মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০১৪

চাঁদ নিয়ে সৌদী কারচুপি !


ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি, সৌদী আরবে সব সময় বাংলাদেশের আগে ঈদ হয়। কিন্তু বাংলাদেশে আগে্ ঈদ হয়েছে, তারপর সৌদীতে ঈদ হয়েছে এমনটা কিন্তু দেখা যায় না।

অথচ বিজ্ঞান কিন্তু এটা সাপোর্ট করে না। বৈজ্ঞানিক সূত্র অনুযায়ি:

১) কখন সৌদীতে আগে ঈদ হতে পারে,
২) কখন বাংলাদেশ-সৌদীতে একই দিনে ঈদ হতে পারে,
৩) কখন বাংলাদেশে আগে ঈদ হতে পারে, পরে সৌদীতে ঈদ হতে পারে।

উল্লেখ্য, অনেকেই মনে করেন, সৌদি আরব আমাদের দেশের পশ্চিমে তাই সেখানে প্রথম চাঁদ দেখা যাবে। আসলে সকল দেশের পশ্চিমেই আরেকটি দেশ আছে। সুতরাং সৌদি আরবেই প্রথম চাঁদ দেখা যাবে ধারনাটি সঠিক নয়। অনেকে সউদী আরবকে পৃথিবীর কেন্দ্র হিসেবে মনে করে নিয়ে ভাবেন চাঁদ হয়তো সেখানেই আগে দেখা যাবে। প্রকৃতপক্ষে চাঁদ দেখার বিষয়টি পৃথিবীর কেন্দ্রের সাথে সম্পর্কিত নয়। চাঁদ যে কোন মাসে যে কোন দেশেই প্রথম দেখা যেতে পারে। সউদী আরবই সর্ব প্রথম চাঁদ আগে দেখবে এই ধারনাটা সঠিক নয়।

তারমানে বুঝা যাচ্ছে চাদ নিয়ে সৌদী একটা কারচুপি করছে। অথচ চাদের সাথে মুসলমানদের বড় বড় ইবাদতবন্দেগীসমূহের সম্পর্ক। যেমন সৌদী আরব যদি সত্যি চাদ নিয়ে এ ধরনের উল্টো-পাল্টা করেই থাকে, তবে হজ্জের তারিখও উল্টো-পাল্টা হওয়ার কথা। তাহলে প্রতিবছর যে এত মানুষ হজ্জ করছে তাদের হজ্জের কি হবে?? কারণ যে দিন মিনায় যেতে হবে তার একদিন আগে মিনায় গেলে হবে হজ্জ হবে না, যে দিন মুজদালিফায় যেতে হবে তার একদিন আগে মুজদালিফায় গেলে হজ্জ হবে না, যে দিন ইহরাম খোলার কথা তার একদিন আগে ইহরাম খুলে ফেললে হজ্জ হবে না।

কিন্তু অবাক হওয়ার মত বিষয় বর্তমান সৌদী সরকার বছরের পর বছর এ ধরনের কারচুপি করে যাচ্ছে, কিন্তু মুসলমানদের পক্ষ থেকে এর কোন প্রতিবাদ করা হচ্ছে না। যদি সত্যি সৌদী সরকার মুসলমানদের হজ্জ নিয়ে এ ধরনের প্রতারণা করেই থাকে তবে সারা বিশ্ব থেকে এরজন্য প্রতিবাদ করা জরুরী।

[বাংলাদেশে রুইইয়াতে হিলাল মজলিস নামক একটি কমিটি দীর্ঘদিন যাবত দাবি করে যাচ্ছে, সৌদীরা চাদ নিয়ে অনেক দিন ধরেই চক্রান্ত করে যাচ্ছে।
---তাদের ওয়েবসাইট: http://al-hilaal.net/Default.aspx
---চাদ নিয়ে উন্নত গবেষণা করে বাংলায় লিখিত তাদের একটি ওয়েববুক, সংগ্রহে রাখার মত: http://al-hilaal.net/docs/Syllabus_Moon.pdf]





1 টি মন্তব্য:

  1. যারা সমস্ত বিশ্বে চাঁদের সময়ের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান একই দিনে পালনের বিরোধী প্রকৃত পক্ষে তারা সত্য গোপনকারী ধোঁকাবাজ এবং বিভ্রান্ত । তারা জানেন না চাঁদ কখন কোন দিকে উঠে এবং সময়ের গণনা কোন দিক থেকে করা হয় । এই ভুল বা না জানার কারণেই আমরা বিষয়টিকে জটিল থেকে জটিলতর করে তুলছি এবং বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছি । অথচ এটি জটিল বা বিতর্কের কোন বিষয় নয় । মানুষ যখন শত শত বছর ধরে চলমান ভুল শুধরিয়ে সত্যকে জানার এবং বোঝার চেষ্টা করছে তখন নিজেদেরকে শিক্ষিত দাবীদার একশ্রেণীর মুফতি শাইখ এবং ডক্টররা কুরআনকে পাশ কাটিয়ে বা অপব্যখ্যা জাল-যইফ হাদীস বর্ণনা ও নিজের ইচ্ছামত মনগড়া ফতোয়া অযৌক্তিক যুক্তি দিয়ে মানুষকে প্রকৃত সত্য জানা থেকে দুরে সরিয়ে রাখতে অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে । এরাই হচ্ছে শয়তানের এজেন্ট ধোঁকাবাজ এবং ধর্মের সবচেয়ে বড় শত্রু । আমি নিশ্চিত নিজেদেরকে শিক্ষিত দাবীদার এই মুফতি শাইখ এবং ডক্টররা চাঁদ কখন কোন দিকে উঠে এবং সময়ের গণনা কোন দিক থেকে করা হয় জানেন না । যদি জানতেন তাহলে কুরআনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কুফরীর ট্যাবলেট উনারা খেতেন না ধোঁকাবাজি করতেন না এবং শয়তানের এজেন্সি নিতেন না ।
    সময়ের গণনা যেহেতু পূর্ব দিক থেকে হয় তাই কুরআনের বিধান অনুযায়ী পূর্ব দিকের দেশ সমূহ হতেই সমস্ত ইসলামী ধর্মীয় অনুষ্ঠান আগে পালন করার কথা তারপর পর্যায়ক্রমে পশ্চিমের দেশ সমূহের ।

    উত্তরমুছুন