শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩

কেন এই বৈষম্য? আরব ও বাংলাদেশের সিয়াম ও ঈদের পার্থক্য কেন?



 আরব ও বাংলাদেশে সিয়াম ও ঈদে একদিনের ব্যাবধান কেন?

ইন্নালহামদু লিল্লাহ! নাহ্‌মাদুহূ ওয়া নাস্তা'ঈনুহূ ওয়া নাস্তগ্‌ফিরুহূ ওয়ানু'মিনুবিহী ওয়ানাতাওয়াক্কালু আলায়হি, ওয়া না'উযু বিল্লাহি মিন শুরুরি আনফুসিনা ওয়ামিন সাইয়্যেআতি আ'মালিনা মাইয়্যাহ্‌দিহিল্লাহ্‌ ফালা মুযিল্লালাহূ ওয়া মাইয়্যুযলিল্‌হু ফালা হাদিয়ালাহূ। ওয়া আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহ্ - ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু। আম্মা বা'দ। ফাআ'উযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম।
সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌ সুবহানওয়াতলা'র মহান দরবারে লাখো শুক্রিয়া জ্ঞাপন করছি যিনি আমাদের ইসলামের সত্যটা নির্ভয়ে প্রচারণার তাউফিক এনায়েত করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমরা যারা বাংলাদেশি তারা জন্মের পড় থেকেই ঈদ বলতে জেনে আসছি যে, সৌদিআরবে রমজান মাস শুরু হওয়ার পরদিন আমাদের দেশে রমজান মাস শুরু হয় বা সৌদিআরবে ঈদ হওয়ার পরদিন আমাদের দেশে ঈদ হয়। এটি আমাদের দেশের জন্য একটি চিরন্তন সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাঁদ দেখা যেক আর না যাক, সৌদি আরবের পরের দিন আমাদের ঈদ হয়ে থাকে এটাই জেনে এসেছি। আবার আমাদের ঈদ পালনের একদিন পর পাকিস্তানে ঈদ হয় বা রমজান মাস শুরু হয়। এই আলাদা দিন ও চাঁদ নিয়ে বিভ্রান্তি শুধু আমাদের দেশেই নয় বরং গোটা বিশ্বেই চালু আছে।
কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন কেন এই বৈষম্য? কেন আমরা তাদের চেয়ে একদিন পরে রমজান পাবো? কেন একদিন পরে ঈদ পালন করবো?
আমরা এখানেই সেটাই তাহকিক করব।
প্রথমেই আসুন আমরা চাঁদ আর সূর্য সম্পর্কে জানি।
চাঁদ হলো পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। চাঁদের বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর। এটি পৃথিবীর চারিদিকে একবার আবর্তন (পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তনের সময়ের সমান) করতে সময় নেয় ২৩ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড এবং পৃথিবীর সাথে সামনাসামনি হয় ২৯.৫ দিনে। একে চন্দ্রমাস বলে হয়। ভৌগলিক গবেশনার ফলাফল হলো প্রতি আরবি মাসের এক তারিখে চাঁদ সর্বপ্রথম মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মাঝে দেখা যাবে কারন চাঁদ পশ্চিম দিকে উদয় হয় এবং পুর্ব দিকে অস্ত যায়। আরব হলো মধ্যপ্রাচ্য ফলে চাঁদ উঠলে প্রথমে তা আরবে দেখা যায়। ঠিক একই বিপরীত কারনে সূর্য যেহেতু পুর্ব দিকে উদয় হয় এবং পশ্চিম দিকে অস্ত যায় তাই পুর্ব দিকে থাকার কারনে প্রথম সূর্যউদয় দেখা যায় জাপানে।
বিজ্ঞানের কল্যানে আমরা জানি যে চাঁদ কেবল রাতেই ওঠেনা বরং দিনেও ওঠে। প্রথম তারিখের চাঁদ সর্বপশ্চিমে সূর্যাস্তের ৪৯ মিনিট পরে চাঁদ অস্ত যায়। এই ৪৯ মিনিট কৌণিক ভাবে সূর্যের আলো চাঁদের ভূপৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয় তাই চাঁদের যে অংশে আলো পড়ে তার সামান্য অংশ আমাদের চোখের সামনে ধরা পড়ে। তখন আরবি মাসের নতুন চাঁদ আমরা সূর্যাস্তের পরপরই সন্ধায় দেখি যার স্থায়িত্বকাল হয় মাত্র ৪৯ মিনিট। অর্থাৎ নতুন চাঁদ সূর্যাস্তের পর ৪৯ মিনিট দেখা যায় এরপরে তা পশ্চিমা দেশ থেকে ধীরে ধীরে সরে যায় এক্সময় অদৃশ্য হয়ে যায়।
দ্বিতীয় দিন আবার চাঁদ ও সূর্যের গতিভেদে তারা পরদিন ৪৯ মিনিট পর মিলিত হয় ফলে পরদিন চাঁদ দেখা যাবে ৪৯+৪৯=৯৮ মিনিট। এবং চাঁদের উদয়স্থান পরিবর্তন হয়ে যায়। এভাবে প্রতিদিন চাঁদের স্থায়িত্বকাল ৪৯ মিনিট করে বাড়তেই থাকে এবং ২৯ দিন চাঁদকে ২৯ স্থানে উদয় হতে দেখা যায়।
সূর্য আমাদের সৌরজগতের একটি জ্যোতিষ্ক। যারা আলোক বিকিরন করে তারাই জ্যোতিষ্ক। আর যাদের নিজের আলো আছে তারা নক্ষত্র, আর যাদের নাই তারা গ্রহ বা উপগ্রহ। আমাদের সূর্য মূলত একটি বামুনে তারকা (Teen Star). এটি একটি জলন্ত অগ্নিপিন্ড এবং এর উপাদান ৬৬ ভাগই হাইড্রোজেন। আগে ধারনা করা হতো সূর্য স্থির কিন্তু কোরআন এবং আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যানে আমরা এখন জানি সূর্য স্থির নয়, প্রায় ২০ কোটি বছরের ব্যাবধানে এটি একবার আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি পরিভ্রমন করে। আবার পৃথিবীও সূর্যকেন্দ্রিক হওয়াতে এটি ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টায় একবার সূর্যকে প্রদক্ষিন করে। একে সৌরবছর বলা হয়।
সূর্য ও চাঁদের কাজ কি?
আল্লাহ্‌ সুবহানওয়াতাআলাহ কোন কিছু অনর্থক সৃষ্টি করেননি, তিনি সূর্য ও চাঁদকে কেন সৃষ্টি করেছেন তা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন।
আল্লাহ্‌ সুবহানওয়াতাআলাহ বলছেন সুরা রাহমান এর ৫ নং আয়াতে, 'সূর্য এবং চন্দ্র উভয়েই সময় নির্দেশক হিসেবে রয়েছে'।
অর্থাৎ এসব বিরাট নক্ষত্র, গ্রহ-উপগ্রহ একটা অত্যন্ত শক্তিশালী নিয়মবিধি ও অপরিবর্তনীয় শৃংখলার বাঁধনে আবদ্ধ। মানুষ সময়, দিন, তারিখ এবং ফসলাদিও মওসূমের হিসেব করতে সক্ষম হচ্ছে এ কারণে যে, সূর্যের উদয়াস্ত ও বিভিন্ন রাশি অতিক্রমের যে নিয়ম কানুন নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে তাতে কোন সময়ই কোন পরিবর্তন হয় না। পৃথিবীতে অসংখ্য জীব-জন্তু বেঁচেই আছে এ কারণে যে, চন্দ্র ও সূর্যকে ঠিকমত হিসেব করে পৃথিবী থেকে একটি বিশেষ দূরত্বে স্থাপন করা হয়েছে এবং একটি সঠিক মাপ জোকের মাধ্যমে বিশেষ শৃংখলার সাথে এ দূরত্বের হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে। কোন হিসেব নিকেশ ও মাপজোক ছাড়াই যদি পৃথিবী থেকে এদের দূত্বের হ্রাস বৃদ্ধি ঘটতো তাহলে কারো পক্ষেই এখানে বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না। অনুরূপভাবে পৃথিবীর চারদিকে চন্দ্র ও সূর্যের গতি বিধিতে এমন পূর্ণ ভারসাম্য কায়েম করা হয়েছে যে, চন্দ্র একটি বিশ্বজনীন পঞ্জিকায় রূপান্তরিত হয়েছে যা অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিরাতে সমগ্র বিশ্বকে চান্দ্র মাসের তারিখ নির্দেশ করে দেয়।
আরও রয়েছে সুরা ইউনুসের ৫ নং আয়াতে,
'তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিশালী ও চন্দ্রকে আলোকময়, এবং তার মনযিলেও ঠিকমত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যাতে তোমরা তার সাহায্যে বছর গণনা ও তারিখ হিসেব করতে পারো৷ আল্লাহ এসব কিছু (খেলাচ্ছলে নয় বরং )উদ্দেশ্যমূলকভাবেই সৃষ্টি করেছেন তিনি নিজের নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে পেশ করেছেন যারা জ্ঞানবান তাদের জন্য৷' আরও রয়েছে সুরা বাকারাহ এর ১৮৯ আয়াতে, 'হে রাসুল, আপনাকে মানুষ চন্দ্র ও সূর্যের কারন জানতে চাইলে তাদের বলে দিন এগুলো মানুষের জন্য সময় নির্ধারক এবং হজের সময় নির্ধারনকারী'।
এথেকে বোঝা যায়, সূর্য এবং চন্দ্র আমাদের কেবল আলোই দেয়না বরং আমাদের সময় নির্ধারক হিসেবেও কাজ করে।
বিভিন্ন আলেম ও ইসলামী গবেষকরা এই বিষয়ে একমত যে, চাঁদ হলো মাস ও তারিখের জন্য আর সূর্য সময় অর্থাৎ ঘণ্টা মিনিটের জন্য।
এখন আসুন, সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের তারিখের পার্থক্যের কারন দেখা যাক।
যারা সৌদিআরবের একদিন পরে হিসাব শুরু করে তাদের ভাষ্যমতে, আরবে একদিন আগে চাঁদ দেখা যায় তাই ওরা একদিন আগে রমজান বা ঈদ পায় আর আমরা একদিন পরে চাঁদ দেখি তাই আমরা একদিন পরে রমজান পাই এবং ঈদ পাই।
তাদের একটি গানিতিক যুক্তিও আছে... আরব বাংলাদেশের চেয়ে ১০০ কিলোমিটার উঁচুতে রয়েছে।
১। আরবে যেদিন জুমুআ বার সেদিন আমাদের দেশেও জুমুআ বার, অর্থাৎ একইদিনেই জুমুআর সালাত আদায় করা হয়। চন্দ্রমাসে যদি একদিন পার্থক্য হতো তাহলে আরবের সাথে আমাদের জুমুআ তারিখ এক হয় কেন?
আরবেও যেদিন শুক্রবার আমাদের দেশেও সেদিন শুক্রবার হয় কেন?
অনেকে বলে 'আরবের সাথে একসাথে নামাজ পড়েন না কেন?'
এক্ষেত্রে তাদের বিজ্ঞান পড়ার আহবান জানাচ্ছি। কারন আগেই উল্লেখ করেছি যে সময়ের হিসাব করে সূর্য। যেহেতু এক সৌরদিনে সূর্য এক এক সময় এক এক স্থানে থাকে তাই ঐ সময়ের সাপেক্ষে নামাজের সময় হয়। সূর্যের হিসাব নিয়ে আমাদের আপত্তি নাই, আমাদের আপত্তি কেবল চন্দ্রের হিসাব নিয়ে।
নামাজ সময়ের ব্যাপার। সুবেহ সাদিকের সময় ফজর, আমরা সাড়ে তিন ঘণ্টা পরে ফজর পাই। আবার সূর্য ঠিক মাথার ওপরে থাকলে তারা যোহর পায় এবং আমাদের মাথার ওপরে আসলে আমরা যোহর পাই, সেটা সাড়ে তিন ঘণ্টা পরে আসে। তাই নামাজের পার্থক্য কেবল সাড়ে তিন ঘণ্টা।
এই সূর্যের পার্থক্যের কারনেই ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট একসাথে ইফতার (মাগরিব) ও সাহরি (ফজর) পায়না, কয়েক মিনিট সময়ের পার্থক্য হয়। কিন্তু একই দিনে সারা বাংলাদেশে তা সংঘটিত হয়ে থাকে। আরব ও বাংলাদেশের ব্যাপারটাও সেরকম হওয়ার কথা কিন্তু আমাদের বিশ্বের একটি জাগতিক ভুলের কারনে আজ আমরা বিভ্রান্ত।
২। ধরুন আপনি আরব থাকেন, এখন রমজান মাস শুরু হওয়ার পর আপনি কোন এক তারিখে বিমানে করে দেশে ফিরে আসলেন। এখন যেহেতু বাংলাদেশে একদিন পরে সাওম শুরু হয়েছে তাই আপনি হিসেব অনুযায়ী একটা সাওম বেশি পাবেন। কিন্তু ঐ চন্দ্রমাস যদি ৩০ দিনের হয়ে থাকে তাহলে আপনি মোট পাবেন ৩০+১=৩১ টি সাওম।
আবার আপনি দেশ থেকে রমজানের কোন এক তারিখে বিমানে করে আরবে ফিরে যান তাহলে আপনি হিসেব অনুযায়ী একটা সাওম কম পাবেন। আর ঐ চন্দ্রমাস যদি ২৯ দিনের হয় তাহলে আপনার সাওম হবে ২৯-১=২৮ টি।
কিন্তু রমজানের সাওম ২৯ অথবা ৩০ না হলে ঐ সাওম গ্রহনযোগ্য হবেনা।
আয়েশা রাঃ হতে বর্নিত যে, চাঁদ দেখা গেলে রাসুল সাঃ ২৯ দিন সাওম রাখতেন এবং আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে (বা চাঁদ না দেখা গেলে) ৩০ দিন পুর্ন করতেন। (সুনানে আবু দাউদ হাদিস নাম্বার ২৩২৭-২৩২৮, আহমদ ২৫৮৬১, বায়হাকি ৮১৯৩)
সুতরাং ২৯ অথবা ৩০ ব্যাতিত সাওম গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে আরব হতে আসা প্রবাসি ভাই এবং বিদেশ গমনকারী ভাইয়ের সাওম কি হবে?
কখনই না, বিশ্বব্যাপী এই ভিন্নতার কারনে এই সমস্যা।
৩। 'লাইলাতুল কদর' অর্থাৎ কুরআন নাজিলের রাত্রি একটি। তাঁর দলিল আল্লাহ্‌ নিজেই কুরআনে বলেছেন 'ইন্না আনজালনাহুফি লাইলাতিল কদর' অর্থ 'আমি নিশ্চয় কুরআন নাজিল করেছি কদরের রাত্রিতে'। যেহুতু এখানে একটিমাত্র লাইলাতুল কদরের কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে সুতরাং লাইলাতুল কদর অবশ্যই একটা।
আর এখন লাইলাতুল কদর যদি একটা হয় তাহলে কোন রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে?
আরবের হিসেবে লাইলাতুল কদর? নাকি বাংলাদেশের হিসেবে লাইলাতুল কদর?
৪। হাদিসে বলা হয়েছে মহরম মাসের ১০ তারিখ কেয়ামত হবে। যেহেতু মহরম আরবি মাস সুতরাং অবশ্যই সেটা চন্দ্রমাস। আর চন্দ্রমাস হলে আমাদের তো পার্থক্য থাকবে একদিন (বর্তমান হুজুরদের ভাষ্যমতে)। তাই যদি হয় তাহলে আরবে একদিন আগে কেয়ামত শুরু হবে আর আমরা টিভি তে সরাসরি দেখবো কারন তখন তো আমাদের দেশে কেয়ামত আসবেনা। বাংলাদেশ একদিন পরে কেয়ামত শুরু হবে।
প্রথমদিন আরবে কেয়ামত শুরু হলে তারা বাংলাদেশে মোবাইল ফোনে জানিয়ে দিবে 'আরবে কেয়ামত হচ্ছে তোমরা তাউবা করো'। তখন সাথে সাথে আমরা তাউবা করবো এতে কেয়ামত থেমে যাবে কারন আল্লাহ্‌র ওয়াদাহ হলো একজন বান্দাও আল্লাহকে স্মরণ করলে আল্লাহ্‌ কেয়ামত দেবেন না।
চন্দ্রমাসে একদিনের পার্থক্যের কারনে কেয়ামত কি একদিন আগে পরে হবে নাকি একসাথে?
যদি একসাথেই হয় তাহলে সিয়াম এবং ঈদে কেন এই বৈষম্য??
এই একদিন পার্থক্যের কারনে আমাদের বিশাল কিছু সমস্যা হচ্ছে। নিচে তা তুলে ধরা হলো,
১। যেহেতু সারা বিশ্বে একসাথেই সিয়াম ও ঈদ পালনই সহিহ তাই কেউ যদি বাংলাদেশের নিয়মে সিয়াম শুরু হয় তাহলে আরবে যেদিন ঈদ (মূলত আমাদেরও ঈদ) সেদিন আমাদের ৩০ রমজান পড়ে যায়।
আর ঈদের দিনে রোযা রাখা হারাম, তাই আমরা না জেনে 'শুকরের মাংস' খাওয়ার মতই একটা হারাম কাজে লিপ্ত হচ্ছি।
২। আবার একই ভাবে, ঈদ-লু-আযহাতে ইয়ামুল আরাফার পুর্বে অনেকে নফল রোযা রাখেন। কিন্তু সেটা ঈদের দিন পড়ে যায়। একটি নফল পালন করতে গিয়ে একটি হারামে লিপ্ত হচ্ছি।
৩। গত ২ নাম্বার পয়েন্টে উল্লেখিত হয়েছে, প্রবাস ফেরত ভাই এবং বিদেশ গমনকারি ভাইয়ের মত হাজারো দেশান্তরিত ব্যাক্তির সাওম পালনে সমস্যা হচ্ছে।
৪। আল্লাহও বলছেন, 'লাইলাতুল কদর খইরুমমিন আলফিশাহর' অর্থ 'লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত্রি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম'। আর আলাদা দিনে লাইলাতুল কদর খোঁজার কারনে আমরা সঠিক তারিখের পরদিন অর্থাৎ 'জোড়' তারিখে লাইলাতুল কদর অন্বেষণে ব্যাস্ত হয়ে পড়ছি। ফলে প্রকৃত বিজোড়ের রাত্রির লাইলাতুল কদর পাচ্ছিনা। হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত্রিই পাচ্ছিনা তাহলে এ জীবনে আর কি পেলাম? কি মুল্য এই জীবনের?
৫। পবিত্র রমজান মাস শুরু হলেই সকল যোগ্যে মুস্লিমের সাওম রাখা ফরজ, ইচ্ছাকৃতভাবে সাওম না রাখা হারাম। সঠিক হিসেবে আরবে রমজান মাস শুরু হওয়ার ঘটনা শুনেও আমরা সাওম না রেখে আরও একদিনের অপেক্ষা করে হারামে লিপ্ত হচ্ছি।
৬। হজের দিন ফজর থেকে 'ইয়ামুল আরাফা' তাকবীর বলা ওয়াজিব অথচ একদিন পার্থক্যের জন্য আমরা টিভিতে হাজীদের সরাসরি দেখার পরেও তাকবীর না পড়ে চুপচাপ থেকে ওয়াজিব পালনে গাফেলতি দেখিয়ে গুনাহগার হচ্ছি।
৭। আবার জিলকদ মাসের কুরবানি করতে হয় ১০, ১১, ১২ তারিখে। অথচ আমাদের নিকট ১২ তারিখ মূলত ১৩ই জিলকদ, ফলে আমাদের শেষদিনের কুরবানি সহিহ হচ্ছেনা। ফলে সেদিন কেবল গোশত খাওয়াই হচ্ছে, আল্লাহ্‌র ওয়াজিব আদায় হচ্ছেনা।
৮। একদিন পরে সিয়াম শুরু করার কারনে যেমন প্রথম রোযা ছুটে গিয়ে ফরজ হারাচ্ছি তেমনি ৩০ রোযার (আরবে ঈদ) দিনে রোযা রেখে হারামে নিমজ্জিত হচ্ছি। আবার দুই ধারের দুটি ফরজ ছুটে গিয়ে মাঝখানের ৩০ টি রোযার মাত্র ২৮ টি পালন হচ্ছে ফলে আমাদের সিয়াম, ঈদ তো হচ্ছেইনা বরং হারামে নিমজ্জিত হয়ে পাপী হচ্ছি।
৯। শুধু সিয়াম ও ঈদ-উল-ফিতর নয় বরং ঈদ-উল-আযহা, আশুরা, লাইলাতুল কদর, লাইলাতুল মিরাজ ইত্যাদির কোনটাই আমরা সঠিকভাবে পাইনা।
এর ফায়সালা কি?
এর একটাই ফায়সালা, একই সূর্যের ভিত্তিতে সারাবিশ্বে যেমন একই খ্রিস্টাব্দ চলে তেমনি একই চাঁদের ভিত্তিতে সারাবিশ্বে একই সাথে সিয়াম ও ঈদ পালন করা জরুরী। নতুবা আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। রাসুলের সুন্নাহ বাদ দিয়ে আআজ আমরা পৃথিবীর শাসন মেনে নিয়েছি ফলেই আমরা না বুঝেই একটি বিরাট পাপে পাপী হচ্ছি। একই চাঁদে সকল বিশ্বের হিজরি তারিখ গননা হবে এটা সকল ইমামগনের ফতোয়ার কিতাবে রয়েছে, নিচে তা তুলে ধরা হলো।
ইমাম আন-নাসাফী (মৃ: ৭০১ হি) বলেন: ﻭَﻳَﻠْﺰَﻡُ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟْﻤَﺸْﺮِﻕِ ﺑِﺮُﺅْﻳَﺔِ ﺃَﻫْﻞِ ﺍﻟْﻤَﻐْﺮِﺏِ পূর্বের বাসিন্দাদের (চাঁদ) দেখা পশ্চিমের বাসিন্দাদের উপর আরোপিত হবে। [বাহরুর রায়েক শরহু কানযিদ দাকায়েক, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৮০]
ফাতওয়ায়ে ইবনু তাইমিয়্যা গ্রন্থের বলা হচ্ছে- ﻳﺸﻤﻞ ﻛﻞ ﻣﻦ ﺑﻠﻐﻪ ﺭﺅﻳﺔ ﺍﻟﻬﻼﻝ ﻣﻦ ﺍﻯ ﺑﻠﺪ ﺍﻭ ﺍﻗﻠﻴﻢ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺗﺤﺪﻳﺪ ﻣﺴﺎﻓﺔ ﺍﺻﻼ অর্থাৎ নব চাঁদ উদিত হওয়ার সংবাদ যতটুকু পৌঁছবে ততটুকু তার আওতাভূক্ত হবে। তা কিছুতেই দূরত্বের কারণে কোন দেশ, মহাদেশ বা অঞ্চলেসীমাবদ্ধ থাকবে না। [ফাতওয়ায়ে ইবনু তাইমিয়্যা, খন্ড-২৫, পৃঃ-১০৭] অথবা [তামামুল মিন্নাহ ১/৩৯৮]
"পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে সকল স্থানেই উক্ত দেখার দ্বারা রোযা ফরয হবে । চাঁদ নিকটবর্তী দেশে দেখাযাক বা দূরবর্তী দেশে দেখা যাক এতে কোন পার্থক্য নেই । তবে চাঁদ দেখার সংবাদ গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে অন্যদের নিকট পৌছতে হবে । তিন ইমাম তথা ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি,ইমামমালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল রহমাতুল্লাহিআলাইহি-এর মতে চাঁদের উদয়স্থলের ভিন্নতা গ্রহণীয় নয় । অর্থাৎ প্রথম দিনের দেখার দ্বারাই সর্বত্র আমল ফরয হয়ে যাবে"(আল ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবায়া, খন্ড-১, পৃঃ-৪৪৩)
ফতওয়া-ই আলমগিরি'-তে বলা হয়েছে, لَوْ رَأَى أَهْلُ مَغْرِبٍ هِلَالَ رَمَضَانَ يَجِبُ الصَّوْمُ عَلَى أَهْلِ مَشْرِقٍ "পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তের অধিবাসীদের কেউরমজানের চাঁদ দেখলে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তের অধিবাসীদের ওপরও ওই রোজা ফরজ হবে।"
নব চাঁদ উদিত হওয়ার সংবাদ যতটুকু পৌঁছবে ততটুকু তার আওতাভূক্ত হবে। তা কিছুতেই দূরত্বের কারণে কোন দেশ, মহাদেশ বা অঞ্চলেসীমাবদ্ধ থাকবে না। (ফাতওয়ায়ে ইবনু তাইমিয়্যা, খন্ড-২৫, পৃঃ-১০৭, তামামুল মিন্নাহ ১/৩৯৮)
পবিত্র বুখারী শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ বিশ্ব বিখ্যাত কিতাব “ফাতহুল বারী”-তেআল্লামা ইবনু হাজার আল-আসকালানীরহমাতুল্লাহি আলাইহি লেখেন- "রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী فلاتصوموا حتى تروه [রোজারেখ না যতক্ষন না (নতুন চাঁদ) দেখছ] এর মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজে চাঁদ দেখতে হবে এমন উদ্দেশ্য নেয়া যাবেনা। বরং পবিত্র বাণীটির উদ্দেশ্য হচ্ছে কিছু ব্যক্তির চাঁদ দেখা। জমহুর ফকীহ গণের মতানুসারে রমযানের চাঁদ একজনের দেখাই যথেষ্ট হবে। যা হানাফী ফকীহগণের মত। আর অন্যদের মতে দু’জনের দেখা যথেষ্ট হবে। এ মতামতঅপরিচ্ছন্ন আকাশের ক্ষেত্রে, কিন্তু আকাশ যদি পরিচ্ছন্ন থাকে তাহলেএমন সংখ্যক ব্যক্তির চাঁদদেখতে হবে যাদের সংখ্যা দ্বারা চাঁদ দেখার সংবাদ প্রমাণিত হবে। যারা এক দেশের দেখা অন্য দেশের জন্য প্রযোজ্য বলে মত প্রকাশ করেছেন এটা তাদের মত। আর যারা প্রত্যেক দেশের জন্য চাঁদ দেখার মতপ্রকাশ করেছেন তারা বলেছেন “যতক্ষণ না তাকে দেখবে” এর মাধ্যমে বিশেষ অঞ্চলের মানুষকে সম্বোধন করা হয়েছে। যা অন্য অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রযোজ্য নয়। কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষের এ মত হাদীসের প্রকাশ্য বক্তব্যের পরিবর্তন। অতএব চাঁদ দেখাকে প্রত্যেক মানুষের সাথে এবং প্রত্যেক দেশের সাথে সীমিত করা যাবে না।" [ফাতহুল বারী ফি শরহে ছহীহীল বুখারী, খন্ড-৪, পৃঃ-১৫৪]
সবচেয়ে গুরুত্বের বিষয় হলো, রাসুল বলেছে 'তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখো, চাঁদ দেখে রোযা ছাড়ো'। এখানে তোমরা মানে বাংলাদেশের তোমরা কিংবা সৌদির তোমরা আলাদা নয়, বরং এখানে সকল উম্মাহকেই বুঝানো হয়েছে। তাই একই চাঁদের ভিত্তিতে সকল উম্মাহকে সিয়াম রাখতে হবে, এটা ফরজ।
কিছু প্রশ্নোত্তর-
# রাসুল সাঃ কীভাবে সাওম রাখতেন?
- হাদিসে এসেছে, রাসুল সাঃ চাঁদ দেখে সাওম রাখতেন এবং চাঁদ দেখে সাওম ভঙ্গ করতেন।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ হতে বর্নিত রাসুল সাঃ ইরশাদ করেছেন যে, তোমরা যখন চাঁদ দেখবে তখন সাওম রাখবে এবং আবার চাঁদ দেখবে তখন সাওম ভাঙ্গবে (ঈদ করবে)। যদি মেঘাচ্ছন্নের কারনে চাঁদ না দেখা যায় তাহলে ৩০ দিন পুর্ন করো। (সহিহ আল বুখারি হাদিস নাম্বার ১৯০০, সহিহ মুসলিম ২৫৫৬)। এছাড়াও আরও রয়েছে সহিহ আল বুখারি ৯০৯, সহিহ মুসলিম ২৫৬৭, আত তিরমিজি ৬৮৪ ইত্যাদি।
যারা একদিন আগে পরে পালনের পক্ষে তারা এই হাদিস তুলে ধরে বলে 'এখানে আমাদের চাঁদ দেখে রওজা রাখতে বলে হয়েছে তাই আমরা সৌদিআরবের একদিন প্রে চাঁদ দেখি তাই আমরা একদিন পরে রমজান পাই'।
কিন্তু এখানে রাসুল সাঃ এর হাদিসে 'মেঘাচ্ছন' কথাটি উল্লেখ থাকা একটি বিশাল অর্থ বহন করে। মেঘাচ্ছন্নের কারনে দেখা না গেলে সাওম রাখা যাবেনা, এখান থেকে দুইটি শিক্ষা পাই আমরা।
১। মেঘাচ্ছন থাকলেও আজকের আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাঁদ দেখা যায় কিন্তু এখানে মেঘাচ্ছন্ন না থাকলে সাওম রাখা হতে বিরত থাকার কথা বলার কারনে বোঝা যায় যে মেশিন দ্বারা দেখলে চল্বেনা বরং চর্মচক্ষু দিয়ে দেখতে হবে। আনুমান নির্ভর কাজ করা যাবেনা।
২। 'তোমরা' বলতে রাসুল কি বুঝিয়েছেন?
'আরবের তোমরা', 'বাংলাদেশের তোমরা', 'ভারতের তোমরা' এভাবে? নাকি সমগ্র মুসলিম জাতিকে?
হাদিসে কোথাও বলা নেই যে 'যে অঞ্চল থেকে চাঁদ দেখা যাবে সেই অঞ্চলে রমজান বা ঈদ আর বাঁকি অঞ্চলগুলোতে নয়'।
আপনাদের প্রতি ওপেন চ্যালেঞ্জ এধরনের কোন সহিহ হাদিস তো দুরের কথা জঈফ হাদিসও দেখাতে পারবেন না। কারন এখানে 'তোমরা চাঁদ দেখ' অর্থ সবাইকে চাঁদ দেখার কথা বলা হয়েছে। (অবশ্য অন্ধ ও অসুস্থকে নয়)।
সুতরাং সবাইকে চাঁদ দেখতে হবে, কিন্তু 'যে স্থান থেকে চাঁদ দেখা যাবে সেখানে রমজান বা ঈদ' এধরনের বিভ্রান্তি সরাতে হবে। কারন রাসুল সাঃ এর শাসনামলে পৃথিবীতে এতো দেশ ছিলনা, এগুলো পরবর্তিতে যুদ্ধ বিগ্রহের মাধমে সৃষ্টি হয়েছে। রাসুলের আমলে এবং সাহাবীদের সময় সারা পৃথিবী চলতো এক শাসনের অধিনে। তাই তখন পৃথিবীর যে স্থানেই চাঁদ দেখা যেত (মূলত আরবেই প্রথমে দেখা যায়) দুজন সাক্ষির গোচরে সারা বিশ্বেই একসাথে রমজান ও ঈদ পালন করা হতো।
# আরব ও বাংলাদেশের মাঝে ভৌগলিক পার্থক্য কি?
- আরব ও বাংলাদেশের মাঝে ভৌগলিক দূরত্ব অনুযায়ী সময়ের পার্থক্য ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট কমবেশি হয়। অনেকে বলে থাকে আমাদের দেশে যখন দিন তখন আরবে রাত, এই কথাটি সম্পুর্ন ভুল এবং অযৌক্তিক কারন আমরা বিজ্ঞানের কল্যানে এখন জানি আরব ও বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা। সময়ের ক্ষেত্রে আরব আমাদের চেয়ে পিছিয়ে আছে কারন আমরা আরবের পুর্বে অবস্থিত, আবার একই কারনে আরবি সাল মানে হিজরির সময়মান তারিখের ক্ষেত্রে আমরা তাদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছি ১১ ঘন্টা ৩০ মিনিট কারব চাঁদ এবং সূর্য পরস্পর বিপরীত দিক হয়ে উদয় হয় এবং অস্ত যায়।
অর্থাৎ আরব ও বাংলাদেশের মাঝে 'সময়ের পার্থক্য সাড়ে তিন ঘণ্টা' এবং তারিখের পার্থক্য 'সাড়ে এগার ঘণ্টা'।
এখন আমাদের নিকট প্রমান রয়েছে যে বাংলাদেশ আর আরবের পার্থক্য এতই সামান্য যে একে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে মাত্র সাড়ে এগার ঘণ্টার জন্য একটি পুর্নদিন অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা পিছিয়ে ফেলা হয়েছে, যা অত্যন্ত নির্মম।
# আরব যেদিন চাঁদ দেখে সেদিন আমরা দেখিনা কেন? বা আমরা আরবের পরদিন চাঁদ দেখি কেন?
- আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে, চন্দ্রমাসের নতুন চাঁদ কেবল ৪৯ মিনিট স্থায়ী হয় ফলে সারাবিশ্বে সকল দেশে বা সকল স্থানে একই দিনে একই সাথে চাঁদ দেখা সম্ভব না। নতুন চাঁদ প্রতিটা এলাকা থেকে দেখতে হলে কমপক্ষে ২/৩ দিন লাগবে।
মাসের প্রথম দিকের তারিখে চাঁদ ও সূর্যের প্রায় মাঝামাঝি থাকে পৃথিবী তাই চাঁদের ভূপৃষ্ঠে পড়ে আলোর যে অংশ আমাদের পৃথিবীতে পৌছায় আমরা সেটাই দেখি শুকনো খেজুর ডালের মত। ৪৯ মিনিট পর চাঁদ কিন্তু ডুবে যায়না, বরং চাঁদ আকাশেই থাকে কিন্তু সূর্য বিপরীত অক্ষের দিকে চলে যাওয়ার কারনে চাঁদের ওপর সূর্যের প্রতিফলিত আলোকরশ্মি পৃথিবীর বাইরে পড়ার কারনে আমরা দেখতে পাইনা।
এভাবে ২/৩ দিন ধরে প্রতিফলিত রশ্মি পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় পড়ার কারনে তারা ভিন্ন ভিন্নি দিনে নতুন চাঁদ দেখতে পায়।
একই ভাবে ব্যখ্যা দেইয়া যায়, আরবে যেদিন চাঁদ দেখা যায় সেদিন বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের কারনে আমরা এই অক্ষ থেকে চাঁদ দেখতে পাইনা। প্রকৃতপক্ষে চাঁদ ঠিকই ওঠে কিন্তু আমরা দেখার আগেই তাঁর আলো পৃথিবীর ওপর থেকে সরে যায় তাই আমরা আরবের সাথে একই দিনে চাঁদ দেখতে পাইনা বরং পরদিন দেখতে পাই।
# আরবের সাথে রোযা করবো, নামাজ পড়বোনা কেন?
আগেই উল্লেখ্য করা হয়েছে যে সিয়াম হলো তারিখভিত্তিক বা চাঁদের ওপর নির্ভর করে। আর নামাজ সময়ভিত্তিক বা সূর্যের ওপর নির্ভর করে। হিজরির নতুন মাসের নিতুন চাঁদ বিশ্বের কোথাও দেখা গেলেই সেইদিন সারাবিশ্বে একই হিজরি তারিখ ঘোষণা হবে, সেদিন হবে চন্দ্রমাসের এক তারিখ। এভাবে আমরা একসাথে সারাবিশ্বে একই তারিখ পাই কিন্তু সময়ের সাড়ে তিন ঘণ্টা পার্থক্যের কারনে আমরা জুমুআর সালাত সাড়ে তিনঘণ্টা আগেই পড়ি। আমরা কিন্তু জুমুআর সালাত একই দিনে পড়ি, কিন্তু সময়ের তারতম্যের কারনে কেবল সাড়ে তিনঘণ্টা আগে।
ঠিক তেমনি সিয়াম ও ঈদ একই দিনে করতে হবে, যেমনটা হয় জুমুআ বার।
পরিশেষে একটা কথাই বলবো, সিয়াম কোন হেলাফেলার জিনিস নয়, এই আল্লাহ্‌র পক্ষে থেকে ফরজ। আর ইসলামের ৫ টি স্তম্ভের মধ্যে মাঝখানের শক্তি খুঁটি। আল্লাহ্‌ বলেছেন 'ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু কুতবা আলাইকুমুস সিয়াম' অর্থ 'হে ইমানদারগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে...'। সুরা বাকারাহ, আয়াত নং ১৮৩। এছাড়াও রয়েছে সুরা বাকারাহ আয়াত নং ১৮৫। সিয়াম আল্লাহ্‌র ফরজ আর এর প্রতিদান আল্লাহ্‌ নিজেই দান করবেন এটা আল্লাহ্‌র প্রতিজ্ঞা, দলিলঃ সহিহ আল বুখারি হাদিস নাম্বার ৬৯৮৪, সহিহ মুসলিম ২৫৭৩, সুনানে আন নাসাঈ ২২১১, সুনানে আত তিরমিজি ৭৬১, সুনানে ইবনে মাজাহ ১৬৩৮।
তাই এত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ একটা বিষয় নিয়ে 'বাপ দাদা এতদিন ধরে করে এসেছে এখন কি আর ছাড়তে পারি?' টাইপের মনোভাব দেখালে অনেক কিছুই ভুল করবেন।
আপনার সত্যটা জানার অধিকার রয়েছে, নিজে জানুন অন্যকে জানান। রাসুল সাঃ এর সময়ের মত সারাবিশ্বে একইদিনে সিয়াম ও ঈদ পালন জরুরী, নতুবা সিয়াম ঈদ কোনটাই পাবেন না।
আল্লাহ্‌ আমাদের সত্যটা জানার তাউফিক এনায়েত করুন, আমীন।
A Presentation of 'Fee Sabilillah' Publication .
* এই নোট এবং বিস্তারিত একটি বই আকারে প্রকাশ হয়েছে, আপনারা বইটি সংগ্রহে রাখতে পারেন। ফ্রি পিডিএফ মাত্র ১৪০ কিলোবাইট। 

 ডাউলোড করতে এখানে ক্লিক করুন -> https://www.copy.com/s/jlhogsp4qCe8/Why%20This%20Imparity%20By%20Shurjo%20Chowdhury.pdf














 ভারতের মুম্বাইয়ে রয়েছেন ডাঃ যাকির নায়েক, তিনিও বলেছেন সারাবিশ্বে একই দিনে সিয়ামের কথা!! ভাই এইডা কি কইলেন আমি তো... হইয়া গেলাম । দয়া কইরা নিচের ভিডিওটা দেইখা আসেন http://www.youtube.com/watch?v=Tp-cFOQX9Os    

 নিজ দেশের লোকদের সাথে রোযা রাখবে, না চাঁদ দেখা যে কোনো দেশের সাথে? (বাংলা)

 http://IslamHouse.com/308022 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন