্যেক মুসলিম পরস্পর ভাই-ভাই এবং তাদের ভুমিগুলো একটি ভুমি হিসেবেই বিবেচিত হয়।
আহবান
হে মুসলিমগণ! সিয়াম পালন করার দিন এবং সিয়াম পালন বন্ধের সময়ের ব্যপারে ঐক্যবদ্ধ থাকার যে শরঈ বিধান রয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য আমরা আপনাদেরকে আহবান করছি। এই উপলক্ষ্যে আমরা আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি মুসলিম উম্মাহর জন্য খলীফা নিয়োগের দায়িত্বের ব্যাপারে যা আল্লাহ আমাদের উপরে অর্পণ করেছেন; যিনি আমাদের ভিন্নমত এবং ভিন্ন অবস্থানকে এক করবেন, যিনি সমস্ত শরঈ আহকাম বাস্তবায়ন করবেন, ইসলামের আহ্বানকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিবেন এবং আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চে তুলে ধরবেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন,
"হে ঈমানদারগণ, যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এমন কোনো কিছুর দিকে তোমাদেরকে আহ্বান করেন যা তোমাদের মধ্যে জীবনের সঞ্চার করে তখন সেই আহ্বানে সাড়া দাও।" [আনফাল: ২৪]
https://www.facebook.com/.../%E0%A6%B9.../1429041967309190https://www.facebook.com/.../%E0%A6%B9.../1429047293975324
কিছু প্রশ্ন যারা নিজ নিজ দেশের চাঁদ অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করে থাকেন তাদের কাছে আমাদের প্রশ্নঃ ১| দেশের সীমানা কতটুকু হবে তা কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী পেশ করবেন? ২।আপনাদের বক্তব্য অনুযায়ী "সা
https://www.facebook.com/.../%E0%A6%B9.../1429059953974058
বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ -
অধ্যাপক মাওলানা আ, ন, ম, আব্দুল মান্নান খান
সাবেক চেয়াম্যান- আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
মোবাইল - ০১৯২১১২৮০৪৬,
ফোন - ৮৬১৮৭১২
সভাপতি, “চান্দ্রমাসের সঠিক তারিখ নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি”
ড. মুফতী মাওলানা এ. কে. এম. মাহবুবুর রহমান
অধ্যক্ষ- ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা, চাঁদপুর।
অধ্যাপক (খন্ডকালীন)- এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, উত্তরা, ঢাকা।
মোবাইল - ০১৭১৮৫৩৩৩৩১
সহ-সভাপতি, “চান্দ্রমাসের সঠিক তারিখ নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি”
ড. মুফতী মাওলানা আব্দুল্লাহ আল-মারূফ
উপ-পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।
মোবাইল - ০১৫৫২৩৪৬১১৩
মহাসচিব, “চান্দ্রমাসের সঠিক তারিখ নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি”
মাওলানা মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম
সাবেক অধ্যক্ষ, সাকরাল সিনিয়র মাদ্রাসা, উজিরপুর, বরিশাল।
মোবাইল - ০১৯১৮৯৪৬৭৬২
যুগ্ম-মহাসচিব, “চান্দ্রমাসের সঠিক তারিখ নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি”
মাওলানা মুহাম্মাদ এনামুল হক আল-মাদানী
লেকচারার- আরবী বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
মোবাইল- ০১৯২১৬৮৬৬১৮
যুগ্ম-মহাসচিব, “চান্দ্রমাসের সঠিক তারিখ নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি”
মেজর মীর হোসেন চৌধূরী (অবঃ)
পশুরাম, ফেনী
সাংগঠনিক সম্পাদক, “চান্দ্রমাসের সঠিক তারিখ নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি”
অধ্যাপক মুহাম্মাদ ফরিদ উদ্দীন খান
পরিচালক, দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি
মোবাইল - ০১৭২০৬৩৭৭৭৪
মুফ্তী মাওলানা মুহাম্মাদ আমীর হুসাইন
প্রধান মুফতী, ফরাজীকান্দী আলিয়া মাদরাসা, চাঁদপুর।
মোবাইল - ০১৮১৫৪৭৫৩৫১
তথ্যসূত্র: (আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন)
http://www.newmoonbd.com/oic_decision.php
http://www.newmoonbd.com/faq.php
http://www.newmoonbd.com/what_quran_says.php
http://www.newmoonbd.com/direction_of_hadis.php
http://www.newmoonbd.com/fikhs_decision.php
http://www.newmoonbd.com/fikhs_decision_1.php
http://sottersondhane.blogspot.com/2013/05/blog-post_25.html
http://sottersondhane.blogspot.com/2013/05/blog-post_8590.html
http://sottersondhane.blogspot.com/2013/05/blog-post_8475.html
http://www.kitabummuneer.com/next/Global%20Moon%20Sighting%20Fatwa%20in%20English.pdf
http://www.mediafire.com/download/219otdrihnde3d5/Muslims_are_Obliged_to_Fast_and_Celebrate_Eid_on_a_SAME_DAY_Latest.pdf
http://crescentcommittee.ca/wp-content/uploads/sighting-the-crescent-mufti-rafi-usmani-english-mathabah.pdf
http://returnofislam.blogspot.com/2011/03/ramadan-unity.html
http://khilafah.com/index.php/multimedia/books/10055-book-all-muslims-are-obliged-to-start-ramadhan-on-the-same-day"
>>একই সময়ে পৃথিবীর সব দেশে মুসলমানদের সব ধর্মীয় উৎসব পালন করার আহ্বান জানিয়েছে একক বিশ্বহিজরী ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখা কমিটি, বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে ১২টি নতুন চাঁদ নিয়ে হিজরীর ১২মাস চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবদ সম্মেলনে সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে এ দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো যেসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- কোরআনের বিধান অনুযায়ী ১২মাসে বছর গণনা ও ২৪ ঘণ্টায় দিনের হিসেব করতে হবে। বিশ্বব্যাপী একক হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক ইসলামিক সম্মেলন সংস্থার কাছে যেসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে ১৯৮৬ সালে প্রদত্ত ইসলামী ফিকাহ অ্যাকাডেমীর সুপারিশ মোতাবেক তৈরী করে বিশ্বহিজরী ক্যালেন্ডার সব ইসলামি দেশে চালু করতে হবে। ওআইসির পরামর্শ মোতাবেক বিশ্বহিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ সরকারের কাছেও সংগঠন দুটি বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে- বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও সৌদি আরবকে অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার যেভাবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খবর সংগ্রহ করে থাকে একইভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকেও চাঁদ দেখার খবর সংগ্রহ করতে হবে।
উক্ত দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের সব মুসলিম উম্মার উন্মুক্ত জাতীয় সংলাপের আয়োজন করতে পারে। মুসলিম উম্মাহ কর্তৃক শরীয়তের বিধান মোতাবেক বিশ্বব্যাপী একই তারিখ ও বারে রোজা ও ঈদসহ অন্যান্য সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- ড. এম শমশের আলী, আলহাজ্ব খাজা শাহ সুফী সৈয়্যেদ নূরে আখতার হোসাইন আহমদীনূরী প্রমুখ। http://www.onbangladesh.org/newsdetail/detail/47/80231?fb_action_ids=10203258820325728&fb_action_types=og.likes&fb_source=feed_opengraph&action_object_map={%2210203258820325728%22%3A891778890848099}&action_type_map={%2210203258820325728%22%3A%22og.likes%22}&action_ref_map=[]


