- বর্তমান বিশ্বের বিশ্ব বরেণ্য আলেম মুফতি তাক্বি উসমানী সাহেব (দাঃবাঃ) লিখেছেন,
“(ফিকাহ শাস্ত্রের ইমাম) ইমাম আবু হানিফা (রঃ) এর মতে চাঁদের উদয়স্হলের ভিন্নতা বিবেচ্য নয়। এর অর্থ হচ্ছে যদি এক এলাকায় চাঁদ দেখা সঠিকভাবে প্রমানিত হয় তবে তা অন্য এলাকার জন্য গ্রহনীয় হবে। এই কারনেই হানাফি ফিকাহবিদগন বলে থাকেন যদি পশ্চিমের অধিবাসীগন নতুন চাঁদ দেখে তবে সেটা পূর্বের অধিবাসীদের জন্যও (চাঁদ দেখার) প্রমান।
হানাফি ফিকাহবিদগনের ‘প্রধানত শক্তিশালী মতামত’ (জাহির রিওয়ায়াত predominantly stronger opinion) একেবারে পরিষ্কার।যদি বিশ্বের যে কোন স্হানে চাঁদ দেখা যায় এবং অন্য যে কোন এলাকায় তা শরীয়তসম্মতভাবে বিশ্বাসযোগ্য হয় তবে এই এলাকার জন্যও চাঁদ দেখা প্রতিষ্ঠিত হবে।”। (তাক্বি উসমানী (দাঃবাঃ) সাহেবের কথা এপর্যন্তই এখানে দেয়া হল) [(ইমামুল বারী শরহে সহীহ বুখারী, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৮৯)] - মুফতি তাক্বি উসমানী সাহেব আরও লিখেছেন,
“মানুষ মনে করে থাকে দূরবর্তী স্হান হলেই চাঁদের উদয়স্হল(horizon) ভিন্ন হয় আর নিকটবর্তী স্হান হলে উদয়স্হল(horizon) একই হয়। কিন্তু এটা সত্য নয়। বাস্তবতা হচ্ছে যারা চাঁদ দেখতে পায় তারা এটা আলোকরশ্মি হিসেবে দেখতে পায়, যারা এই আলোকরশ্মির আওতায় থাকে তারাই এটাকে দেখতে পায়, যারা এই আলোকরশ্মির আওতার বাহিরে থাকে তারা এটাকে দেখতে পায় না। উদাহরন স্বরূপ ধরে নেই চাঁদ উদিত হল এবং একটি টেবিলের উপরিভাগ হচ্ছে এর আলোকরশ্মির সীমা, এই পরিসীমার মধ্যে চাঁদ দেখা যাবে।যদি একজন ব্যক্তি টেবিলের একপ্রান্তে থাকে এবং অপরজন টেবিলের অপর প্রান্তে থাকে তবে তাদের মাঝে হাজার মাইল দূরত্ব হলেও তাদের জন্য উদয়স্হল (horijon) একই। কারন তারা দুইজনই আলোকরশ্মির আওতার মধ্যে এবং উভয়েই চাঁদ দেখতে পাচ্ছে। পক্ষান্তরে আরেকজন ব্যক্তি যদি আলোকরশ্মির আওতার মধ্যে না থাকে তবে সে আলোকরশ্মির আওতার মধ্যে থাকা ব্যক্তির খুব কাছে থাকলেও তার উদয়স্হল (horijon) ভিন্ন। আসুন একটি দৃশ্যমান উদাহরন নেই এটাকে বুঝার জন্য। মনে করুন দারুল ঊলুমের (মাদ্রাসার) বাহিরে একটি উচুঁ পানির ট্যাংকি আছে। যদি আপনি এর চার দিক দিয়ে ঘুরতে থাকেন আর এটাকে দেখতে থাকেন এটা আপনি অনেক দূর থেকে দেখতে পাবেন। (বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর) একটা পর্যায়ে এটা আর দেখা যাবেনা। (যে কোন দিকে যেখানে এটা সর্বশেষ দেখা যায় সেই শেষ প্রান্ত থেকে) বিপরীত দিকে (শেষ প্রান্তে) সেখানেও এই ট্যাংকিটি দেখা যাবে। এই দুই স্হানের দূরত্ব চার বা পাঁচ মাইল হলেও তাদের উদয়স্হল একই। পক্ষান্তরে একটি শেষ প্রান্ত থেকে খুব কাছের কোনো একটি জায়গা যেখান থেকে এটা দেখা যায়না সেই জায়গা( ঐ শেষ প্রান্তের খুব কাছে হওয়া স্বত্তেও) এর উদয়স্হল (horijon) ভিন্ন। সুতরাং উদয় স্হলের ভিন্নতা বা একতা নির্ভর করে দূরত্বের ঊপর নয় বরং দেখা যাওয়ার ঊপর। (তাক্বি উসমানী সাহেবের (দাঃবাঃ) কথা এপর্যন্তই এখানে দেয়া হল)মুফতি তাক্বি উসমানী সাহেব আরও লিখেছেন,
যদি চাঁদের আলোকরশ্মির সীমা প্রতিবার চাঁদ উদয়ের সময় একই থাকত তাহলে এর উপর ভিত্তি করে পৃথিবীকে দুই ভাগে ভাগ করা সম্ভব হত (এভাবে যে) চাঁদ পৃথিবীর এই অংশে দেখা গেছে এবং এই অংশে দেখা যায়নি। তখন পুরো ব্যাপরটি সহজ হতো এটা গবেষণা করে যে এই এলাকাগুলি আলোকরশ্মির সীমার মধ্যে এবং ওই এলাকাগুলি আলোকরশ্মির সীমার মধ্যে নয়। আর তখন আলোকরশ্মির সীমার সকল এলাকাগুলিকে একটি উদয়স্হল (horijon) এবং বাকি অংশকে আলাদা উদয়স্হল (horijon) গণ্য করা হতো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যা ঘটে তা হচ্ছে প্রতিবার চাঁদ উদয়ের সময় এটা পৃথিবীতে নতুন আলোকরশ্মির সীমা তৈরী করে।অর্থাৎ আগের মাসে যে সমস্ত এলাকা আলোকরশ্মির সীমার অন্তর্ভূক্ত ছিল পরবর্তী মাসে তার সবটুকু অন্তর্ভূক্ত থাকেনা নতুন কিছু এলাকা আলোকরশ্মির সীমার অন্তর্ভূক্ত হয়। সুতরাং প্রত্যেক মাসেই আলোকরশ্মির সীমা পরিবর্তিত হয়। সুতরাং এমন কোন সূত্র নেই যা প্রতিষ্ঠিত করবে যে করাচী এবং হায়দারাবাদের উদয়স্হল একই অথবা করাচী ও লাহোরের উদয়স্হল আলাদা। প্রতি মাসেই এটা একটা নতুন অবস্হা। এখন যদি আমরা চাঁদের উদয়স্হলের ভিন্নতা চিন্তা করি তবে এর খুবই সম্ভাবনা রয়েছে যে, চাঁদ কোরাঙ্গি (একটি জায়গার নাম কোরাঙ্গি ) তে দেখা যেতে পারে এবং সদর (কোরাঙ্গি থেকে খুব কাছেই আর একটি জায়গার নাম সদর) এ দেখা নাও যেতে পারে। তখন কোরাঙ্গি ও সদর এর উদয়স্হল ভিন্ন হয়ে যাবে। এই কারনে (এলাকা ভিত্তিক চাঁদ দেখে আলাদা দিনে রোজা শুরু ও আলাদা দিনে ঈদ করার নীতি গ্রহন করলে ) ‘কোরাঙ্গি’ এর চাঁদ দেখা ‘সদর’ এর জন্য গ্রহনযোগ্য হয় না বা বিপরীতভাবে (সদর এর চাঁদ দেখা কোরাঙ্গি এর জন্য গ্রহনযোগ্য হয় না)। (সুতরাং) চাঁদের উদয়স্হলের ভিন্নতা (অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দিনে আমল করার নীতি) কে গ্রহন করলে একই এলাকার সাক্ষ্য একে অপরের জন্য গ্রহনযোগ্য হয় না। এটা পরিষ্কারভাবে রাসূল (সঃ) এর আমল ও নির্দেশের বিপরীত।
আমরা দেখতে পাই আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত একটি হাদিসের ঘটনায়, রসূলুল্লাহ (সঃ) মদীনায় চাঁদ খোঁজ করেছিলেন কিন্তু তিনি এটা দেখতে না পাওয়ার ফলে ঘোষনা করেছিলেন আজ চাঁদ দেখা যায়নি। পরর দিন আছরের পরে একটি কাফেলা এসে পৌঁছাল এবং এই কাফেলার লোকেরা বলল আমরা গতকাল মাগরিবের সময় চাঁদ দেখেছি। তাহলে তারা প্রায় চব্বিশ ঘন্টা অর্থাৎ চাঁদ দেখার পর চব্বিশ ঘন্টা পথ অতিক্রম করেছিল। তাহলে এই ভ্রমন ছিল এক মারহালা এবং এক মারহালা হচ্ছে ষোল থেকে বিশ মাইল। রাসূল (সঃ) এই চাঁদ দেখাকে মদীনার জন্য প্রমান হিসেবে গ্রহন করেছেন। এ থেকে বুঝা যায় চাঁদের উদয়স্হলের ভিন্নতা বিবেচ্য নয় বলে যে মত হানাফি ফিকাহবিদগন দিয়েছেন, তা যথার্থ এবং এটাই ‘প্রধানত শক্তিশালী মতামত’ (জাহির রিওয়ায়াত predominantly stronger opinion)।
নিকটবর্তী ও দূরবর্তী শহর বলে যে পার্থক্য পরবর্তী হানাফি উলামাগন করেছেন তা চাঁদের উদয়স্হলের ভিন্নতার বাস্তবতার বিরুদ্ধে যায় কারন (চাঁদ দেখার ভিত্তিতে) নিকটবর্তী ও দূরবর্তী শহরের প্রকৃত (বা নির্ধারিত) কোন দূরত্ব নাই। সুতরাং হানাফি ফিকাহবিদগনের ‘প্রধানত শক্তিশালী মতামত’ (জাহির রিওয়ায়াত predominantly stronger opinion) হচ্ছে যদি বিশ্বের যে কোন স্হানে চাঁদ দেখা যায় তবে তা বাকি পৃথিবীর জন্যও প্রমান হিসেবে সাব্যস্ত হবে এই শর্তে যে সংবাদ শরীয়তসম্মতভাবে বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। আজ যদি সকল দেশ এই নীতির উপর ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে আর ২৮ ও ৩১ দিনের সুযোগ থাকবে না। এতে বিভিন্ন দেশে (চাঁদ দেখার) সংঘর্ষেরও অবসান হবে”। (তাক্বি উসমানী সাহেবের (দাঃবাঃ) কথা এপর্যন্তই এখানে দেয়া হল) [(ইমাম আল বারী শরহে সহীহ বুখারী, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৮৯ )] - Visit>>>> http://moonsighting.ucoz.com/Global_Moon_Sighting_by_Amir_Hamza_.pdf
বুধবার, ৯ জুলাই, ২০১৪
মুফতি তাক্বি উসমানী পশ্চিমের অধিবাসীগন নতুন চাঁদ দেখে পূর্বের অধিবাসীদের জন্যও
শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০১৪
চাদের খবর শুনেই ঈদ বা সিয়াম দুইটাই ইজতিহাদকৃত
চাঁদ দেখে ঈদ বা সিয়াম আর চাদের খবর শুনেই ঈদ বা সিয়াম দুই বিবাদমান পক্ষ। প্রায় মারামারি। অথচ দুইটাই ইজতিহাদকৃত রায়।
চাদের উদয়স্থলের ভিন্নতা ধর্তব্য নয়,অর্থাৎ চাঁদ যেখানেই উঠবে খবর পাওয়া গেলে ঈদ বা রোযা সারাবিসশেই শুরু হবে। যারা এই রায়ের পক্ষে তারা ইজতিহাদের বাইরে নয়। আহমাদ ইবন হাম্বাল রহ ও তার ফিকহের মুজতাহিদরা উক্ত ফতোয়াই প্রদান করেছেন।
سمعت أحمد، سئل عن حديث كريب، تذهب إليه؟ يعني حديث محمد بن أبي حرملة عن كريب، قدمت يعني من الشام، فسألني ابن عباس، قال : لا، يعني لا أذهب إليه. قال : إذا استبان لهم أنهم رأوه يعني قبل اليوم الذي صاموا قضى يعني ذلك اليوم، يعني هذا الحديث : حدثنا موسى بن إسماعيل ...
অর্থ, আবু দাউদ বলেন, আমি আহমদ রাহ.কে বলতে শুনেছি, তাঁকে কেউ প্রশ্ন করলেন, আপনার মাযহাব কি কুরাইবের হাদীসের অনুযায়ী? অর্থাৎ, ঐ হাদীস যাতে আছে যে, কুরাইব শাম থেকে মদীনায় এলেন তো আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন (তোমরা কবে চাঁদ দেখেছ? ঐ প্রসিদ্ধ হাদীস যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।) আহমদ রাহ. বললেন, না। অর্থাৎ আমার মাযহাব সে অনুযায়ী নয়। আহমদ রাহ. বললেন, যখন (এ এলাকার লোকদের) পরিষ্কার জানা হয়ে যাবে যে, (ঐ এলাকার লোকেরা) এক দিন আগে চাঁদ দেখেছে তখন এদেরকে সেদিনের রোযা কাযা করতে হবে। (এরপর আবু দাউদ রাহ. এ হাদীসের পুরা মতন উল্লেখ করেন।) -মাসাইলু ইমাম আহমদ, আবু দাউদ সিজিস্তানী পৃষ্ঠা : ১২৮, বর্ণনা : ৬১৬
শায়খ ইবনে কুদামা (আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আলমাকদিসী) হাম্বলী রাহ. (৫৪১-৬২০ হি.) ইমাম আহমদ রাহ.-এর শাগরিদদের শাগরিদ আবুল কাসেম উমার ইবনুল হুসাইন আলখিরাকী (৩৩৪ হি.)-এর সংকলিত ‘‘মুখতাসার’’ কিতাবের একটি উৎকৃষ্ট ও বিশদ ভাষ্যগ্রন্থ রচনা করেছেন ‘‘আলমুগনী’’ নামে, যা মাশাআল্লাহ খুবই সমাদৃত। ইবনে কুদামা তাতে লিখেছেন-
وإذا رأى الهلال أهل بلد، لزم جميعَ البلاد الصوم. وهذا قول الليث، وبعض أصحاب الشافعي، وقال بعضهم : إن كان بين البلدين مسافة قريبة لا تختلف المطالع لأجلها كبغداد والبصرة، لزم أهلهما الصوم برؤية الهلال في أحدهما، وإن كان بينهما بعد كالعراق والحجاز والشام، فلكل أهل بلد رؤيتهم ..
অর্থ, কোনো শহরের অধিবাসীরা চাঁদ দেখলে সকল শহরের অধিবাসীদের উপর রোযা অপরিহার্য হয়। এটি (আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ.-এর সাথে) লাইছ রাহ. (১৭৫ হি.)-এরও ‘কওল’। এবং আসহাবুশ শাফেয়ীর কারো কারোর। আর কেউ কেউ বলেছেন, যদি দুই শহরের মাঝে দূরত্ব কম হয়, যার কারণে এদের উদয়স্থল অভিন্ন থাকে, যেমন বসরা ও বাগদাদ তো এদের কোনো শহরে চাঁদ দৃষ্টিগোচর হওয়ার দ্বারা উভয় শহরের অধিবাসীদের রোযা রাখা জরুরি হবে। পক্ষান্তরে দুই শহরের মাঝে দূরত্ব বেশি হলে যেমন, ইরাক, হিজায ও শাম, প্রত্যেক শহরের অধিবাসীদের জন্য নিজেদের চাঁদ দেখা ধর্তব্য হবে। (আলমুগনী, ইবনে কুদামা হাম্বলী রাহ. ৪/৩২৮, দারু আলামিল কুতুব, রিয়ায)
মারদাভী রাহ. লেখেন-
‘‘যাঁরা চাঁদ দেখেছেন তাদের উপর রোযা ফরয হওয়ার বিষয়ে তো কোনো ইখতিলাফ নেই, তবে যে অঞ্চলের লোকেরা দেখেনি-যদি উভয় অঞ্চলের উদয়স্থল এক হয় তাহলে তাদেরকেও রোযা রাখতে হবে। আর উদয়স্থল আলাদা হলেও (হাম্বলী) মাযহাবের সহীহ কওল এই যে, রোযা জরুরি হবে। ‘আলফুরূ’, ‘আলফাইক’ ও ‘আররিয়ায়াহ’ গ্রন্থে এ কওলই আগে লেখা হয়েছে (এ কওলকেই অগ্রগণ্য করা হয়েছে) (তবে) এ কওল (হাম্বলী মাযহাবের) ‘মুফরাদাত’-এর অন্তর্ভুক্ত ...।’ (আলইনসাফ ৩/২৭৩)
আবার, যারা বলে চাদের উদয়স্থলের পার্থক্য ধর্তব্য, তারাও ইজতিহাদ বহির্ভূত নয়। শাফি ফিকাহর প্রায় সব মুজতাহিদ, হানাফি ও মালিকি সকলেই এই মত পোষণ করে
হানাফি আলিম ‘ইমাম হুসামুদ্দীন শহীদ রাহআলফাতাওয়াল কুবরা’র (পৃ. ১৬) ‘‘কিতাবুস সাওমে’র ‘‘আলফাসলুল খামিস’’-এ লেখেন
ولو صام أهل بلدة الرؤية ثلثين يوما وبلدة أخرى تسعة وعشرين يوما فعلم من صام تسعة وعشرين يوما فعليهم قضاء يوم، لأن الذين صاموا ثلثين يوما رأوا هلال رمضان قبلهم بليلة والعمل بقول من رأى لا بقول من لم ير، هذا إذا كان بين البلدتبين تقارب بحيث لا تختلف المطالع، وإن كانت تختلف لا يلزم أهل أحد من البلدتين حكم الآخر.
অর্থ : কোনো শহরের অধিবাসীরা যদি চাঁদ দেখে ত্রিশ দিন রোযা রাখে আর অন্য শহরের অধিবাসীরা উনত্রিশ দিন রোযা রাখে অতপর উনত্রিশ রোযা আদায়কারীগণ তা জানতে পারে তাহলে তাদেরকে একটি রোযা কাযা করতে হবে। কারণ যারা ত্রিশ রোযা রেখেছে তারা একরাত আগে চাঁদ দেখেছে। আর আমল তো তাদের কথা অনুসারেই হওয়া চাই যারা (চাঁদ) দেখেছে। তাদের কথা অনুসারে নয় যারা দেখেনি।
এ (বিধান) ঐ ক্ষেত্রে যখন দুই শহর কাছাকাছি হয়, এদের উদয়স্থল আলাদা না হয়। উদয়স্থল আলাদা হলে কোনো শহরের বিধান অন্য শহরের জন্য অবশ্যঅনুসরণীয় হবে না। (আলফাতাওয়াল কুবরা পৃ. ১৬, মাখতুতা মাকতাবায়ে রেযা, রামপুর, হিন্দুস্তান)
হানফি আলিম ইমাম আব্দুর রশীদ আলওয়ালওয়ালিজী (৪৬৭ হি.-৫৪০ হি.-এর পর)
তিনি ‘আলফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ’ তে আলোচিত মাসআলা লিখে সাথে সাথে তাম্বীহ করেছেন যে,
وهذا إذا كان بين البلدتين تفاوت بحيث لا تختلف المطالع، فإن كانت تختلف لا يلزم أحد البلدين حكم الآخر.
অর্থাৎ, এ বিধান ঐ সময় প্রযোজ্য যখন দুই শহর কাছাকাছি হয় যার কারণে এদের উদয়স্থল আলাদা হয় না। পক্ষান্তরে উদয়স্থল আলাদা হলে এক শহরের হুকুম অন্য শহরের জন্য অবশ্যঅনুসরণীয় হবে না। (আলফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ খ. ১ পৃ.২৩৬, মুদ্রন, দারুল ঈমান, সাহারানপুর, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুতের সংস্করণের ফটো সংস্করণ)
ইমাম রযীউদ্দীন ‘আলমুহীত’ গ্রন্থে ‘নাওয়াদিরে হিশাম’-এর বরাতে উপরোক্ত মাসআলা বর্ণনা করার পর লেখেন-
وهذا إذا كان (بينهما تقارب) بحيث لا يختلف فيه مطلع الهلال، لأن الرؤية لا تفاوت ولا يختلف، فيلزم أحدهما حكم الآخر، وإن كان بينهما مسافة مزيدة بحيث يختلف فيها المطالع لم يلزم أحدهما حكم الآخر.
অর্থাৎ এ বিধান ঐ সময় প্রযোজ্য, যখন দুই শহর কাছাকাছি হয়, যদ্বারা চাঁদের উদয়স্থল অভিন্ন থাকে। কারণ এ অবস্থায় তো চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে
(বাস্তবের বিচারে) কোনো বিভিন্নতা নেই। তাই এক শহরের বিধান অপর শহরের জন্য প্রযোজ্য হবে। পক্ষান্তরে যদি দুই শহরের মাঝে দূরত্ব বেশি হয় যদ্বারা এদের উদয়স্থল আলাদা হয়ে যায়, তাহলে এক শহরের উপর অন্য শহরের বিধান প্রযোজ্য হবে না। (মুহীতুস সারাখসী পৃ ১৯১-১৯২, মাখতূতা, আহসানুল উলূম, গুলশান ইকবাল, করাচী)
শাফেয়ী মাযহাবের সর্বসম্মত মুখপাত্র ইমাম আবু যাকারিয়া নববী রাহ. (৬৭৬ হি.) ‘‘শরহুল মুহাযযাবে’’ লেখেন-
إذا رأوا الهلال في رمضان في بلد ولم يروه في غيره، فإن تقارب البلدان فحكمهما حكم بلد واحد ويلزم أهل البلد الآخر الصوم بلا خلاف، وإن تباعدا فوجهان مشهوران في الطريقتين :
أصحهما : لا يجب الصوم على أهل البلد الآخر، وبهذا قطع المصنف والشيخ أبو حامد والبَنْدَنِيْجِي وآخرون، وصححه العَبْدَرِي والرافعي والأكثرون.
والثاني : يجب، وبه قال الصيمري، وصححه القاضي أبو الطيب، والدارمي، وأبو علي السِّنْجِي وغيرهم.
অর্থ, এক শহরের লোকেরা রমযানের চাঁদ দেখেছে, অন্য শহরের লোকেরা দেখেনি এক্ষেত্রে শহর দুটি কাছাকাছি হলে তা এক শহরের মতো গণ্য হবে। সুতরাং দ্বিতীয় শহরের অধিবাসীদেরও রোযা রাখা জরুরি হবে। এতে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু যদি দুই শহর পরস্পর দূরবর্তী হয় তাহলে এক্ষেত্রে দুই ‘তরীকায়’ দুটি প্রসিদ্ধ ‘ওয়াজহ’ রয়েছে : অধিকতর শুদ্ধ ‘ওয়াজহ’ এই যে, (এক শহরে চাঁদ দৃষ্টিগোচর হওয়ার কারণে) অন্য শহরের অধিবাসীদের উপর রোযা রাখা জরুরি হবে না। গ্রন্থকার (আবু ইসহাক শীরাজী), শায়খ আবু হামিদ, বান্দানীজী ও অন্যরা নিশ্চিতভাবে এ কথাই বলেছেন। (অর্থাৎ অন্য মতের উল্লেখও করেননি) আবদারি ও রাফেয়ীসহ অধিকাংশ মনীষী একেই সহীহ বলেছেন।
‘দ্বিতীয় ‘ওয়াজহ’ এই যে, রোযা রাখা জরুরি হবে। সাইমারী তা বলেছেন এবং কাযী আবুত তাইয়্যেব, দারিমী ও আবু আলী ছিনজী প্রমুখ একে সহীহ বলেছেন। (আলমাজমূ শরহুল মুহাযযাব ৭/৪২৭, দারুল হাদীস, কাহেরা)
ইমাম নববী রাহ. এখানে শুধু الأكثر নয়; বরং বহুবচন الأكثرون ব্যবহার করেছেন। এ থেকে অনুমান করা যায়, কী বিপুলসংখ্যক শাফেয়ী ফকীহ ঐ সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেছেন। ‘আলমাজমূ’-এর পূর্ণ আলোচনা, যা এখানে নকল করা হয়নি এবং ফিকহে শাফেয়ীর অন্যান্য কিতাব থেকে এ আলোচনা আদ্যোপান্ত পড়া হলে দেখা যাবে, শাফেয়ী মাযহাবের উভয় ঘরানা ‘ইরাকী তরীকা’ ও ‘খুরাসানী তরীকা’র অধিকাংশ ফকীহ এ মতই গ্রহণ করেছেন। আর উভয় ঘরানার শায়খ (প্রধান) আবু হামিদ আসফারাইনী রাহ ও কাফফাল মারওয়াযী রাহ.-এর অবস্থানও তাই।
মালেকি ইমাম আবু উমার ইবনে আবদিল বার মালেকী রাহ. (৪৬৩ হি.) ‘‘আলইসতিযকার’’ গ্রন্থে ইমাম মালেক রাহ.-এর মিসরী শাগরিদ ও মাদানী শাগরিদগণের বর্ণনা ও অন্যান্য ফকীহগণের মাযহাব বর্ণনার পর লেখেন-
2. وأجمعوا أنه لا تُراعى الرؤية فيما أخر من البلدان كالاندلس من خراسان.
অর্থাৎ তাঁরা সবাই এ বিষয়ে একমত যে, যে সকল শহর পরস্পর অনেক বেশি দূরে অবস্থিত যেমন আন্দালুস থেকে খোরাসান, সেখানে এক জায়গার চাঁদ দেখা অন্য জায়গায় প্রযোজ্য হবে না। (আলইসতিযকার শরহুল মুয়াত্তা ১০/৩০)
ইমাম আবুল ওয়ালীদ ইবনে রুশদ (৫২০-৫৯৫ হি.)ও ‘‘বিদায়াতুল মুজতাহিদ’’ গ্রন্থে ইমাম মালিক রাহ.-এর মিসরী শাগরিদ ও মাদানী শাগরিদদের বর্ণনা উল্লেখ করার পর লেখেন-
وأجمعوا أنه لا يُراعى ذلك في البلدان النائية، كالأندلس والحجاز.
এবং সবাই এ বিষয়ে একমত যে, অনেক দূরের শহরসমূহে যেমন আন্দালুস ও হিজাযে এক অঞ্চলের চাঁদ দেখা অন্য অঞ্চলে ধর্তব্য হবে না। (বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/৩৫৮, দারুল আকীদা, কাহেরা)
সুতরাং এই বিষয়ে দুইরকম ইজতিহাদই পাওয়া যায়, তাই এই বিষয়কে কোন্দলের কারন না বানাই। যে যেই ইজতিহাদ মানি তার উপর আমল করি।
সারা বিশ্বব্যাপী একই দিনে সাওম শুরু করার বিষয়টা বোঝার জন্যে বড় আলেম বা কোরআন-হাদিসে পিএইচডি নেওয়ার দরকার নেই।খুব সহজ একটা বিষয়,শুধু একটু সময় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।
ধরুন,নীলফামারীতে চাঁদ দেখা গিয়েছে কিন্তু দেশের অন্য কোথাও কোন চাঁদ দেখা যায়নি।নীলফামারীর এই চাঁদ দেখার খবরটা যখন টিভির মাধ্যমে আমরা জানতে পারি তখন নিজেরা চাঁদ না দেখেও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই রোজা পালন করি।তাহলে সৌদি আরব বা মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো চাঁদ দেখার খবর শুনে আমাদের রোজা রাখতে সমস্যা কোথায়?
অনেকে হয়তো বলবেন যে সৌদির সাথে আমাদের সময়ের পার্থক্য ৩ ঘন্টা!তাই এক সাথে রোজা রাখা যাবে না।ভাই,৩ ঘন্টা সময় পার্থক্য,এক দিন বা ২৪ ঘন্টা না।আর তাছাড়া,বাংলাদেশের মধ্যেই নীলফামারী,রাজশাহী,চাপাইনবাবগন্ জের সাথে কক্সবাজার,খাগড়াছড়ি,রাঙামাটির
১৫ মিনিট সময়ের পার্থক্য!তারপরেও কিন্তু আমরা একই দিনে রোজা রাখি।চাঁদ না
দেখেও রোজা রাখি।শুধুমাত্র একটা বিশ্বস্থ সূত্র থেকে চাঁদ দেখতে পাওয়ার
ঘোষণার মাধ্যমে।
তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সাথে একই দিনে রোজা থাকার তো কথা না।
এবার বিষয়টা গভীরভাবে ভাবুন…এবং রাসূল (সাঃ) এর হাদিসগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখুন।
#####
ওহ আপচুস!!!!
তাদের জন্য যারা একটা ফরজ রোজা রাখেনা,
যারা ঈদের দিন রোজা রাখে অথচ ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম,
এবং তাদের জন্য যাদের চিন্তা এখনো জাতীয়তাবাদী গণ্ডির ভিতরে সীমাবোধ্য।
কারন-----
মুসলীম উম্মাহর ঐক্য এবং সারা বিশ্বে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন!!!
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুনাময় আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি……
আমরা যারা বাংলাদেশ নামক মনুষ্য সৃষ্ট বাউন্ডারীর ভেতর বাস করছি তারা জন্মেরপর থেকেই দেখে আসছি যে এখানে রোজা,ঈদ সব কিছুই সৌদি আরব বা মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোরএকদিন পড়ে করা হয়।কারণ হিসেবে বলা হয় যে তারা একদিন আগে চাঁদ দেখতে পায় তাই তারা একদিনআগেই রোজা,ঈদ পালন করে।আর যেহেতু আমরা একদিন পড়ে চাঁদ দেখতে পাই তাই আমরা রোজা,ঈদ একদিনপরে পালন করি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে,কেন চাঁদ একদিন পড়ে দেখা যায়?চাঁদ একদিন পরে দেখা যায় এই দোহাইদিয়ে কি রোজা,ঈদ ভিন্ন ভিন্ন দিন পালন করাটার কোন শরীয়্যাহগত অনুমোদন আছে??যদি না থাকেতাহলে সারা বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা,ঈদ পালন করার উপায় কি??? সারা বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা,ঈদপালন করা সম্ভব কি???
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনাতে ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯২৪ সালে খিলাফতধ্বংসের আগ পর্যন্ত এইরকম চাঁদ দেখা কেন্দ্রীক বা চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে আমলসমূহনিয়ে কোন ঝামেলা ছিল না।১৯২৪ সালে মুসলিমদের ঐক্য মানে খিলাফত ব্যাবস্থা ধ্বংসের পরেসমগ্র মুসলিম বিশ্ব ৫৭ টার বেশি রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়।ঐক্যবদ্ধ খিলাফত রাষ্ট্রের মাঝেমানুষ নিজেই সীমানা নির্ধারণ করে ৫৭+ রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়।যার ফলে দেখ যায় সমস্যা।এইচাঁদ কেন্দ্রীক ঝামেলাও এটারই ফল।
রোজা-ঈদ চাঁদ দেখে পালন করার পক্ষে দলিল কি??
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
“তোমরা চাঁদ দেখে সাওম রাখ এবং চাঁদ দেখে সাওম ভাঙ্গ”
[বুখারী -৯০৯,মুসলিম-২৫৬৭,তিরমিজি-৬৮৪]
“তোমরা যখন চাঁদ দেখবে তখন সাওম রাখবে এবং আবার চাঁদ দেখবে তখন সাওম ভাঙ্গবে(ঈদ করবে), যদি মেঘাচ্ছন্নের কারনে চাঁদ না দেখা যায় তাহলে ৩০ দিন পুর্ন করো।“
[বুখারী-১৯০০,মুসলিম-২৫৫৬]
উপরোক্ত হাদিসগুলো থেকে এটা পরিষ্কার যে রোজার শুরু এবংশেষ মানে ঈদ চাঁদ দেখেই হবে।
চাঁদ কেন ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন দিনে দেখা যায়??
বিজ্ঞানের কল্যানে আমরা জানি যে চাঁদ কেবল রাতেই ওঠেনা বরং দিনেও ওঠে। প্রথম তারিখের চাঁদ সর্বপশ্চিমে উঠে সূর্যাস্তের ৪৯ মিনিট পরে চাঁদ অস্ত যায়। এই ৪৯ মিনিট কৌণিক ভাবে সূর্যের আলো চাঁদের ভূপৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয় তাই চাঁদের যে অংশে আলো পড়ে তার সামান্য অংশ আমাদের চোখের সামনে ধরা পড়ে। তখন আরবি মাসের নতুন চাঁদ আমরা সূর্যাস্তের পরপরই সন্ধায় দেখি যার স্থায়িত্বকাল হয় মাত্র ৪৯ মিনিট। অর্থাৎ নতুন চাঁদ সূর্যাস্তের পর ৪৯ মিনিট দেখা যায় এরপরে তা পশ্চিমা দেশ থেকে ধীরে ধীরে সরে যায় এক সময় অদৃশ্য হয়ে যায়।
দ্বিতীয় দিন আবার চাঁদ ও সূর্যের গতিভেদে তারা পরদিন ৪৯ মিনিট পর মিলিত হয় ফলে পরদিন চাঁদ দেখা যাবে ৪৯+৪৯=৯৮ মিনিট। এবং চাঁদের উদয়স্থান পরিবর্তন হয়ে যায়। এভাবে প্রতিদিন চাঁদের স্থায়িত্বকাল ৪৯ মিনিট করে বাড়তেই থাকে এবং ২৯ দিন চাঁদকে ২৯ স্থানে উদয় হতে দেখা যায়।
চাঁদের এই উদয়স্থলের ভিন্নতার কারণে পৃথিবীর সকল স্থানের মানুষ একই সাথে,একই দিনে চাঁদ দেখতে পায় না।
চাঁদের উদয়স্থলের ভিন্নতার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দিনে রোজা-ঈদপালন করা কি শরীয়্যাহ সম্মত???
“তোমরা চাঁদ দেখে সাওম রাখ এবং চাঁদ দেখে সাওম ভাঙ্গ”-এই হাদিসের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন দিন রোজা-ঈদ পালন করে থাকে।
কিছু প্রশ্ন,এখানে তোমরা বলতে রাসূল কাদেরকেবুঝিয়েছেন?তৎকালীন মক্কা-মদীনাবাসীকে?নাকি সাহাবী (রা)দের কে??নাকি রাসূল (সা)এর সকলউম্মতকে??
এখানে ‘তোমরা’ শব্দটি আম বাসাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ‘তোমরা’দ্বারা সকল উম্মতে মুহম্মদীকেবোঝানো হয়েছে।এখানে ‘আরবের তোমরা’, ‘বাংলাদেশের তোমরা’ বা ‘পাকিস্তানের তোমরা’ এভাবে ভাগ ভাগ করে নিশ্চয়ইরাসূল (সাঃ) বলেন নি।কারণ তাহলে এটা তখন জাতীয়তাবাদ বা আসাবিয়্যা হয়ে যেত।যেখানে রাসূল (সাঃ) নিজে বলেছেন,
“যে ব্যক্তি জাতীয়তাবাদের দিকে আহবান করে সে আমারউম্মতের অন্তর্ভুক্ত না।”
এখন প্রশ্ন হল,এই চাঁদ দেখা কি সকলের জন্যফরয?রোজা রাখতে বা ঈদ উৎযাপন করতে হলে কি সকলকে চাঁদ দেখতেই হবে?নাকি উম্মতের কিছুঅংশ চাঁদ দেখলেই চলবে?
এক্ষেত্রে সকল আলেম-উলামাগণ একমত প্রকাশ করেছেন যেসবাইকে রোজা বা ঈদ পালনের জন্য চাঁদ দেখা বাধ্যবাধক না।কারণ এমন কোন হাদিস নেইযেখানে রাসূল (সাঃ) চাঁদ দেখাকে বাধ্যবাধক বলেছেন।তাই কিছু সংখ্যক লোক চাঁদ দেখলেইহবে।সবাইকে চাঁদ দেখার প্রয়োজন নেই।
হাদিসে আছে,আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
“একবার কিছু সংখ্যক লোক (রমজানের) নতুন চাঁদ দেখল।আমিরাসূলুল্লাহকে (সাঃ) সংবাদ দিলাম যে আমি নিজেও উক্ত চাঁদ দেখেছি।ফলে রাসূলুল্লাহ(সাঃ) নিজে রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রাখার নির্দেশ দিলেন।“
[আবু দাউদঃ২৩৪৪,তিরমিজিঃ৭৫৩,বায়হাকীঃ ৮২৩৫]
উপরোক্ত হাদিস থেকে এটা পরিস্কার হয় যে রোজা রাখাবা ঈদ পালনের জন্য সবাইকে চাঁদ দেখার প্রয়োজন নেই।
এবার একটু খেয়াল করে দেখুন,যারা বলেন যে এক দেশের চাঁদঅন্য দেশের উপর প্রযোয্য হবে না এবং ঐ দেশে চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোজা বা ঈদ পালনকরা যাবে না (কারণ হিসবে রাসুল (সাঃ) এর তোমরা চাঁদ দেখে সাওম রাখ এবং চাঁদ দেখে সাওম ভাঙ্গ”হাদিসকে ব্যবহার করেন)তারা কিঠিক বুজেছেন???উপরের হাদিসে তো আমরা রাসূলকে (সাঃ) চাঁদ না দেখেই রোজা রাখতেদেখলাম।এবার হয়তো তারা বলবেন যে একই এলাকার বা দেশের হলেনা দেখলেও সমস্যা নেই।তবে ভিন্ন এলাকার হলে অন্যের চাঁদ দেখা গ্রহনযোগ্য হবেনা!!!!
নিচের হাদিস দুটো খেয়াল করুন।
১. একবার সাহাবীগণ রমজানের চাঁদ দেখা নিয়ে সন্দিহানহয়ে পড়েন।তারা তারাবিহ নামাজ না পড়ার এবং পরদিন রোজা না রাখার ইচ্ছা পোষণ করেন।এমতাবস্থায়‘হাররা’ নামক স্থান থেকে জনৈক বেদুইন এসে সাক্ষ্য দেয় যে সে চাঁদ দেখেছে।তখন তাকে রাসুল(সাঃ) এর দরবারে নিয়ে আসা হয়।রাসূল (সাঃ) তাকে জজ্ঞেস করেন,তুমি কি সাক্ষ্য দাও যেআল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই?সে বলল,হ্যা।রাসুল (সাঃ) তাকে আবার জিজ্ঞেস করেন,তুমি কিসাক্ষ্য দাও যে,আমি আল্লাহর রাসূল?সে বলল,হ্যা এবং আমি আরও সাক্ষ্য দেই যে আমি নতুনচাঁদ দেখেছি।অতঃপর রাসূল (সাঃ) হযরত বেলাল (রাঃ) কে নির্দেশ দিলেন,লোকদেরকে জানিয়েদেওয়ার জন্য যাতে তারা তারাবিহ পড়ে এবং রোজা রাখে।”
[আবু দাউদঃ২৩৪২,তিরমিযীঃ৬৯১,নাসাঈঃ২১ ১২,বায়হাকীঃ৮২৩০]
২. একবার লোকেরা রমজানের শেষে শাওয়ালের চাঁদ দেখা নিয়েমতভেদ করেন।তখন দুজন বেদুইন রাসূল (সাঃ) এর কাছে আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য প্রদান করেনযে,গতকাল সন্ধ্যায় তারা শাওয়ালের চাঁদ দেখেছে।তখন রাসূল (সাঃ) লোকদেরকে রোজা ভাঙ্গারনির্দেশ দেন।রাবী খালফ তার হাদিসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে,রাসূল (সাঃ) আরও বলেন যে,লোকেরাযেন আগামীকাল ঈদগাহে আসে।”
[আবু দাউদঃ২৩৪১]
হাদিস দুটো থেকে দেখতে পেলাম মদীনার বাইরে থ্যেকে আগতব্যক্তিদের কথার উপর ভিত্তি করে রাসূল (সাঃ) রোজা এবং ঈদ পালন করার হুকুম দিয়েছেন।
এর থেকে সহজেই বোঝা যায় রমজানেরবা শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ (হিলাল) দেখার সংবাদ পাওয়ার জন্য একই এলাকার লোক হওয়ারদরকার নেই।বা সংবাদটা কত দূর থেকে এসেছে সেটাও বিবেচ্য কোন বিষয় নয়।এখানে সংবাদগ্রহণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হল সংবাদটি বিশ্বস্ত কিনা,সংবাদদাতা মুসলিম এবংবিশ্বস্ত কিনা।
দেশের ক্ষেত্রে বিষয় হল,এটা মানুষ কর্তৃক প্রদত্তসীমারেখা।ইসলামে এরকম সীমারেখার কোন মূল্য নেই।কারণ সমগ্র পৃথিবীটাই আল্লাহসুবহানু ওয়া তায়ালার।তাই ইসলামের সকল বিধিবিধান সকল জায়গায় সমভাবে প্রদত্ত হবে। আররাসূল (সাঃ) সকলের জন্য,তাই তার হুকুম সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।রাসূল (সাঃ) কখনোচাঁদ দেখার ভিত্তিতে আলাদা আলাদাভাবে রোজা-ঈদ পালন করার হুকুম দেন নি।বরং হাদিসেআমরা দেখতে পাই যে তিনি নিজে চাঁদ না দেখেও অন্য এলাকার মানুষের কাছে চাঁদ দেখারসংবাদ শুনে রোজা রেখেছেন,ঈদ পালন করেছেন।
মজার বিষয় হল পাকিস্তানের একাংশে(বেলুচিস্থান)চাঁদ দেখা যায় মধ্য প্রাচ্যে যেদিন দেখ যায় সেদিন।আর আরেকাংশে(ইসলামাবাদ) চাঁদদেখা যায় তার পরের দিন,মানে বাংলাদেশে যেদিন দেখা যায় সেদিন।এখন প্রশ্নহল,পাকিস্তান কি তাহলে দুই দিনে রোজা শুরু করবে বা ঈদ পালন করবে???১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালপর্যন্ত পাকিস্তান-বাংলাদেশ একই দেশ ছিল এবং একই সাথে রোজা-ঈদ পালন করত।এখন যদি চাঁদদেখার ভিত্তিতে পাকিস্তান আগের দিন রোজা-ঈদ পালন করে থাকে তাহলে কোন ভিত্তিতেআমাদের রোজা-ঈদ একদিন পিছিয়ে গেল???সীমানার ভিত্তিতে???
সমগ্রমুসলিম বিশ্বে একই দিনে রোজা-ঈদ সম্ভব????
আমরা আগেই বর্ণনা করেছি যে চাঁদ দেখাটা সবার জন্যফরজ না।বিশ্বস্ত কিছু মুসলিম দেখলেই যথেষ্ট।চাঁদের গতি,প্রকৃতি,আলো বিকিরণ প্রভৃতিবৈশিষ্টের কারণে চাঁদ সর্ব প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে দেখা যায়।তাই আমাদেরকেএমন কোন প্রযুক্তির সহযোগিতা নিতে হবে যার দ্বারা আমরা খুব সহজেই তাদের চাঁদ দেখারখবর সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারি।বর্তমান যুগে ই-মেইলের মাধ্যমে বাফেসবুকের মাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমরা এক অঞ্চলের চাঁদ দেখার খবর পেয়ে খুবসহজেই রোজা রাখা বা না রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারব।
রাসূল (সাঃ) মদীনায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরে রমজানবা শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে দ্রুতগামী ঘোড়া ছিটিয়ে দিতেন যাতে করে যত দূরসম্ভব হয় চাঁদ দেখার খবর পেয়ে রোজা রাখতে পারে বা ঈদ পালন করতে পারে।এরপর উমর(রাঃ) এর সময় থাকে চাঁদের সংবাদ সকল এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য সমুদ্রেরবাতিঘর বা লাইট হাউজের সাহায্য নেওয়া হয়।একটা বাতিঘরে আলো দেখে পরবর্তী বাতিঘরেরআলো জ্বেলে দেওয়া হত।এলো জ্বলা দেখে মানুষ চাঁদ ওঠার বিষয়টি জানতে পারত।এর পরেমানুষকে কামানের গোলার মাধ্যমে চাঁদ দেখার খবর দেওয়া হত।এভাবে চাঁদ ওঠার সংবাদসকলের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে একই দিনে রোজা-ঈদ পালনের জন্য বিভিন্ন পযুক্তিরসহযোগিতা নোয়া হয়েছিল।এবং আস্তে আস্তে প্রযুক্তির উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রযুক্তি আরো উন্নত।এগুলো ব্যবফার করেখুব অল্প সময়েই সমগ্র পৃথিবীকে চাঁদ ওঠার খবর জানিয়ে সকল মুসলিম একই দিনে রোজা-ঈদপালন করা সম্ভব।
যারাবিভিন্ন দিনে রোজা-ঈদ পালনের অনুমতি দেন তাদের কাছে কছু প্রশ্ন......
প্রশ্ন ১. রমযান মাসে শয়তানকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। বাংলাদেশে যেহেতু একদিন পর রোযা হয়, এর মানে কি এই,বাংলাদেশের শয়তানগুলো ছাড়া থাকে, আর মধ্যপ্রাচ্যের শয়তানগুলো বাঁধা থাকে??
প্রশ্ন ২. লাইলাতুল কদর সারা বিশ্বের জন্য এক রাতেই হয়ে থাকে, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য লাইলতুল কদর কি ভিন্ন দিনে হবে??
প্রশ্ন ৩. আমরা জানি ১০ই মুহাররম কিয়ামত হবে, বাংলাদেশে যেহেতু তারিখটা একদিন পরে আসে, তারমানে কি আমরা টিভিতে মধ্যপ্রচ্যের কিয়ামত দেখে তওবা করে অপেক্ষা করব???
প্রশ্ন ৪. আরাফার দিন হল ৯জিলহজ্জ।রাসূল (সাঃ) এদিন রোজা রাখতে বলেছেন।এখন টেলিভিশনের কল্যাণে আমরাহাজীদেরকে ৯ তারিখে আরাফার ময়দানে দেখতে পাই।কিন্তু বাংলাদেশে ঐদিন ৮জিলহজ্জ।তাহলে কোনদিন রোজা রাখবো??
উত্তরগুলোদিলে খুশি হব...
ফিকহেরবক্তব্যঃ
হানাফি ফিকহঃ
“যদি পাশ্চাত্যবাসী রমজানের চাঁদ দেখে তবে সেদেখার ভিত্তিতে প্রাচ্যবাসীর জন্যও সাওম ওয়াজীব হয়ে যাবে।”
[ফতওয়া-ই-আলমগীর]
“যখন কোন শহরে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হবে,তখন সকলমানুষের উপর সাওম রাখা ফরজ হবে।ফিকহের প্রতিষ্ঠিত মাযহাব অনুযায়ী পাশ্চাত্যবাসীর চাঁদ দেখার দ্বারা প্রাচ্যবাসীর সাওম ফরজ হবে।”
[ফতহুল কাদীর]
“চাঁদের উদয়স্থলের ভিন্নতা গ্রহণীয় নয়।যখন এক দেশেরমানুষ চাঁদ দেখবে তখন অন্য দেশের মানুষের উপর সাওম ফরজ হয়ে যায় যদিও তারা চাঁদ দেখেনি।যদিতাদের নিকট গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌছে যায়।অতএব পাশ্চাত্যবাসীর চাঁদদেখার দ্বারা প্রাচ্যবাসীর সাওম রাখা অত্যাবশ্যকীয় হবে।”
[আল বাহরুর রায়েক]
মালেকী ফিকহঃ
“কোন এক দেশের মানুষ চাঁদ দেখলে সকল দেশের মানুষেরজন্য সাওম রাখা জরুরী হয়ে যায়।”
[আল-মুগনী]
OIC কর্তৃক একই দিনে রোজা-ঈদ পালনের সুপারিশঃ
১৯৮৬ সালে জরডানে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে শতাধিক শরীয়্যাহ বিশেষজ্ঞের সর্ব সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয় যে,"কোন এক দেশে চাঁদ দেখা গেলে সকল মুসলিমকে ঐ দেখার ভিত্তিতে আমল করতে হবে।"
ওয়াইসি কর্তৃক একই দিনে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আমল করার শুপারিশ
আল্লাহ আমাদের সকলকে একই দিনে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আমল করার গুরুত্ব বোঝার তৌফিক দিন এবং আমাদের ঐক্যকে আরও মজবুত করুন।
আমীন।
চাদের উদয়স্থলের ভিন্নতা ধর্তব্য নয়,অর্থাৎ চাঁদ যেখানেই উঠবে খবর পাওয়া গেলে ঈদ বা রোযা সারাবিসশেই শুরু হবে। যারা এই রায়ের পক্ষে তারা ইজতিহাদের বাইরে নয়। আহমাদ ইবন হাম্বাল রহ ও তার ফিকহের মুজতাহিদরা উক্ত ফতোয়াই প্রদান করেছেন।
سمعت أحمد، سئل عن حديث كريب، تذهب إليه؟ يعني حديث محمد بن أبي حرملة عن كريب، قدمت يعني من الشام، فسألني ابن عباس، قال : لا، يعني لا أذهب إليه. قال : إذا استبان لهم أنهم رأوه يعني قبل اليوم الذي صاموا قضى يعني ذلك اليوم، يعني هذا الحديث : حدثنا موسى بن إسماعيل ...
অর্থ, আবু দাউদ বলেন, আমি আহমদ রাহ.কে বলতে শুনেছি, তাঁকে কেউ প্রশ্ন করলেন, আপনার মাযহাব কি কুরাইবের হাদীসের অনুযায়ী? অর্থাৎ, ঐ হাদীস যাতে আছে যে, কুরাইব শাম থেকে মদীনায় এলেন তো আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন (তোমরা কবে চাঁদ দেখেছ? ঐ প্রসিদ্ধ হাদীস যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।) আহমদ রাহ. বললেন, না। অর্থাৎ আমার মাযহাব সে অনুযায়ী নয়। আহমদ রাহ. বললেন, যখন (এ এলাকার লোকদের) পরিষ্কার জানা হয়ে যাবে যে, (ঐ এলাকার লোকেরা) এক দিন আগে চাঁদ দেখেছে তখন এদেরকে সেদিনের রোযা কাযা করতে হবে। (এরপর আবু দাউদ রাহ. এ হাদীসের পুরা মতন উল্লেখ করেন।) -মাসাইলু ইমাম আহমদ, আবু দাউদ সিজিস্তানী পৃষ্ঠা : ১২৮, বর্ণনা : ৬১৬
শায়খ ইবনে কুদামা (আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আলমাকদিসী) হাম্বলী রাহ. (৫৪১-৬২০ হি.) ইমাম আহমদ রাহ.-এর শাগরিদদের শাগরিদ আবুল কাসেম উমার ইবনুল হুসাইন আলখিরাকী (৩৩৪ হি.)-এর সংকলিত ‘‘মুখতাসার’’ কিতাবের একটি উৎকৃষ্ট ও বিশদ ভাষ্যগ্রন্থ রচনা করেছেন ‘‘আলমুগনী’’ নামে, যা মাশাআল্লাহ খুবই সমাদৃত। ইবনে কুদামা তাতে লিখেছেন-
وإذا رأى الهلال أهل بلد، لزم جميعَ البلاد الصوم. وهذا قول الليث، وبعض أصحاب الشافعي، وقال بعضهم : إن كان بين البلدين مسافة قريبة لا تختلف المطالع لأجلها كبغداد والبصرة، لزم أهلهما الصوم برؤية الهلال في أحدهما، وإن كان بينهما بعد كالعراق والحجاز والشام، فلكل أهل بلد رؤيتهم ..
অর্থ, কোনো শহরের অধিবাসীরা চাঁদ দেখলে সকল শহরের অধিবাসীদের উপর রোযা অপরিহার্য হয়। এটি (আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ.-এর সাথে) লাইছ রাহ. (১৭৫ হি.)-এরও ‘কওল’। এবং আসহাবুশ শাফেয়ীর কারো কারোর। আর কেউ কেউ বলেছেন, যদি দুই শহরের মাঝে দূরত্ব কম হয়, যার কারণে এদের উদয়স্থল অভিন্ন থাকে, যেমন বসরা ও বাগদাদ তো এদের কোনো শহরে চাঁদ দৃষ্টিগোচর হওয়ার দ্বারা উভয় শহরের অধিবাসীদের রোযা রাখা জরুরি হবে। পক্ষান্তরে দুই শহরের মাঝে দূরত্ব বেশি হলে যেমন, ইরাক, হিজায ও শাম, প্রত্যেক শহরের অধিবাসীদের জন্য নিজেদের চাঁদ দেখা ধর্তব্য হবে। (আলমুগনী, ইবনে কুদামা হাম্বলী রাহ. ৪/৩২৮, দারু আলামিল কুতুব, রিয়ায)
মারদাভী রাহ. লেখেন-
‘‘যাঁরা চাঁদ দেখেছেন তাদের উপর রোযা ফরয হওয়ার বিষয়ে তো কোনো ইখতিলাফ নেই, তবে যে অঞ্চলের লোকেরা দেখেনি-যদি উভয় অঞ্চলের উদয়স্থল এক হয় তাহলে তাদেরকেও রোযা রাখতে হবে। আর উদয়স্থল আলাদা হলেও (হাম্বলী) মাযহাবের সহীহ কওল এই যে, রোযা জরুরি হবে। ‘আলফুরূ’, ‘আলফাইক’ ও ‘আররিয়ায়াহ’ গ্রন্থে এ কওলই আগে লেখা হয়েছে (এ কওলকেই অগ্রগণ্য করা হয়েছে) (তবে) এ কওল (হাম্বলী মাযহাবের) ‘মুফরাদাত’-এর অন্তর্ভুক্ত ...।’ (আলইনসাফ ৩/২৭৩)
আবার, যারা বলে চাদের উদয়স্থলের পার্থক্য ধর্তব্য, তারাও ইজতিহাদ বহির্ভূত নয়। শাফি ফিকাহর প্রায় সব মুজতাহিদ, হানাফি ও মালিকি সকলেই এই মত পোষণ করে
হানাফি আলিম ‘ইমাম হুসামুদ্দীন শহীদ রাহআলফাতাওয়াল কুবরা’র (পৃ. ১৬) ‘‘কিতাবুস সাওমে’র ‘‘আলফাসলুল খামিস’’-এ লেখেন
ولو صام أهل بلدة الرؤية ثلثين يوما وبلدة أخرى تسعة وعشرين يوما فعلم من صام تسعة وعشرين يوما فعليهم قضاء يوم، لأن الذين صاموا ثلثين يوما رأوا هلال رمضان قبلهم بليلة والعمل بقول من رأى لا بقول من لم ير، هذا إذا كان بين البلدتبين تقارب بحيث لا تختلف المطالع، وإن كانت تختلف لا يلزم أهل أحد من البلدتين حكم الآخر.
অর্থ : কোনো শহরের অধিবাসীরা যদি চাঁদ দেখে ত্রিশ দিন রোযা রাখে আর অন্য শহরের অধিবাসীরা উনত্রিশ দিন রোযা রাখে অতপর উনত্রিশ রোযা আদায়কারীগণ তা জানতে পারে তাহলে তাদেরকে একটি রোযা কাযা করতে হবে। কারণ যারা ত্রিশ রোযা রেখেছে তারা একরাত আগে চাঁদ দেখেছে। আর আমল তো তাদের কথা অনুসারেই হওয়া চাই যারা (চাঁদ) দেখেছে। তাদের কথা অনুসারে নয় যারা দেখেনি।
এ (বিধান) ঐ ক্ষেত্রে যখন দুই শহর কাছাকাছি হয়, এদের উদয়স্থল আলাদা না হয়। উদয়স্থল আলাদা হলে কোনো শহরের বিধান অন্য শহরের জন্য অবশ্যঅনুসরণীয় হবে না। (আলফাতাওয়াল কুবরা পৃ. ১৬, মাখতুতা মাকতাবায়ে রেযা, রামপুর, হিন্দুস্তান)
হানফি আলিম ইমাম আব্দুর রশীদ আলওয়ালওয়ালিজী (৪৬৭ হি.-৫৪০ হি.-এর পর)
তিনি ‘আলফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ’ তে আলোচিত মাসআলা লিখে সাথে সাথে তাম্বীহ করেছেন যে,
وهذا إذا كان بين البلدتين تفاوت بحيث لا تختلف المطالع، فإن كانت تختلف لا يلزم أحد البلدين حكم الآخر.
অর্থাৎ, এ বিধান ঐ সময় প্রযোজ্য যখন দুই শহর কাছাকাছি হয় যার কারণে এদের উদয়স্থল আলাদা হয় না। পক্ষান্তরে উদয়স্থল আলাদা হলে এক শহরের হুকুম অন্য শহরের জন্য অবশ্যঅনুসরণীয় হবে না। (আলফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ খ. ১ পৃ.২৩৬, মুদ্রন, দারুল ঈমান, সাহারানপুর, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুতের সংস্করণের ফটো সংস্করণ)
ইমাম রযীউদ্দীন ‘আলমুহীত’ গ্রন্থে ‘নাওয়াদিরে হিশাম’-এর বরাতে উপরোক্ত মাসআলা বর্ণনা করার পর লেখেন-
وهذا إذا كان (بينهما تقارب) بحيث لا يختلف فيه مطلع الهلال، لأن الرؤية لا تفاوت ولا يختلف، فيلزم أحدهما حكم الآخر، وإن كان بينهما مسافة مزيدة بحيث يختلف فيها المطالع لم يلزم أحدهما حكم الآخر.
অর্থাৎ এ বিধান ঐ সময় প্রযোজ্য, যখন দুই শহর কাছাকাছি হয়, যদ্বারা চাঁদের উদয়স্থল অভিন্ন থাকে। কারণ এ অবস্থায় তো চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে
(বাস্তবের বিচারে) কোনো বিভিন্নতা নেই। তাই এক শহরের বিধান অপর শহরের জন্য প্রযোজ্য হবে। পক্ষান্তরে যদি দুই শহরের মাঝে দূরত্ব বেশি হয় যদ্বারা এদের উদয়স্থল আলাদা হয়ে যায়, তাহলে এক শহরের উপর অন্য শহরের বিধান প্রযোজ্য হবে না। (মুহীতুস সারাখসী পৃ ১৯১-১৯২, মাখতূতা, আহসানুল উলূম, গুলশান ইকবাল, করাচী)
শাফেয়ী মাযহাবের সর্বসম্মত মুখপাত্র ইমাম আবু যাকারিয়া নববী রাহ. (৬৭৬ হি.) ‘‘শরহুল মুহাযযাবে’’ লেখেন-
إذا رأوا الهلال في رمضان في بلد ولم يروه في غيره، فإن تقارب البلدان فحكمهما حكم بلد واحد ويلزم أهل البلد الآخر الصوم بلا خلاف، وإن تباعدا فوجهان مشهوران في الطريقتين :
أصحهما : لا يجب الصوم على أهل البلد الآخر، وبهذا قطع المصنف والشيخ أبو حامد والبَنْدَنِيْجِي وآخرون، وصححه العَبْدَرِي والرافعي والأكثرون.
والثاني : يجب، وبه قال الصيمري، وصححه القاضي أبو الطيب، والدارمي، وأبو علي السِّنْجِي وغيرهم.
অর্থ, এক শহরের লোকেরা রমযানের চাঁদ দেখেছে, অন্য শহরের লোকেরা দেখেনি এক্ষেত্রে শহর দুটি কাছাকাছি হলে তা এক শহরের মতো গণ্য হবে। সুতরাং দ্বিতীয় শহরের অধিবাসীদেরও রোযা রাখা জরুরি হবে। এতে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু যদি দুই শহর পরস্পর দূরবর্তী হয় তাহলে এক্ষেত্রে দুই ‘তরীকায়’ দুটি প্রসিদ্ধ ‘ওয়াজহ’ রয়েছে : অধিকতর শুদ্ধ ‘ওয়াজহ’ এই যে, (এক শহরে চাঁদ দৃষ্টিগোচর হওয়ার কারণে) অন্য শহরের অধিবাসীদের উপর রোযা রাখা জরুরি হবে না। গ্রন্থকার (আবু ইসহাক শীরাজী), শায়খ আবু হামিদ, বান্দানীজী ও অন্যরা নিশ্চিতভাবে এ কথাই বলেছেন। (অর্থাৎ অন্য মতের উল্লেখও করেননি) আবদারি ও রাফেয়ীসহ অধিকাংশ মনীষী একেই সহীহ বলেছেন।
‘দ্বিতীয় ‘ওয়াজহ’ এই যে, রোযা রাখা জরুরি হবে। সাইমারী তা বলেছেন এবং কাযী আবুত তাইয়্যেব, দারিমী ও আবু আলী ছিনজী প্রমুখ একে সহীহ বলেছেন। (আলমাজমূ শরহুল মুহাযযাব ৭/৪২৭, দারুল হাদীস, কাহেরা)
ইমাম নববী রাহ. এখানে শুধু الأكثر নয়; বরং বহুবচন الأكثرون ব্যবহার করেছেন। এ থেকে অনুমান করা যায়, কী বিপুলসংখ্যক শাফেয়ী ফকীহ ঐ সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেছেন। ‘আলমাজমূ’-এর পূর্ণ আলোচনা, যা এখানে নকল করা হয়নি এবং ফিকহে শাফেয়ীর অন্যান্য কিতাব থেকে এ আলোচনা আদ্যোপান্ত পড়া হলে দেখা যাবে, শাফেয়ী মাযহাবের উভয় ঘরানা ‘ইরাকী তরীকা’ ও ‘খুরাসানী তরীকা’র অধিকাংশ ফকীহ এ মতই গ্রহণ করেছেন। আর উভয় ঘরানার শায়খ (প্রধান) আবু হামিদ আসফারাইনী রাহ ও কাফফাল মারওয়াযী রাহ.-এর অবস্থানও তাই।
মালেকি ইমাম আবু উমার ইবনে আবদিল বার মালেকী রাহ. (৪৬৩ হি.) ‘‘আলইসতিযকার’’ গ্রন্থে ইমাম মালেক রাহ.-এর মিসরী শাগরিদ ও মাদানী শাগরিদগণের বর্ণনা ও অন্যান্য ফকীহগণের মাযহাব বর্ণনার পর লেখেন-
2. وأجمعوا أنه لا تُراعى الرؤية فيما أخر من البلدان كالاندلس من خراسان.
অর্থাৎ তাঁরা সবাই এ বিষয়ে একমত যে, যে সকল শহর পরস্পর অনেক বেশি দূরে অবস্থিত যেমন আন্দালুস থেকে খোরাসান, সেখানে এক জায়গার চাঁদ দেখা অন্য জায়গায় প্রযোজ্য হবে না। (আলইসতিযকার শরহুল মুয়াত্তা ১০/৩০)
ইমাম আবুল ওয়ালীদ ইবনে রুশদ (৫২০-৫৯৫ হি.)ও ‘‘বিদায়াতুল মুজতাহিদ’’ গ্রন্থে ইমাম মালিক রাহ.-এর মিসরী শাগরিদ ও মাদানী শাগরিদদের বর্ণনা উল্লেখ করার পর লেখেন-
وأجمعوا أنه لا يُراعى ذلك في البلدان النائية، كالأندلس والحجاز.
এবং সবাই এ বিষয়ে একমত যে, অনেক দূরের শহরসমূহে যেমন আন্দালুস ও হিজাযে এক অঞ্চলের চাঁদ দেখা অন্য অঞ্চলে ধর্তব্য হবে না। (বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/৩৫৮, দারুল আকীদা, কাহেরা)
সুতরাং এই বিষয়ে দুইরকম ইজতিহাদই পাওয়া যায়, তাই এই বিষয়কে কোন্দলের কারন না বানাই। যে যেই ইজতিহাদ মানি তার উপর আমল করি।
সারা বিশ্বব্যাপী একই দিনে সাওম শুরু করার বিষয়টা বোঝার জন্যে বড় আলেম বা কোরআন-হাদিসে পিএইচডি নেওয়ার দরকার নেই।খুব সহজ একটা বিষয়,শুধু একটু সময় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।
ধরুন,নীলফামারীতে চাঁদ দেখা গিয়েছে কিন্তু দেশের অন্য কোথাও কোন চাঁদ দেখা যায়নি।নীলফামারীর এই চাঁদ দেখার খবরটা যখন টিভির মাধ্যমে আমরা জানতে পারি তখন নিজেরা চাঁদ না দেখেও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই রোজা পালন করি।তাহলে সৌদি আরব বা মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলো চাঁদ দেখার খবর শুনে আমাদের রোজা রাখতে সমস্যা কোথায়?
অনেকে হয়তো বলবেন যে সৌদির সাথে আমাদের সময়ের পার্থক্য ৩ ঘন্টা!তাই এক সাথে রোজা রাখা যাবে না।ভাই,৩ ঘন্টা সময় পার্থক্য,এক দিন বা ২৪ ঘন্টা না।আর তাছাড়া,বাংলাদেশের মধ্যেই নীলফামারী,রাজশাহী,চাপাইনবাবগন্
তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সাথে একই দিনে রোজা থাকার তো কথা না।
এবার বিষয়টা গভীরভাবে ভাবুন…এবং রাসূল (সাঃ) এর হাদিসগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখুন।
#####
ওহ আপচুস!!!!
তাদের জন্য যারা একটা ফরজ রোজা রাখেনা,
যারা ঈদের দিন রোজা রাখে অথচ ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম,
এবং তাদের জন্য যাদের চিন্তা এখনো জাতীয়তাবাদী গণ্ডির ভিতরে সীমাবোধ্য।
কারন-----
মুসলীম উম্মাহর ঐক্য এবং সারা বিশ্বে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন!!!
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুনাময় আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি……
আমরা যারা বাংলাদেশ নামক মনুষ্য সৃষ্ট বাউন্ডারীর ভেতর বাস করছি তারা জন্মেরপর থেকেই দেখে আসছি যে এখানে রোজা,ঈদ সব কিছুই সৌদি আরব বা মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোরএকদিন পড়ে করা হয়।কারণ হিসেবে বলা হয় যে তারা একদিন আগে চাঁদ দেখতে পায় তাই তারা একদিনআগেই রোজা,ঈদ পালন করে।আর যেহেতু আমরা একদিন পড়ে চাঁদ দেখতে পাই তাই আমরা রোজা,ঈদ একদিনপরে পালন করি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে,কেন চাঁদ একদিন পড়ে দেখা যায়?চাঁদ একদিন পরে দেখা যায় এই দোহাইদিয়ে কি রোজা,ঈদ ভিন্ন ভিন্ন দিন পালন করাটার কোন শরীয়্যাহগত অনুমোদন আছে??যদি না থাকেতাহলে সারা বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা,ঈদ পালন করার উপায় কি??? সারা বিশ্বব্যাপী একই দিনে রোজা,ঈদপালন করা সম্ভব কি???
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনাতে ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯২৪ সালে খিলাফতধ্বংসের আগ পর্যন্ত এইরকম চাঁদ দেখা কেন্দ্রীক বা চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে আমলসমূহনিয়ে কোন ঝামেলা ছিল না।১৯২৪ সালে মুসলিমদের ঐক্য মানে খিলাফত ব্যাবস্থা ধ্বংসের পরেসমগ্র মুসলিম বিশ্ব ৫৭ টার বেশি রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়।ঐক্যবদ্ধ খিলাফত রাষ্ট্রের মাঝেমানুষ নিজেই সীমানা নির্ধারণ করে ৫৭+ রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়।যার ফলে দেখ যায় সমস্যা।এইচাঁদ কেন্দ্রীক ঝামেলাও এটারই ফল।
রোজা-ঈদ চাঁদ দেখে পালন করার পক্ষে দলিল কি??
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
“তোমরা চাঁদ দেখে সাওম রাখ এবং চাঁদ দেখে সাওম ভাঙ্গ”
[বুখারী -৯০৯,মুসলিম-২৫৬৭,তিরমিজি-৬৮৪]
“তোমরা যখন চাঁদ দেখবে তখন সাওম রাখবে এবং আবার চাঁদ দেখবে তখন সাওম ভাঙ্গবে(ঈদ করবে), যদি মেঘাচ্ছন্নের কারনে চাঁদ না দেখা যায় তাহলে ৩০ দিন পুর্ন করো।“
[বুখারী-১৯০০,মুসলিম-২৫৫৬]
উপরোক্ত হাদিসগুলো থেকে এটা পরিষ্কার যে রোজার শুরু এবংশেষ মানে ঈদ চাঁদ দেখেই হবে।
চাঁদ কেন ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন দিনে দেখা যায়??
বিজ্ঞানের কল্যানে আমরা জানি যে চাঁদ কেবল রাতেই ওঠেনা বরং দিনেও ওঠে। প্রথম তারিখের চাঁদ সর্বপশ্চিমে উঠে সূর্যাস্তের ৪৯ মিনিট পরে চাঁদ অস্ত যায়। এই ৪৯ মিনিট কৌণিক ভাবে সূর্যের আলো চাঁদের ভূপৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয় তাই চাঁদের যে অংশে আলো পড়ে তার সামান্য অংশ আমাদের চোখের সামনে ধরা পড়ে। তখন আরবি মাসের নতুন চাঁদ আমরা সূর্যাস্তের পরপরই সন্ধায় দেখি যার স্থায়িত্বকাল হয় মাত্র ৪৯ মিনিট। অর্থাৎ নতুন চাঁদ সূর্যাস্তের পর ৪৯ মিনিট দেখা যায় এরপরে তা পশ্চিমা দেশ থেকে ধীরে ধীরে সরে যায় এক সময় অদৃশ্য হয়ে যায়।
দ্বিতীয় দিন আবার চাঁদ ও সূর্যের গতিভেদে তারা পরদিন ৪৯ মিনিট পর মিলিত হয় ফলে পরদিন চাঁদ দেখা যাবে ৪৯+৪৯=৯৮ মিনিট। এবং চাঁদের উদয়স্থান পরিবর্তন হয়ে যায়। এভাবে প্রতিদিন চাঁদের স্থায়িত্বকাল ৪৯ মিনিট করে বাড়তেই থাকে এবং ২৯ দিন চাঁদকে ২৯ স্থানে উদয় হতে দেখা যায়।
চাঁদের এই উদয়স্থলের ভিন্নতার কারণে পৃথিবীর সকল স্থানের মানুষ একই সাথে,একই দিনে চাঁদ দেখতে পায় না।
চাঁদের উদয়স্থলের ভিন্নতার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দিনে রোজা-ঈদপালন করা কি শরীয়্যাহ সম্মত???
“তোমরা চাঁদ দেখে সাওম রাখ এবং চাঁদ দেখে সাওম ভাঙ্গ”-এই হাদিসের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন দিন রোজা-ঈদ পালন করে থাকে।
কিছু প্রশ্ন,এখানে তোমরা বলতে রাসূল কাদেরকেবুঝিয়েছেন?তৎকালীন মক্কা-মদীনাবাসীকে?নাকি সাহাবী (রা)দের কে??নাকি রাসূল (সা)এর সকলউম্মতকে??
এখানে ‘তোমরা’ শব্দটি আম বাসাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ‘তোমরা’দ্বারা সকল উম্মতে মুহম্মদীকেবোঝানো হয়েছে।এখানে ‘আরবের তোমরা’, ‘বাংলাদেশের তোমরা’ বা ‘পাকিস্তানের তোমরা’ এভাবে ভাগ ভাগ করে নিশ্চয়ইরাসূল (সাঃ) বলেন নি।কারণ তাহলে এটা তখন জাতীয়তাবাদ বা আসাবিয়্যা হয়ে যেত।যেখানে রাসূল (সাঃ) নিজে বলেছেন,
“যে ব্যক্তি জাতীয়তাবাদের দিকে আহবান করে সে আমারউম্মতের অন্তর্ভুক্ত না।”
এখন প্রশ্ন হল,এই চাঁদ দেখা কি সকলের জন্যফরয?রোজা রাখতে বা ঈদ উৎযাপন করতে হলে কি সকলকে চাঁদ দেখতেই হবে?নাকি উম্মতের কিছুঅংশ চাঁদ দেখলেই চলবে?
এক্ষেত্রে সকল আলেম-উলামাগণ একমত প্রকাশ করেছেন যেসবাইকে রোজা বা ঈদ পালনের জন্য চাঁদ দেখা বাধ্যবাধক না।কারণ এমন কোন হাদিস নেইযেখানে রাসূল (সাঃ) চাঁদ দেখাকে বাধ্যবাধক বলেছেন।তাই কিছু সংখ্যক লোক চাঁদ দেখলেইহবে।সবাইকে চাঁদ দেখার প্রয়োজন নেই।
হাদিসে আছে,আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
“একবার কিছু সংখ্যক লোক (রমজানের) নতুন চাঁদ দেখল।আমিরাসূলুল্লাহকে (সাঃ) সংবাদ দিলাম যে আমি নিজেও উক্ত চাঁদ দেখেছি।ফলে রাসূলুল্লাহ(সাঃ) নিজে রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রাখার নির্দেশ দিলেন।“
[আবু দাউদঃ২৩৪৪,তিরমিজিঃ৭৫৩,বায়হাকীঃ
উপরোক্ত হাদিস থেকে এটা পরিস্কার হয় যে রোজা রাখাবা ঈদ পালনের জন্য সবাইকে চাঁদ দেখার প্রয়োজন নেই।
এবার একটু খেয়াল করে দেখুন,যারা বলেন যে এক দেশের চাঁদঅন্য দেশের উপর প্রযোয্য হবে না এবং ঐ দেশে চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোজা বা ঈদ পালনকরা যাবে না (কারণ হিসবে রাসুল (সাঃ) এর তোমরা চাঁদ দেখে সাওম রাখ এবং চাঁদ দেখে সাওম ভাঙ্গ”হাদিসকে ব্যবহার করেন)তারা কিঠিক বুজেছেন???উপরের হাদিসে তো আমরা রাসূলকে (সাঃ) চাঁদ না দেখেই রোজা রাখতেদেখলাম।এবার হয়তো তারা বলবেন যে একই এলাকার বা দেশের হলেনা দেখলেও সমস্যা নেই।তবে ভিন্ন এলাকার হলে অন্যের চাঁদ দেখা গ্রহনযোগ্য হবেনা!!!!
নিচের হাদিস দুটো খেয়াল করুন।
১. একবার সাহাবীগণ রমজানের চাঁদ দেখা নিয়ে সন্দিহানহয়ে পড়েন।তারা তারাবিহ নামাজ না পড়ার এবং পরদিন রোজা না রাখার ইচ্ছা পোষণ করেন।এমতাবস্থায়‘হাররা’ নামক স্থান থেকে জনৈক বেদুইন এসে সাক্ষ্য দেয় যে সে চাঁদ দেখেছে।তখন তাকে রাসুল(সাঃ) এর দরবারে নিয়ে আসা হয়।রাসূল (সাঃ) তাকে জজ্ঞেস করেন,তুমি কি সাক্ষ্য দাও যেআল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই?সে বলল,হ্যা।রাসুল (সাঃ) তাকে আবার জিজ্ঞেস করেন,তুমি কিসাক্ষ্য দাও যে,আমি আল্লাহর রাসূল?সে বলল,হ্যা এবং আমি আরও সাক্ষ্য দেই যে আমি নতুনচাঁদ দেখেছি।অতঃপর রাসূল (সাঃ) হযরত বেলাল (রাঃ) কে নির্দেশ দিলেন,লোকদেরকে জানিয়েদেওয়ার জন্য যাতে তারা তারাবিহ পড়ে এবং রোজা রাখে।”
[আবু দাউদঃ২৩৪২,তিরমিযীঃ৬৯১,নাসাঈঃ২১
২. একবার লোকেরা রমজানের শেষে শাওয়ালের চাঁদ দেখা নিয়েমতভেদ করেন।তখন দুজন বেদুইন রাসূল (সাঃ) এর কাছে আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য প্রদান করেনযে,গতকাল সন্ধ্যায় তারা শাওয়ালের চাঁদ দেখেছে।তখন রাসূল (সাঃ) লোকদেরকে রোজা ভাঙ্গারনির্দেশ দেন।রাবী খালফ তার হাদিসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে,রাসূল (সাঃ) আরও বলেন যে,লোকেরাযেন আগামীকাল ঈদগাহে আসে।”
[আবু দাউদঃ২৩৪১]
হাদিস দুটো থেকে দেখতে পেলাম মদীনার বাইরে থ্যেকে আগতব্যক্তিদের কথার উপর ভিত্তি করে রাসূল (সাঃ) রোজা এবং ঈদ পালন করার হুকুম দিয়েছেন।
এর থেকে সহজেই বোঝা যায় রমজানেরবা শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ (হিলাল) দেখার সংবাদ পাওয়ার জন্য একই এলাকার লোক হওয়ারদরকার নেই।বা সংবাদটা কত দূর থেকে এসেছে সেটাও বিবেচ্য কোন বিষয় নয়।এখানে সংবাদগ্রহণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হল সংবাদটি বিশ্বস্ত কিনা,সংবাদদাতা মুসলিম এবংবিশ্বস্ত কিনা।
দেশের ক্ষেত্রে বিষয় হল,এটা মানুষ কর্তৃক প্রদত্তসীমারেখা।ইসলামে এরকম সীমারেখার কোন মূল্য নেই।কারণ সমগ্র পৃথিবীটাই আল্লাহসুবহানু ওয়া তায়ালার।তাই ইসলামের সকল বিধিবিধান সকল জায়গায় সমভাবে প্রদত্ত হবে। আররাসূল (সাঃ) সকলের জন্য,তাই তার হুকুম সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।রাসূল (সাঃ) কখনোচাঁদ দেখার ভিত্তিতে আলাদা আলাদাভাবে রোজা-ঈদ পালন করার হুকুম দেন নি।বরং হাদিসেআমরা দেখতে পাই যে তিনি নিজে চাঁদ না দেখেও অন্য এলাকার মানুষের কাছে চাঁদ দেখারসংবাদ শুনে রোজা রেখেছেন,ঈদ পালন করেছেন।
মজার বিষয় হল পাকিস্তানের একাংশে(বেলুচিস্থান)চাঁদ দেখা যায় মধ্য প্রাচ্যে যেদিন দেখ যায় সেদিন।আর আরেকাংশে(ইসলামাবাদ) চাঁদদেখা যায় তার পরের দিন,মানে বাংলাদেশে যেদিন দেখা যায় সেদিন।এখন প্রশ্নহল,পাকিস্তান কি তাহলে দুই দিনে রোজা শুরু করবে বা ঈদ পালন করবে???১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালপর্যন্ত পাকিস্তান-বাংলাদেশ একই দেশ ছিল এবং একই সাথে রোজা-ঈদ পালন করত।এখন যদি চাঁদদেখার ভিত্তিতে পাকিস্তান আগের দিন রোজা-ঈদ পালন করে থাকে তাহলে কোন ভিত্তিতেআমাদের রোজা-ঈদ একদিন পিছিয়ে গেল???সীমানার ভিত্তিতে???
সমগ্রমুসলিম বিশ্বে একই দিনে রোজা-ঈদ সম্ভব????
আমরা আগেই বর্ণনা করেছি যে চাঁদ দেখাটা সবার জন্যফরজ না।বিশ্বস্ত কিছু মুসলিম দেখলেই যথেষ্ট।চাঁদের গতি,প্রকৃতি,আলো বিকিরণ প্রভৃতিবৈশিষ্টের কারণে চাঁদ সর্ব প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে দেখা যায়।তাই আমাদেরকেএমন কোন প্রযুক্তির সহযোগিতা নিতে হবে যার দ্বারা আমরা খুব সহজেই তাদের চাঁদ দেখারখবর সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারি।বর্তমান যুগে ই-মেইলের মাধ্যমে বাফেসবুকের মাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমরা এক অঞ্চলের চাঁদ দেখার খবর পেয়ে খুবসহজেই রোজা রাখা বা না রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারব।
রাসূল (সাঃ) মদীনায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরে রমজানবা শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে দ্রুতগামী ঘোড়া ছিটিয়ে দিতেন যাতে করে যত দূরসম্ভব হয় চাঁদ দেখার খবর পেয়ে রোজা রাখতে পারে বা ঈদ পালন করতে পারে।এরপর উমর(রাঃ) এর সময় থাকে চাঁদের সংবাদ সকল এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য সমুদ্রেরবাতিঘর বা লাইট হাউজের সাহায্য নেওয়া হয়।একটা বাতিঘরে আলো দেখে পরবর্তী বাতিঘরেরআলো জ্বেলে দেওয়া হত।এলো জ্বলা দেখে মানুষ চাঁদ ওঠার বিষয়টি জানতে পারত।এর পরেমানুষকে কামানের গোলার মাধ্যমে চাঁদ দেখার খবর দেওয়া হত।এভাবে চাঁদ ওঠার সংবাদসকলের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে একই দিনে রোজা-ঈদ পালনের জন্য বিভিন্ন পযুক্তিরসহযোগিতা নোয়া হয়েছিল।এবং আস্তে আস্তে প্রযুক্তির উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রযুক্তি আরো উন্নত।এগুলো ব্যবফার করেখুব অল্প সময়েই সমগ্র পৃথিবীকে চাঁদ ওঠার খবর জানিয়ে সকল মুসলিম একই দিনে রোজা-ঈদপালন করা সম্ভব।
যারাবিভিন্ন দিনে রোজা-ঈদ পালনের অনুমতি দেন তাদের কাছে কছু প্রশ্ন......
প্রশ্ন ১. রমযান মাসে শয়তানকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। বাংলাদেশে যেহেতু একদিন পর রোযা হয়, এর মানে কি এই,বাংলাদেশের শয়তানগুলো ছাড়া থাকে, আর মধ্যপ্রাচ্যের শয়তানগুলো বাঁধা থাকে??
প্রশ্ন ২. লাইলাতুল কদর সারা বিশ্বের জন্য এক রাতেই হয়ে থাকে, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য লাইলতুল কদর কি ভিন্ন দিনে হবে??
প্রশ্ন ৩. আমরা জানি ১০ই মুহাররম কিয়ামত হবে, বাংলাদেশে যেহেতু তারিখটা একদিন পরে আসে, তারমানে কি আমরা টিভিতে মধ্যপ্রচ্যের কিয়ামত দেখে তওবা করে অপেক্ষা করব???
প্রশ্ন ৪. আরাফার দিন হল ৯জিলহজ্জ।রাসূল (সাঃ) এদিন রোজা রাখতে বলেছেন।এখন টেলিভিশনের কল্যাণে আমরাহাজীদেরকে ৯ তারিখে আরাফার ময়দানে দেখতে পাই।কিন্তু বাংলাদেশে ঐদিন ৮জিলহজ্জ।তাহলে কোনদিন রোজা রাখবো??
উত্তরগুলোদিলে খুশি হব...
ফিকহেরবক্তব্যঃ
হানাফি ফিকহঃ
“যদি পাশ্চাত্যবাসী রমজানের চাঁদ দেখে তবে সেদেখার ভিত্তিতে প্রাচ্যবাসীর জন্যও সাওম ওয়াজীব হয়ে যাবে।”
[ফতওয়া-ই-আলমগীর]
“যখন কোন শহরে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হবে,তখন সকলমানুষের উপর সাওম রাখা ফরজ হবে।ফিকহের প্রতিষ্ঠিত মাযহাব অনুযায়ী পাশ্চাত্যবাসীর চাঁদ দেখার দ্বারা প্রাচ্যবাসীর সাওম ফরজ হবে।”
[ফতহুল কাদীর]
“চাঁদের উদয়স্থলের ভিন্নতা গ্রহণীয় নয়।যখন এক দেশেরমানুষ চাঁদ দেখবে তখন অন্য দেশের মানুষের উপর সাওম ফরজ হয়ে যায় যদিও তারা চাঁদ দেখেনি।যদিতাদের নিকট গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌছে যায়।অতএব পাশ্চাত্যবাসীর চাঁদদেখার দ্বারা প্রাচ্যবাসীর সাওম রাখা অত্যাবশ্যকীয় হবে।”
[আল বাহরুর রায়েক]
মালেকী ফিকহঃ
“কোন এক দেশের মানুষ চাঁদ দেখলে সকল দেশের মানুষেরজন্য সাওম রাখা জরুরী হয়ে যায়।”
[আল-মুগনী]
OIC কর্তৃক একই দিনে রোজা-ঈদ পালনের সুপারিশঃ
১৯৮৬ সালে জরডানে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে শতাধিক শরীয়্যাহ বিশেষজ্ঞের সর্ব সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয় যে,"কোন এক দেশে চাঁদ দেখা গেলে সকল মুসলিমকে ঐ দেখার ভিত্তিতে আমল করতে হবে।"
ওয়াইসি কর্তৃক একই দিনে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আমল করার শুপারিশ
আল্লাহ আমাদের সকলকে একই দিনে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আমল করার গুরুত্ব বোঝার তৌফিক দিন এবং আমাদের ঐক্যকে আরও মজবুত করুন।
আমীন।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)