কুরআন, সুন্নাহ এবং ফিকহের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই দিনে সমগ্র বিশ্বে রোযা, ঈদ, কুরবানী ইত্যাদি ইবাদাত পালন করা কীভাবে সম্ভব?
24 June 2013 at 10:23
এক:
যদি প্রশ্ন করা হয়, পৃথিবীর সকল জায়গায় একই সঙ্গে
দিন ও রাত হয়না। বরং এক স্থানে যখন রাত অন্য স্থানে তখন দিন। তাহলে কুরআন,
সুন্নাহ এবং ফিকহের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই দিনে সমগ্র বিশ্বে রোযা, ঈদ,
কুরবানী ইত্যাদি ইবাদাত পালন করা কীভাবে সম্ভব?
জবাব: অত্র প্রশ্নের জবাবটি পরোপুরি ভৌগলিক জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত। তাই এ প্রশ্নের জবাব জানার পূর্বে ভৌগলিক কিছু ধারণা অর্জন একান্তই দরকার। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই জানা প্রয়োজন, প্রতি চান্দ্র মাসের নুতন চাঁদ সকল সময় পৃথিবীর কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলে দৃষ্টি গোচর হবে? না কি বিভিন্ন মাসের চাঁদ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেখো যাবে?
যেহেতু প্রমাণিত যে, নুতন চাঁদ সকল সময়ই মধ্য প্রাচ্যের যে কোন দেশে সর্ব প্রথম দৃষ্টি গোচর হবে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের সবচেয়ে বেশী অগ্রগামী সময়ের দেশ জাপানবাসীর জন্য ১ম তারিখের রোযা রাখার সম্ভাব্যতা সর্বাধিক প্রশ্ন সাপেক্ষ। কিন্তু গবেষণায় সুপ্রমাণিত যে, ঐ দিন জাপানবাসীর জন্যও রোযা রাখা সম্ভব। যেমন বছরের সবচেয়ে ছোট রাত জুলাই মাসকেও যদি আলোচনায় আনা হয় তবে দেখা যাবে, জুলাই মাসে সর্ব শেষ সূর্যাস্ত হয় ৬টা ৫৫ মিনিটে। তাহলে মধ্য প্রাচ্যে সূর্যাস্তের পর পর সন্ধ্যা ৭টায় নুতন চাঁদ দেখা গেল। ঐ সময় পৃথিবীর সর্বপূর্ব স্থান জাপানে রাত ১টা ২৮ মিনিট। কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও জাপানের মধ্যে অবস্থানগত দূরত্ব ৯৭ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। ফলে স্থানীয় সময় মধ্য প্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের চেয়ে ৬ঘন্টা ২৮মিনিট অগ্রগামী। তাহলে ফলাফল দাড়াল মধ্য প্রাচ্যে সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদ দেখা গেলে জাপানে সে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছতেছে রাত ১টা ২৮ মিনিটে। অথচ জুলাই মাসে সাহরী খাওয়ার সর্বনিম্ন সময় হলো ৩টা ৪৩ মিনিট। তাহলে জাপানবাসী চাঁদ উদয়ে সংবাদ পাওয়ার পরেও রোযা রাখতে সাহরী খাওয়ার জন্য সময় পাচ্ছেন প্রায় ২ ঘন্টা ১৫ মিনিট। যা সাহরীর জন্য কোন বিবেচনায়-ই অপ্রতুল নয়। উপরন্ত ঐ সময়ের মধ্যে তারাবীর নামায আদায় করাও সম্ভব। আর পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশের জন্য আমল করা কোন ভাবেই কষ্টকর নয়। কারণ যত পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশের দিকে আসা হবে তারা চাঁদ উদয়ের সংবাদের পরে সাহরী খাওয়ার জন্য ততবেশী সময় পাবে।
দুই: যদি প্রশ্ন করা হয়, আমরা বাংলাদেশে যখন ইফতার করি তখন আমেরিকায় ভোর, আবার আমরা যখন সাহরী খাই তখন আমেরিকায় বিকাল, তাহলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে একই দিনে আমল করা কি করে সম্ভব?
জবাব: অত্র পশ্নের উত্তর বুঝার জন্য দু’টি মৌলিক বিষয় গভীর ভাবে স্মরণ রাখতে হবে।
এক; চাঁদের তারিখ সংশ্লিষ্ট আমলগুলো সমগ্র পৃথিবীতে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবেনা। বরং একই দিনে (অর্থাৎ শুক্র, শনি, রবি----------বুধ বা বৃহস্পতিবারে) এবং একই তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
দুই; যেহেতু সব সময়েই মধ্যপ্রাচ্যের কোন না কোন দেশে সর্বপ্রথম নুতন চাঁদ দেখা যাবে তাই চাঁদের তারিখ নির্ভর সকল ইবাদাত পালনের ক্ষেত্রে পৃথিবীর যে কোন দেশের সময়ের হিসেব মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশ বা অন্য কোন দেশের সময়ের সঙ্গে নয়।
তাহলে মনে করা যাক, বৃহস্পতিবার দিবাগত সন্ধ্যা ৭টায় মধ্য প্রাচ্যে পবিত্র রমযানের চাঁদ দেখা গেল এবং প্রমাণিত হল শুক্রবার ১ রমযান। এখন সমগ্র বিশ্বে ১ রমযান হিসেবে শুক্রবারে রোযা রাখা যায় কিনা এটাই মূল বিবেচনার বিষয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় যখন মধ্য প্রাচ্যে চাঁদ দেখা গেল তখন ঐ চাঁদ দেখার সংবাদ ১৪২ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত সর্বপ্রথম সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে পৌঁছবে জাপানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ২৮মিনিটে। অথচ সাহরীর সর্বশেষ সময় সীমা কখনই ৩টা ৪৩মিনিটের নিম্নে আসেনা। তাহলে জাপানবাসী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চাঁদ উদয়ের সংবাদ শুনে শুক্রবারে রোযা রাখার জন্য সাহরী খেতে সময় পাচ্ছেন (৩:৪৩মিঃ - ১:২৮মিঃ) ২ঘন্টা ১৫মিনিট।
এমনিভাবে ১২০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ ইন্দোনেশিয়ার সুমবা, ফ্লোরেস, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, চীনের শেংইয়াং, হাইলার, ইনহো, রাশিয়ার টালুমা, খরিনটস্কি, সুখানা এবং অলিনেক অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায়। ফলে বছরের সব চেয়ে ছোট রাতেও চাঁদ উদয়ের সংবাদ পাবার পরে শুক্রবার ১ রমযানের রোযা রাখতে সাহরী খাওয়ার জন্যে তারা সময় পাবে ৩ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। অতএব তাদের জন্যে শুক্রবার রোযা রাখা সম্ভব। এরপরে ১০৫ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ তেলাকবেটং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, লাওস, চীনের ইপিং, চেংটু, মোঙ্গলিয়া এবং রাশিয়ার মধ্য সাইবেরিয়ান অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টায়। ফলে তারাবীহ ও সাহরীর জন্যে তারা সময় পাবে ৪ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। তারপরে ৯০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, চীনের লাসা, টুরপান, ফাইয়ুন, রাশিয়ার আবাজা অচিনিস্ক, নগিনস্কি অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টায়। ফলে তারাবীহ ও সাহরীর জন্যে তারা সময় পাবে ৫ ঘন্টা ৪৩ মিনিট এভাবে ৭৫ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত দেশ ভারতের দিল্লী, কাশ্মীর, কিরগিজিয়া, পূর্বপাকিস্তানে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে ঐরাত ৯টায় এবং ৬০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত দেশ পাকিস্তানের করাচী, আফগানিস্তান, পূর্ব ইরান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তানে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে ওখানকার স্থানীয় সময় রাত ৮টায়। তাহলে প্রমাণিত হল মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে জাপান পর্যন্ত পূর্ব গোলার্ধের সকল দেশে শুক্রবার ১ রমযানের রোযা রাখা সম্পূর্ণ সম্ভব।
এবার পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশ নিয়ে আলোচনা করা যাক। ৪৫ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যে যখন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় রমযানের চাঁদ দেখা গেল তখন ৩০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ দক্ষিন আফ্রিকার ডারবান, জিম্বাবুই, জাম্বিয়ার বেলা, তানজানিয়ার বরুনডি, সুদান, মিসর, তুরস্কের বুরসা, ইউক্রেন এবং রাশিয়ার লেলিন গ্রাদ ইত্যাদি অঞ্চলে উক্ত চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে ঐ অঞ্চল সমূহের স্থানীয় সময় বিকাল ৬টায়। ফলে চাঁদ উদয়ের সংবাদ পাবার পরে শুক্রবার ১ রমযানের রোযা রাখতে তারা সময় পাবেন ৯ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। এমনি ভাবে ১৫ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ সমূহে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায়। ০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ টগো, মালি, আলজেরিয়ার রেগান, ওরান, স্পেনের ভ্যালেনসিয়া, ফ্রান্সের বদৌস ও প্যারিস এবং লন্ডন অঞ্চল সমূহে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায়। আরো পশ্চিমে ১৫ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ সেনেগাল, মৌরতানিয়ার নৌয়াকচট, পশ্চিম সাহারা, পূর্ব আইসল্যান্ড ইত্যাদি অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায়। এমনি করে ৩০ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমায় দুপুর ২টায়, ৪৫ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমায় দুপুর ১টায়, ৬০ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে পূর্ব আর্জেটিনায়, প্যারাগুয়ে, মধ্য ব্রাজিলে, পূর্ব ভেনিজুয়েলায়, পূর্ব কানাডায় এবং পশ্চিম গ্রীনল্যান্ডে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়। এমনি করে ৭৫ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমায় সংবাদ পৌঁছবে বেলা ১১টায়। ৯০ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমায় সংবাদ পৌঁছবে বেলা ১০টায়। ১০৫ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমার দেশ সমূহ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রের আলবুক্য়ার্ক, ডেনভার, সিয়েন, মাইলস্ সিটি এবং মধ্য কানাডীয় অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে এসব অঞ্চলের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায়। এমনি ভাবে সর্বশেষ ১৮০ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, আলিউটিয়ান দ্বীপপুঞ্জে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে সেখানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায়। এবং উল্লেখিত সকল দ্রাঘিমায় অবস্থিত দেশ সমূহের অধিবাসীরা জানবে যে, মধ্য প্রাচ্যে বৃহস্পতিবার দিবাগত সন্ধ্যা ৭টায় নুতন চাঁদ দেখার কারণে ১ রমযান হচ্ছে শুক্রবার। অতএব মধ্যপ্রাচ্য থেকে পশ্চিম দ্রাঘিমার দেশগুলো যথাক্রমে বৃহস্পতিবার দিনের অংশ ও পূর্ণদিন অতিক্রমের পরে স্থানীয় ভাবে যে দেশে যখন শুক্রবার শুরু হবে সে দেশে তখন শুক্রবারে ১ রমজানের রোযা পালন করবে। উল্লেখিত আলোচনার সারকথা হলো শুক্রবার দিবসটি জাপানে শুরু হবে মধ্যে প্রাচ্যের ৬ঘন্টা ২৮মিনিট পূর্বে এবং পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হবে মধ্য প্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের ১৫ঘন্টা পরে। কিন্তু দিন একটিই তাহল শুক্রবার। তবে উভয় স্থানে দিন ও তারিখ হবে অভিন্ন। অতএব জাপানে শুক্রবারের রোযা শুরু হবে পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ঘন্টা পূর্বে। আবার পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে রোযা শুরু হবে জাপানের স্থানীয় সময়ের ২৩ঘন্টা পরে। যেমন আমাদের বাংলাদেশে আমরা রোযা রাখলাম শুক্রবার। কিন্তু পাবর্ত্য চট্টগ্রামে সাহরীর শেষ সময় যদি হয় ৪টা ৩০মিনিট, তবে রাজশাহীতে সাহরীর শেষ সময় হবে আরো ১৩ মিনিট পরে অর্থাৎ ৪টা ৫৩ মিনিট। তাহলে বাংলাদেশে শুক্রবারের রোযা পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হল ১৩ মিনিট পূর্বে এবং রাজশাহীতে শুরু হল ১৩ মিনিট পরে। ঠিক তেমনি সমগ্র পৃথিবীতে রোযা শুরু ও শেষ হওয়ার সময় স্থানীয় সময় অনুপাতে আগ-পিছ হলেও দিন ও তারিখ হবে অভিন্ন। অতএব সমগ্র পৃথিবীতে অভিন্ন দিন ও তারিখে রোযা রাখা এবং ঈদ করা সম্পূর্ণ সম্ভব।
তিন: যদি প্রশ্ন করা হয়, যে সকল ইমাম, ফকীহ নিজ নিজ কিতাবে উক্ত মাসয়ালা লিখেছেন আবার তারাই নিজেদের ফাতওয়ার বিপরীতে এলাকা ভিত্তিক আমল করেছেন। এর কারণ কি?
জবাব: ইমাম ও ফকীহগণ তাদের ফাতওয়ার বিপরীত আমল করেছেন একথা ঠিক নয়। তারা সর্বপ্রথম চাঁদ দেখার সংবাদ গ্রহণযোগ্য সূত্রে যতটুকু এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে ততটুকু এলাকায় আমল করেছেন। এ ছাড়াও সত্য সন্ধানী চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য এ প্রশ্নের জবাব খুবই সহজ। তা হল উপরোল্লেখিত ইমাম ও ফকীহগণের সকলের জীবদ্দশায়ই আধুনিক উন্নত ইলেকট্রনিক সংবাদ মিডিয়া ছিলনা। যার ফলে তারা তাৎক্ষনিকভাবে চাঁদ দেখার সংবাদ এক দেশ থেকে অন্য দেশে দিতে বা নিতে পারেন নি। এ ওজর বা বাধ্যবাধকতার কারণেই তারা বাহ্যিক চোখে যেদিন যে অঞ্চলে চাঁদ দেখেছেন এবং যতদূর পর্যন্ত সংবাদ দিতে-নিতে পেরেছেন ততদূর পর্যন্ত অঞ্চলে আমল করেছেন। অবশ্যই এটা তাদের ভুল ছিলনা বরং সময়ের দাবীতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধার কারণে তাদের এ আমল সম্পূর্ণ যুক্তি সঙ্গত ছিল। ওজর সম্বলিত তাদের সে আমলই কালের পরিক্রমায় সমাজের প্রতিটি স্নায়ূতে মিশে গেছে। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদানে বর্তমানে ইমাম ও ফকীহগণের প্রদত্ত্ব মূল ফাতওয়ার বিপরীত আমল করার কোন সুযোগ নেই।
চার: যদি প্রশ্ন করা হয়, কোন মুফতি যখন নিজ ফাতওয়ার বিপরীতে আমল করেন তখন তার ফাতওয়া অকার্যকর হয়ে যায় কি না?
জবাব: যদি কোন মুফতি তার প্রদত্ব ফাতওয়ার বিপরীত আমল করেন তবে কখনই তার ফাতওয়া অকার্যকর হয়না। কারণ অছুলে হাদীস (হাদীস ব্যাখ্যা করার মূলনীতি) এবং অছুলে ফিকহ (মাসয়ালা রচনার মূলনীতি) এর বিধান হল, যদি একই বিষয়ে একই বর্ণনাকারীর বর্ণনা এক রকম আর আমল অন্য রকম হয় তখন দলিলের ক্ষেত্রে আমলের উপরে বর্ণনা প্রাধান্য পাবে। কারণ বর্ণনার ক্ষেত্রে কোন ওজর নেই কিন্তু আমলের ক্ষেত্রে কোন না কোন ওজর থাকা স্বাভাবিক।
আর এ বিষয়ে কোন মুফতি নিজ ফাতওয়ার বিপরীত আমল করেননি। বরং তারা এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তাদের সাধ্য অনুযায়ী বাস্তবায়নের আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
পাঁচ: যদি প্রশ্ন করা হয়, ফাতওয়ায় উপস্থাপিত দলীল সমূহের মূল ফিকহ গ্রস্থগুলো আমাদের সম্মানিত আলেমগণ পড়েন না?
জবাব: জবাবে বলব, এ প্রশ্ন আমাদেরকে না করে তাদেরকে করাই যথার্থ হবে। কারণ তারা ঐ সকল মূল কিতাবগুলো পড়েন কি পড়েন না অথবা বুঝেন কি বুঝেন না এটা তারা ভাল বলতে পারবেন। তদোপরি বিষয়টি তাদের একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। যে কিতাবগুলোর দলীল আমরা উপস্থাপন করেছি সে গুলো পড়ে একজন মুকাল্লিদ আলেম তার মাযহাবের ইমাম ও পরবর্তী বিশ্ববিখ্যাত ফকীহগণের ফাতওয়া ভুল ছিল এ কথা বলার ধৃষ্টতা দেখাবেন তা আমরা মনে করিনা। একটি আমল যুগযুগ ধরে চলে আসছে তাই তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। অথবা গুটি কয়েক মুরুব্বীর অনুকরণ করে কিতাবের ফাতওয়াকে উপেক্ষা করছেন। তবে ইসলাম যে বাস্তব ও বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবন ব্যবস্থা এবং যাবতীয় যুগ জিজ্ঞাসার সমাধান দিতে সক্ষম তা উপলব্ধি করে সম্মানিত ওলামায়ই কিরাম বিষয়টি বিবেচনা করলেই সমস্যার সহজ সমাধান হবে। বর্তমানে কোন ভাবেই মূল ফাতওয়ার বিপরীত আমল করার সুযোগ নেই।
ছয়: যদি প্রশ্ন করা হয়, রেডিও, টিভি, মাইক, টেলিফোন, মোবাইল ইত্যাদির আওয়াজ কি কথকের আওয়াজ, না কি কথকের আওয়াজের প্রতিধ্বনি সে বিষয়ে বিজ্ঞানীগণ আজও এক মত হতে পারেননি। তাই উক্ত মাধ্যম গুলোর সংবাদ শরীয়ত সম্মত হবে কি করে?
জবাব: এর জবাবে এতটুকু বলাই যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি যে, যে সকল সম্মানিত আলেমগণ বিজ্ঞানীদের মতানৈক্যের অসার যুক্তি দেখিয়ে আধুনিক যান্ত্রিক মিডিয়ার সংবাদকে শরীয়ত সম্মত নয় বলে সস্তা ফাতওয়া জারী করেন। তারা রীতিমত নিজেদেরকেই মিথ্যাবাদী প্রমাণ করছেন। কারণ তাদের নিষিদ্ধ ঘোষিত ঐ সকল যান্ত্রিক মিডিয়া তারা অহরহ ব্যবহার করেন। উহার মাধ্যমে আযান একামত, ওয়াজ নসিহত ও নামাজ আদায় করেন। মোবাইল ও টেলিফোনের অপর প্রান্তের সকল কথা পুরোপুরি বিশ্বাস নিয়ে তারা জবাব দেন। অথচ তাদের আপত্তি কেবল চাঁদের সংবাদের ক্ষেত্রে। আরো মজার ব্যাপার হল বাংলাদেশে চাঁদ দেখার সংবাদ প্রশ্ন কর্তারা এ সকল মিডিয়াতেই প্রচার করে থাকেন।
সাত: যদি প্রশ্ন করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার তারিখ অনুযায়ী বাংলাদেশে রোযা ও ঈদ হবে, তাহলে আমরা কেন আরবদেশ গুলোর সঙ্গে একই সময়ে সাহরী ও ইফতারী খাইনা এবং নামায আদায় করি না?
জবাব: এখানে একটি মৌলিক কথা মনে রাখতে হবে যে, রোযা ফরয হওয়া নামায ফরয হওয়া এক বিষয়। আর রোযা আদায় করা নামায আদায় করা এবং সাহরী ও ইফতারী খাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
রোযা ফরয হওয়া, নামায ফরয হওয়াকে বলে আসবাবে ওযুব বা ওয়াজিব হওয়ার কারণ। পক্ষান্তরে নামায আদায় করা, রোযা সমাপন করাকে বলে আসবাবে আদা বা সমাপনের কারণ।
অর্থাৎ প্রতিটি আমলেরই দু’টি দিক রয়েছে। একঃ আমলটি ফরয হওয়া, দুইঃ ফরয হওয়া উক্ত আমলকে কার্যের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করা। রোযার ক্ষেত্রেও অনুরূপ। প্রথমত; রোযা ফরয হওয়া, দ্বিতীয়ত; রোযাকে কাজের মাধ্যমে পূর্ণতা দেয়া।
এ প্রথমটি অর্থাৎ রোযা ফরয হওয়া নির্ভর করে চাঁদ দেখার মাধ্যমে মাসের উপস্থিতির উপর। ফলে পৃথিবীর আকাশে পবিত্র রমযান মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমে রমযান মাস প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথে সমগ্র পৃথিবীর সকল মু’মিন নারী পুরুষের উপর একই সাথে রোযার ফরয হওয়া সাব্যস্ত হয়ে যায়। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ঘোষণা হলো- فمن -شهد منكم الشهر فليصمه
অর্থাৎ তোমদের মধ্যে যে ব্যক্তিই রমযান মাসে উপনিত হবে সেই যেন রোযা রাখে।
----(সূরা বাকারা-১৮৫)
এখন প্রশ্ন হলো এ ফরয হওয়া রোযা আমরা কিভাবে আদায় করব। যা রোযার দ্বিতীয় দিক অর্থাৎ রোযাকে কার্যে পরিণত করা যা শুরু হয় সাহরী খাওয়ার মাধ্যমে এবং শেষ হয় ইফতারীর মাধ্যমে।
আর এ দ্বিতীয়টি অর্থাৎ সাহারী ও ইফতারীর মাধ্যমে রোযাকে কার্যে পরিণত করা নির্ভর করে সূর্যের পরিভ্রমণের উপর। যে সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ঘোষণা হলো-
-كولوا واشربوا حتى يتبين لكم الخيط الابيض من الخيط الاسود من الفجر ثم اتموا الصيام الى الليل
অর্থাৎ তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে (পূর্ব আকাশে) ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার হয়। অতপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত।
---- (সূরা আল-বাকারা-১৮৭)
অত্র আয়াতের ঘোষণা থেকে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে, রোযা কার্যের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করার শুরু হচ্ছে সুবহি সাদিক এবং রোযা সমাপ্ত হবে রাতের শুরুতে যা ইফতারীর সময়। সুবহি সাদিক এবং রাত হওয়া অবশ্যই সূর্যের পরিভ্রমণের সাথে সম্পর্কিত, চাঁদের সাথে নয়।
তাহলে উপরোক্ত দু’টি আয়াতের সার কথা এই দাঁড়ালো যে পৃথিবীর কোথাও চাঁদ উদয় প্রমাণিত হওয়ার সংবাদ গ্রহনযোগ্য মাধ্যমে পাওয়ার সাথে সাথে সকল পৃথিবীবাসীর উপর রোযা ফরয হবে। রোযা বাস্তবায়িত করতে হবে সূর্যের পরিভ্রমণের দ্বারা। তাই সূর্যের পরিভ্রমণের প্রতি লক্ষ্য রেখেই স্থানীয় সময়ানুপাতে পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সাহরী, ইফতার ও নামায আদায় করতে হয়। যেহেতু বাংলাদেশে সূয উদয়-অস্ত মধ্য প্রাচ্যের উদয়-অস্ত সময় থেকে ৩ঘন্টা অগ্রগামী সে কারণেই বাংলাদেশে সাহরী, ইফতার ও নামাযের সময় মধ্য প্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের চেয়ে ৩ঘন্টা আগে হবে। সুতরাং এব্যাপারে আর কোন প্রশ্ন থাকতে পারে না। মনে করুন রাষ্ট্রীয় ঘোষণা মতে সমগ্র বাংলাদেশ বাসী শুক্রবার ১ রমজানের রোযা রাখলেন। অথচ ঐ দিনই পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সাহরীর শেষ সময় ও ইফতারীর সময় যখন হয়, তার ১৩মিনিট পরে হবে পঞ্চগড়ের অধিবাসীদের সাহরী ও ইফতারীর সময়। এর কারণ হল রোযা ফরয হয় চাঁদের তারিখের ভিত্তিতে। তাই একই তারিখে সকলে রোযা রাখবে। আর সাহারী, ইফতার ও নামাজের সময় হয় সূর্যের গতি বিধিতে। ফলে যার যার স্থানীয় সময়ানুযায়ী সাহরী ও ইফতার খাবে এবং নামায আদায় করবে।
http://www.newmoonbd.com/faq.php

জবাব: অত্র প্রশ্নের জবাবটি পরোপুরি ভৌগলিক জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত। তাই এ প্রশ্নের জবাব জানার পূর্বে ভৌগলিক কিছু ধারণা অর্জন একান্তই দরকার। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই জানা প্রয়োজন, প্রতি চান্দ্র মাসের নুতন চাঁদ সকল সময় পৃথিবীর কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলে দৃষ্টি গোচর হবে? না কি বিভিন্ন মাসের চাঁদ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেখো যাবে?
যেহেতু প্রমাণিত যে, নুতন চাঁদ সকল সময়ই মধ্য প্রাচ্যের যে কোন দেশে সর্ব প্রথম দৃষ্টি গোচর হবে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের সবচেয়ে বেশী অগ্রগামী সময়ের দেশ জাপানবাসীর জন্য ১ম তারিখের রোযা রাখার সম্ভাব্যতা সর্বাধিক প্রশ্ন সাপেক্ষ। কিন্তু গবেষণায় সুপ্রমাণিত যে, ঐ দিন জাপানবাসীর জন্যও রোযা রাখা সম্ভব। যেমন বছরের সবচেয়ে ছোট রাত জুলাই মাসকেও যদি আলোচনায় আনা হয় তবে দেখা যাবে, জুলাই মাসে সর্ব শেষ সূর্যাস্ত হয় ৬টা ৫৫ মিনিটে। তাহলে মধ্য প্রাচ্যে সূর্যাস্তের পর পর সন্ধ্যা ৭টায় নুতন চাঁদ দেখা গেল। ঐ সময় পৃথিবীর সর্বপূর্ব স্থান জাপানে রাত ১টা ২৮ মিনিট। কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও জাপানের মধ্যে অবস্থানগত দূরত্ব ৯৭ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। ফলে স্থানীয় সময় মধ্য প্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের চেয়ে ৬ঘন্টা ২৮মিনিট অগ্রগামী। তাহলে ফলাফল দাড়াল মধ্য প্রাচ্যে সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদ দেখা গেলে জাপানে সে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছতেছে রাত ১টা ২৮ মিনিটে। অথচ জুলাই মাসে সাহরী খাওয়ার সর্বনিম্ন সময় হলো ৩টা ৪৩ মিনিট। তাহলে জাপানবাসী চাঁদ উদয়ে সংবাদ পাওয়ার পরেও রোযা রাখতে সাহরী খাওয়ার জন্য সময় পাচ্ছেন প্রায় ২ ঘন্টা ১৫ মিনিট। যা সাহরীর জন্য কোন বিবেচনায়-ই অপ্রতুল নয়। উপরন্ত ঐ সময়ের মধ্যে তারাবীর নামায আদায় করাও সম্ভব। আর পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশের জন্য আমল করা কোন ভাবেই কষ্টকর নয়। কারণ যত পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশের দিকে আসা হবে তারা চাঁদ উদয়ের সংবাদের পরে সাহরী খাওয়ার জন্য ততবেশী সময় পাবে।
দুই: যদি প্রশ্ন করা হয়, আমরা বাংলাদেশে যখন ইফতার করি তখন আমেরিকায় ভোর, আবার আমরা যখন সাহরী খাই তখন আমেরিকায় বিকাল, তাহলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে একই দিনে আমল করা কি করে সম্ভব?
জবাব: অত্র পশ্নের উত্তর বুঝার জন্য দু’টি মৌলিক বিষয় গভীর ভাবে স্মরণ রাখতে হবে।
এক; চাঁদের তারিখ সংশ্লিষ্ট আমলগুলো সমগ্র পৃথিবীতে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবেনা। বরং একই দিনে (অর্থাৎ শুক্র, শনি, রবি----------বুধ বা বৃহস্পতিবারে) এবং একই তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
দুই; যেহেতু সব সময়েই মধ্যপ্রাচ্যের কোন না কোন দেশে সর্বপ্রথম নুতন চাঁদ দেখা যাবে তাই চাঁদের তারিখ নির্ভর সকল ইবাদাত পালনের ক্ষেত্রে পৃথিবীর যে কোন দেশের সময়ের হিসেব মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশ বা অন্য কোন দেশের সময়ের সঙ্গে নয়।
তাহলে মনে করা যাক, বৃহস্পতিবার দিবাগত সন্ধ্যা ৭টায় মধ্য প্রাচ্যে পবিত্র রমযানের চাঁদ দেখা গেল এবং প্রমাণিত হল শুক্রবার ১ রমযান। এখন সমগ্র বিশ্বে ১ রমযান হিসেবে শুক্রবারে রোযা রাখা যায় কিনা এটাই মূল বিবেচনার বিষয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় যখন মধ্য প্রাচ্যে চাঁদ দেখা গেল তখন ঐ চাঁদ দেখার সংবাদ ১৪২ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত সর্বপ্রথম সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে পৌঁছবে জাপানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ২৮মিনিটে। অথচ সাহরীর সর্বশেষ সময় সীমা কখনই ৩টা ৪৩মিনিটের নিম্নে আসেনা। তাহলে জাপানবাসী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চাঁদ উদয়ের সংবাদ শুনে শুক্রবারে রোযা রাখার জন্য সাহরী খেতে সময় পাচ্ছেন (৩:৪৩মিঃ - ১:২৮মিঃ) ২ঘন্টা ১৫মিনিট।
এমনিভাবে ১২০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ ইন্দোনেশিয়ার সুমবা, ফ্লোরেস, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, চীনের শেংইয়াং, হাইলার, ইনহো, রাশিয়ার টালুমা, খরিনটস্কি, সুখানা এবং অলিনেক অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায়। ফলে বছরের সব চেয়ে ছোট রাতেও চাঁদ উদয়ের সংবাদ পাবার পরে শুক্রবার ১ রমযানের রোযা রাখতে সাহরী খাওয়ার জন্যে তারা সময় পাবে ৩ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। অতএব তাদের জন্যে শুক্রবার রোযা রাখা সম্ভব। এরপরে ১০৫ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ তেলাকবেটং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, লাওস, চীনের ইপিং, চেংটু, মোঙ্গলিয়া এবং রাশিয়ার মধ্য সাইবেরিয়ান অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টায়। ফলে তারাবীহ ও সাহরীর জন্যে তারা সময় পাবে ৪ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। তারপরে ৯০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, চীনের লাসা, টুরপান, ফাইয়ুন, রাশিয়ার আবাজা অচিনিস্ক, নগিনস্কি অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টায়। ফলে তারাবীহ ও সাহরীর জন্যে তারা সময় পাবে ৫ ঘন্টা ৪৩ মিনিট এভাবে ৭৫ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত দেশ ভারতের দিল্লী, কাশ্মীর, কিরগিজিয়া, পূর্বপাকিস্তানে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে ঐরাত ৯টায় এবং ৬০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত দেশ পাকিস্তানের করাচী, আফগানিস্তান, পূর্ব ইরান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তানে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে ওখানকার স্থানীয় সময় রাত ৮টায়। তাহলে প্রমাণিত হল মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে জাপান পর্যন্ত পূর্ব গোলার্ধের সকল দেশে শুক্রবার ১ রমযানের রোযা রাখা সম্পূর্ণ সম্ভব।
এবার পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশ নিয়ে আলোচনা করা যাক। ৪৫ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যে যখন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় রমযানের চাঁদ দেখা গেল তখন ৩০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ দক্ষিন আফ্রিকার ডারবান, জিম্বাবুই, জাম্বিয়ার বেলা, তানজানিয়ার বরুনডি, সুদান, মিসর, তুরস্কের বুরসা, ইউক্রেন এবং রাশিয়ার লেলিন গ্রাদ ইত্যাদি অঞ্চলে উক্ত চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে ঐ অঞ্চল সমূহের স্থানীয় সময় বিকাল ৬টায়। ফলে চাঁদ উদয়ের সংবাদ পাবার পরে শুক্রবার ১ রমযানের রোযা রাখতে তারা সময় পাবেন ৯ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। এমনি ভাবে ১৫ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ সমূহে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায়। ০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ টগো, মালি, আলজেরিয়ার রেগান, ওরান, স্পেনের ভ্যালেনসিয়া, ফ্রান্সের বদৌস ও প্যারিস এবং লন্ডন অঞ্চল সমূহে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায়। আরো পশ্চিমে ১৫ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ সেনেগাল, মৌরতানিয়ার নৌয়াকচট, পশ্চিম সাহারা, পূর্ব আইসল্যান্ড ইত্যাদি অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায়। এমনি করে ৩০ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমায় দুপুর ২টায়, ৪৫ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমায় দুপুর ১টায়, ৬০ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে পূর্ব আর্জেটিনায়, প্যারাগুয়ে, মধ্য ব্রাজিলে, পূর্ব ভেনিজুয়েলায়, পূর্ব কানাডায় এবং পশ্চিম গ্রীনল্যান্ডে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়। এমনি করে ৭৫ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমায় সংবাদ পৌঁছবে বেলা ১১টায়। ৯০ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমায় সংবাদ পৌঁছবে বেলা ১০টায়। ১০৫ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমার দেশ সমূহ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রের আলবুক্য়ার্ক, ডেনভার, সিয়েন, মাইলস্ সিটি এবং মধ্য কানাডীয় অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে এসব অঞ্চলের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায়। এমনি ভাবে সর্বশেষ ১৮০ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, আলিউটিয়ান দ্বীপপুঞ্জে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে সেখানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায়। এবং উল্লেখিত সকল দ্রাঘিমায় অবস্থিত দেশ সমূহের অধিবাসীরা জানবে যে, মধ্য প্রাচ্যে বৃহস্পতিবার দিবাগত সন্ধ্যা ৭টায় নুতন চাঁদ দেখার কারণে ১ রমযান হচ্ছে শুক্রবার। অতএব মধ্যপ্রাচ্য থেকে পশ্চিম দ্রাঘিমার দেশগুলো যথাক্রমে বৃহস্পতিবার দিনের অংশ ও পূর্ণদিন অতিক্রমের পরে স্থানীয় ভাবে যে দেশে যখন শুক্রবার শুরু হবে সে দেশে তখন শুক্রবারে ১ রমজানের রোযা পালন করবে। উল্লেখিত আলোচনার সারকথা হলো শুক্রবার দিবসটি জাপানে শুরু হবে মধ্যে প্রাচ্যের ৬ঘন্টা ২৮মিনিট পূর্বে এবং পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হবে মধ্য প্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের ১৫ঘন্টা পরে। কিন্তু দিন একটিই তাহল শুক্রবার। তবে উভয় স্থানে দিন ও তারিখ হবে অভিন্ন। অতএব জাপানে শুক্রবারের রোযা শুরু হবে পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ঘন্টা পূর্বে। আবার পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে রোযা শুরু হবে জাপানের স্থানীয় সময়ের ২৩ঘন্টা পরে। যেমন আমাদের বাংলাদেশে আমরা রোযা রাখলাম শুক্রবার। কিন্তু পাবর্ত্য চট্টগ্রামে সাহরীর শেষ সময় যদি হয় ৪টা ৩০মিনিট, তবে রাজশাহীতে সাহরীর শেষ সময় হবে আরো ১৩ মিনিট পরে অর্থাৎ ৪টা ৫৩ মিনিট। তাহলে বাংলাদেশে শুক্রবারের রোযা পার্বত্য চট্টগ্রামে শুরু হল ১৩ মিনিট পূর্বে এবং রাজশাহীতে শুরু হল ১৩ মিনিট পরে। ঠিক তেমনি সমগ্র পৃথিবীতে রোযা শুরু ও শেষ হওয়ার সময় স্থানীয় সময় অনুপাতে আগ-পিছ হলেও দিন ও তারিখ হবে অভিন্ন। অতএব সমগ্র পৃথিবীতে অভিন্ন দিন ও তারিখে রোযা রাখা এবং ঈদ করা সম্পূর্ণ সম্ভব।
তিন: যদি প্রশ্ন করা হয়, যে সকল ইমাম, ফকীহ নিজ নিজ কিতাবে উক্ত মাসয়ালা লিখেছেন আবার তারাই নিজেদের ফাতওয়ার বিপরীতে এলাকা ভিত্তিক আমল করেছেন। এর কারণ কি?
জবাব: ইমাম ও ফকীহগণ তাদের ফাতওয়ার বিপরীত আমল করেছেন একথা ঠিক নয়। তারা সর্বপ্রথম চাঁদ দেখার সংবাদ গ্রহণযোগ্য সূত্রে যতটুকু এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে ততটুকু এলাকায় আমল করেছেন। এ ছাড়াও সত্য সন্ধানী চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য এ প্রশ্নের জবাব খুবই সহজ। তা হল উপরোল্লেখিত ইমাম ও ফকীহগণের সকলের জীবদ্দশায়ই আধুনিক উন্নত ইলেকট্রনিক সংবাদ মিডিয়া ছিলনা। যার ফলে তারা তাৎক্ষনিকভাবে চাঁদ দেখার সংবাদ এক দেশ থেকে অন্য দেশে দিতে বা নিতে পারেন নি। এ ওজর বা বাধ্যবাধকতার কারণেই তারা বাহ্যিক চোখে যেদিন যে অঞ্চলে চাঁদ দেখেছেন এবং যতদূর পর্যন্ত সংবাদ দিতে-নিতে পেরেছেন ততদূর পর্যন্ত অঞ্চলে আমল করেছেন। অবশ্যই এটা তাদের ভুল ছিলনা বরং সময়ের দাবীতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধার কারণে তাদের এ আমল সম্পূর্ণ যুক্তি সঙ্গত ছিল। ওজর সম্বলিত তাদের সে আমলই কালের পরিক্রমায় সমাজের প্রতিটি স্নায়ূতে মিশে গেছে। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদানে বর্তমানে ইমাম ও ফকীহগণের প্রদত্ত্ব মূল ফাতওয়ার বিপরীত আমল করার কোন সুযোগ নেই।
চার: যদি প্রশ্ন করা হয়, কোন মুফতি যখন নিজ ফাতওয়ার বিপরীতে আমল করেন তখন তার ফাতওয়া অকার্যকর হয়ে যায় কি না?
জবাব: যদি কোন মুফতি তার প্রদত্ব ফাতওয়ার বিপরীত আমল করেন তবে কখনই তার ফাতওয়া অকার্যকর হয়না। কারণ অছুলে হাদীস (হাদীস ব্যাখ্যা করার মূলনীতি) এবং অছুলে ফিকহ (মাসয়ালা রচনার মূলনীতি) এর বিধান হল, যদি একই বিষয়ে একই বর্ণনাকারীর বর্ণনা এক রকম আর আমল অন্য রকম হয় তখন দলিলের ক্ষেত্রে আমলের উপরে বর্ণনা প্রাধান্য পাবে। কারণ বর্ণনার ক্ষেত্রে কোন ওজর নেই কিন্তু আমলের ক্ষেত্রে কোন না কোন ওজর থাকা স্বাভাবিক।
আর এ বিষয়ে কোন মুফতি নিজ ফাতওয়ার বিপরীত আমল করেননি। বরং তারা এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তাদের সাধ্য অনুযায়ী বাস্তবায়নের আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
পাঁচ: যদি প্রশ্ন করা হয়, ফাতওয়ায় উপস্থাপিত দলীল সমূহের মূল ফিকহ গ্রস্থগুলো আমাদের সম্মানিত আলেমগণ পড়েন না?
জবাব: জবাবে বলব, এ প্রশ্ন আমাদেরকে না করে তাদেরকে করাই যথার্থ হবে। কারণ তারা ঐ সকল মূল কিতাবগুলো পড়েন কি পড়েন না অথবা বুঝেন কি বুঝেন না এটা তারা ভাল বলতে পারবেন। তদোপরি বিষয়টি তাদের একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। যে কিতাবগুলোর দলীল আমরা উপস্থাপন করেছি সে গুলো পড়ে একজন মুকাল্লিদ আলেম তার মাযহাবের ইমাম ও পরবর্তী বিশ্ববিখ্যাত ফকীহগণের ফাতওয়া ভুল ছিল এ কথা বলার ধৃষ্টতা দেখাবেন তা আমরা মনে করিনা। একটি আমল যুগযুগ ধরে চলে আসছে তাই তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। অথবা গুটি কয়েক মুরুব্বীর অনুকরণ করে কিতাবের ফাতওয়াকে উপেক্ষা করছেন। তবে ইসলাম যে বাস্তব ও বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবন ব্যবস্থা এবং যাবতীয় যুগ জিজ্ঞাসার সমাধান দিতে সক্ষম তা উপলব্ধি করে সম্মানিত ওলামায়ই কিরাম বিষয়টি বিবেচনা করলেই সমস্যার সহজ সমাধান হবে। বর্তমানে কোন ভাবেই মূল ফাতওয়ার বিপরীত আমল করার সুযোগ নেই।
ছয়: যদি প্রশ্ন করা হয়, রেডিও, টিভি, মাইক, টেলিফোন, মোবাইল ইত্যাদির আওয়াজ কি কথকের আওয়াজ, না কি কথকের আওয়াজের প্রতিধ্বনি সে বিষয়ে বিজ্ঞানীগণ আজও এক মত হতে পারেননি। তাই উক্ত মাধ্যম গুলোর সংবাদ শরীয়ত সম্মত হবে কি করে?
জবাব: এর জবাবে এতটুকু বলাই যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি যে, যে সকল সম্মানিত আলেমগণ বিজ্ঞানীদের মতানৈক্যের অসার যুক্তি দেখিয়ে আধুনিক যান্ত্রিক মিডিয়ার সংবাদকে শরীয়ত সম্মত নয় বলে সস্তা ফাতওয়া জারী করেন। তারা রীতিমত নিজেদেরকেই মিথ্যাবাদী প্রমাণ করছেন। কারণ তাদের নিষিদ্ধ ঘোষিত ঐ সকল যান্ত্রিক মিডিয়া তারা অহরহ ব্যবহার করেন। উহার মাধ্যমে আযান একামত, ওয়াজ নসিহত ও নামাজ আদায় করেন। মোবাইল ও টেলিফোনের অপর প্রান্তের সকল কথা পুরোপুরি বিশ্বাস নিয়ে তারা জবাব দেন। অথচ তাদের আপত্তি কেবল চাঁদের সংবাদের ক্ষেত্রে। আরো মজার ব্যাপার হল বাংলাদেশে চাঁদ দেখার সংবাদ প্রশ্ন কর্তারা এ সকল মিডিয়াতেই প্রচার করে থাকেন।
সাত: যদি প্রশ্ন করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার তারিখ অনুযায়ী বাংলাদেশে রোযা ও ঈদ হবে, তাহলে আমরা কেন আরবদেশ গুলোর সঙ্গে একই সময়ে সাহরী ও ইফতারী খাইনা এবং নামায আদায় করি না?
জবাব: এখানে একটি মৌলিক কথা মনে রাখতে হবে যে, রোযা ফরয হওয়া নামায ফরয হওয়া এক বিষয়। আর রোযা আদায় করা নামায আদায় করা এবং সাহরী ও ইফতারী খাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
রোযা ফরয হওয়া, নামায ফরয হওয়াকে বলে আসবাবে ওযুব বা ওয়াজিব হওয়ার কারণ। পক্ষান্তরে নামায আদায় করা, রোযা সমাপন করাকে বলে আসবাবে আদা বা সমাপনের কারণ।
অর্থাৎ প্রতিটি আমলেরই দু’টি দিক রয়েছে। একঃ আমলটি ফরয হওয়া, দুইঃ ফরয হওয়া উক্ত আমলকে কার্যের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করা। রোযার ক্ষেত্রেও অনুরূপ। প্রথমত; রোযা ফরয হওয়া, দ্বিতীয়ত; রোযাকে কাজের মাধ্যমে পূর্ণতা দেয়া।
এ প্রথমটি অর্থাৎ রোযা ফরয হওয়া নির্ভর করে চাঁদ দেখার মাধ্যমে মাসের উপস্থিতির উপর। ফলে পৃথিবীর আকাশে পবিত্র রমযান মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমে রমযান মাস প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথে সমগ্র পৃথিবীর সকল মু’মিন নারী পুরুষের উপর একই সাথে রোযার ফরয হওয়া সাব্যস্ত হয়ে যায়। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ঘোষণা হলো- فمن -شهد منكم الشهر فليصمه
অর্থাৎ তোমদের মধ্যে যে ব্যক্তিই রমযান মাসে উপনিত হবে সেই যেন রোযা রাখে।
----(সূরা বাকারা-১৮৫)
এখন প্রশ্ন হলো এ ফরয হওয়া রোযা আমরা কিভাবে আদায় করব। যা রোযার দ্বিতীয় দিক অর্থাৎ রোযাকে কার্যে পরিণত করা যা শুরু হয় সাহরী খাওয়ার মাধ্যমে এবং শেষ হয় ইফতারীর মাধ্যমে।
আর এ দ্বিতীয়টি অর্থাৎ সাহারী ও ইফতারীর মাধ্যমে রোযাকে কার্যে পরিণত করা নির্ভর করে সূর্যের পরিভ্রমণের উপর। যে সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ঘোষণা হলো-
-كولوا واشربوا حتى يتبين لكم الخيط الابيض من الخيط الاسود من الفجر ثم اتموا الصيام الى الليل
অর্থাৎ তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে (পূর্ব আকাশে) ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার হয়। অতপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত।
---- (সূরা আল-বাকারা-১৮৭)
অত্র আয়াতের ঘোষণা থেকে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে, রোযা কার্যের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করার শুরু হচ্ছে সুবহি সাদিক এবং রোযা সমাপ্ত হবে রাতের শুরুতে যা ইফতারীর সময়। সুবহি সাদিক এবং রাত হওয়া অবশ্যই সূর্যের পরিভ্রমণের সাথে সম্পর্কিত, চাঁদের সাথে নয়।
তাহলে উপরোক্ত দু’টি আয়াতের সার কথা এই দাঁড়ালো যে পৃথিবীর কোথাও চাঁদ উদয় প্রমাণিত হওয়ার সংবাদ গ্রহনযোগ্য মাধ্যমে পাওয়ার সাথে সাথে সকল পৃথিবীবাসীর উপর রোযা ফরয হবে। রোযা বাস্তবায়িত করতে হবে সূর্যের পরিভ্রমণের দ্বারা। তাই সূর্যের পরিভ্রমণের প্রতি লক্ষ্য রেখেই স্থানীয় সময়ানুপাতে পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সাহরী, ইফতার ও নামায আদায় করতে হয়। যেহেতু বাংলাদেশে সূয উদয়-অস্ত মধ্য প্রাচ্যের উদয়-অস্ত সময় থেকে ৩ঘন্টা অগ্রগামী সে কারণেই বাংলাদেশে সাহরী, ইফতার ও নামাযের সময় মধ্য প্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের চেয়ে ৩ঘন্টা আগে হবে। সুতরাং এব্যাপারে আর কোন প্রশ্ন থাকতে পারে না। মনে করুন রাষ্ট্রীয় ঘোষণা মতে সমগ্র বাংলাদেশ বাসী শুক্রবার ১ রমজানের রোযা রাখলেন। অথচ ঐ দিনই পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সাহরীর শেষ সময় ও ইফতারীর সময় যখন হয়, তার ১৩মিনিট পরে হবে পঞ্চগড়ের অধিবাসীদের সাহরী ও ইফতারীর সময়। এর কারণ হল রোযা ফরয হয় চাঁদের তারিখের ভিত্তিতে। তাই একই তারিখে সকলে রোযা রাখবে। আর সাহারী, ইফতার ও নামাজের সময় হয় সূর্যের গতি বিধিতে। ফলে যার যার স্থানীয় সময়ানুযায়ী সাহরী ও ইফতার খাবে এবং নামায আদায় করবে।
http://www.newmoonbd.com/faq.php

কুরআন, সুন্নাহ এবং ফিকহের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই দিনে সমগ্র বিশ্বে রোযা, ঈদ, কুরবানী ইত্যাদি ইবাদাত পালন করা কীভাবে সম্ভব?
চিন্তাশীলদের কাছে কিছু প্রশ্ন
১. কেন মুসলিম বিশ্বে একই সাথে শবে কদর পালিত হয়না? শবে কদরের রাত কি একটা নাকি দুইটা? ৩০ পারা কুরআন একত্রে যে রাতে নাযিল হয়েছিল সেটাই কদরের রাত। ৩০ পারা কুরআন কি মধ্যপ্রাচ্যে এক রাতে আর বাংলাদেশে তার পরের রাতে অর্থাৎ দুই রাতে নাযিল হয়েছে?
২. রাসূল (স) এর হাদিস দ্বারা প্রমানিত, কিয়ামত ১০ ই মুহাররম শুক্রবারে হবে। আমাদের প্রচলিত গণনা অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে যদি শুক্রবারে ১০ ই মুহাররম হয় তবে বাংলাদেশে সেদিন ৯ ই মুহাররম শুক্রবার। আবার যদি বাংলাদেশে শুক্রবারে ১০ ই মুহাররম হয় তবে মধ্যপ্রাচ্যে সেদিন ১১ ই মুহাররম শুক্রবার। কিয়ামত মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ই মুহাররম শুক্রবারে হলে বাংলাদেশে সেদিন ৯ ই মুহাররম থাকার কারনে কিয়ামত হবেনা। আর বাংলাদেশের ১০ ই মুহাররম শুক্রবারে কিয়ামত হলে মধ্যপ্রাচ্যে ১১ ই মুহাররম থাকার কারনে কিয়ামত হবেনা।তাহলে কিয়ামত কোন দেশের ১০ ই মুহাররম শুক্রবার অনুযায়ী হবে?
৩. বাংলাদেশ থেকে কেউ রোযা শুরু করে রমযান মাসের যে কোন দিন মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে সেখানে ঈদ করলে তার রোযা ২৮ বা ২৯ টি হয়। আবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে কেউ রোযা শুরু করে রমযান মাসের যে কোন দিন বাংলাদেশে এসে এখানে ঈদ করলে তার রোযা ৩০ বা ৩১ টি হয়। ২৮ ও ৩১ রোযার বিধান কি ইসলামে আছে?
৪. অনেকেই বলেন নামাজের ওয়াক্ত মধ্যপ্রাচ্যে ও বাংলাদেশে এক নয় তাহলে শবে কদর এক হবে কিভাবে। তাদেরকে বলি, নামাজের ওয়াক্ত এবং সেহরি ইফতার হয় সূর্য অনুযায়ী কিন্তু যে কোন আরবী মাস শুরু হয় চাঁদ অনুযায়ী। সূর্য ও চাঁদের হিসাব আলাদা। নামাজের ওয়াক্ত এবং সেহরি ইফতার কি চাঁদ অনুযায়ী হয়? আরবী মাস কি সূর্য অনুযায়ী হয়?
দেশ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মাস শুরু করায় নানা সমস্যা…...
এধরনের ভিন্ন ভিন্ন মানদ্বন্দের ভিত্তিতে মাস শুরুর করায় মুসলিম বিশ্বে বিচ্ছিন্নতা এবং ধর্মীয় উৎসবগুলো সার্বজনীনতা ও ধর্মীয় তাৎপর্য হারাচ্ছে ।
* রাসুল (সাঃ) এর মক্কা থেকে মদিনায় হিযরতের দিন ১ হিজরী সাল ধরে ১ তারিখ নির্ধারণ করে ১২ মাসে বছর এভাবে হিজরী সাল গণনা হয় ।
বিভিন্ন মানদ্বন্দে চাঁদ দেখা বা স্বাক্ষীর জন্য হিজরী সাল তারিখের গড়মিল হয়েছে ।
*কুরআন নাযিল হয়েছে লাইতুল ক্বদরে(বাকারা-১৮৫; ক্বদর-১) ।
হযরত আয়েশা (রাজিঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
রমযানের শেষ দশ তারিখের বেজড় রাতসমুহে লাইলাতুল কদরকে তালাশ কর-সহিহ আল বুখারী ২/২৮৪ হাদিস নং ১৮৭৪
কোন দেশের ক্বদরের তারিখে কুরআন নাযিল হয়েছে !!
এক দেশে জোড় অন্য দেশে বিজোড় !!! কাদের তারিখ অনুযায়ী লাইতুল ক্বদর হঠিক হবে !!!
*ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম-
হযরত আবু উবাইদা (রাজিঃ) বলেন, আমি হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাজিঃ) এর সাথে ঈদের নামাজ আদায় করেছি । তিনি বলছেন, এ দুই দিনের রোযা রাখা থেকে নবী (সাঃ) নিষেধ করেছেন ।
প্রথম দিন হলো, যখন তোমরা রোযা শেষ কর, আর দ্বিতীয় দিন হলো, যখন তোমরা কোরবানীর গোস্ত খাবে-সহিহ আল বুখারী ২/২৭২ হাদিস নং ১৮৫১
*আবু সাঈদ খুদরী রা: থেকে বর্নীত, রাসুল (সাঃ) রোযার ঈদের দিন এবং কুরবানীর ঈদের দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন (সূত্র: সহীহ সহীহ বুখারী ৩য় খন্ড/১৮৬৭, ১৮৬৮ ও সহীহ মুসলিম ৩য় খন্ড/২৫৩৭-২৫৪২)
এক দেশে ঈদ অন্য দেশে রোজা রাখে !! কে হারাম কাজ করে ?!!
* আরাফা (জিলহজ্ব মাসের নয় তারিখ) ও আশুরার (দশই মুহাররাম) তারিখের ফযিলত- হযরত আবু কাতাদাহ (রাজিঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
আরাফার রোযা আগের পরের দু’বৎসরের গুনাহ মাফ করে দেয় এবং আশুরার রোযা বিগত এক বৎসরের গুনাহ সমুহ ক্ষমা করে দেয়-আহমাদ, আবুদাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসলিম শরীফ ৪/১২৬ হাদিস নং ২৬১৪
আরাফা ও আশুরার তারিখ কোন দেশেরটা সঠিক !!
* জিলহজ্বের ১০ তারিখে (সউদীর চাঁদের উপর নির্ভর করে) হাজিগণ কুরবানী করেন ।
* হাদীস অনুযায়ী কিয়ামত হবে ১০ই মুহাররমের শুক্রবার ।
কিয়ামত পৃথিবীতে কয়দিন হবে !!
উপরের বিষয়গুলোর তারিখ যা চাঁদের উদয়ের উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয় । যার যার নিজ দেশের চাঁদ উদয়ের উপর নির্ভর করে উক্ত তারিখ গণনা করলে সমগ্র বিশ্বে ভিন্ন ভিন্ন দিন হয় । আবার কোন দেশে ২৯ বা ৩০ দিনে মাস শেষ অন্য দেশে আর ১ দিন বা ২ দিন পরে মাস শেষ হয় । অর্থাৎ
উক্ত দুই দেশে একত্র করলে মাসের দিন হয় ৩০ বা ৩১/৩২ যা শরীয়ায় কোন দলিল পাওয়া যায় না ।
সর্বজন স্বীকৃত যে উক্ত দিন (তারিখ) পৃথিবীতে একটাই হবে এবং আরবী মাস ২৯ বা ৩০ দিনে ।
অতএব উক্ত দিনের তারিখ সঠিক না হলে গুনাহ্গার বা ফযিলত থেকে বঞ্চিত হতে হবে ।
একথা সকলেরই জানা, শবে ক্বদর, আরাফা, পবিত্র ঈদুল আযহা, আশুরা, ঈদ-ই-মিলাদুন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম, পবিত্র শব-ই-মিরাজ, শব-ই-বরাত পালনের দিন তারিখ বেশ কিছু দিন পূর্বেই সংবাদ পাওয়া যায় । যা বিশ্বে একই দিনে পালন করা সম্ভব।
রমযান মাসের ১ম (যে কোন মাসের ১ম) তারিখ নির্ধারন এবং বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছানোর উপর নির্ভর করে ১ম রোজা এবং ঈদুল ফিতর (পরবর্তী মাস) ।
প্রত্যেক মাসের ১ম তারিখ নির্ধারনে বিশ্ব মুসলিম উম্মা এক হলেই সকল ইবাদত একই দিনে পালন করা সম্ভব হবে ।
বিস্তারিত দেখুন- http://sottersondhane.blogspot.com/2013/05/blog-post.html (pls click & read)
চিন্তাশীলদের কাছে কিছু প্রশ্ন
১. কেন মুসলিম বিশ্বে একই সাথে শবে কদর পালিত হয়না? শবে কদরের রাত কি একটা নাকি দুইটা? ৩০ পারা কুরআন একত্রে যে রাতে নাযিল হয়েছিল সেটাই কদরের রাত। ৩০ পারা কুরআন কি মধ্যপ্রাচ্যে এক রাতে আর বাংলাদেশে তার পরের রাতে অর্থাৎ দুই রাতে নাযিল হয়েছে?
২. রাসূল (স) এর হাদিস দ্বারা প্রমানিত, কিয়ামত ১০ ই মুহাররম শুক্রবারে হবে। আমাদের প্রচলিত গণনা অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে যদি শুক্রবারে ১০ ই মুহাররম হয় তবে বাংলাদেশে সেদিন ৯ ই মুহাররম শুক্রবার। আবার যদি বাংলাদেশে শুক্রবারে ১০ ই মুহাররম হয় তবে মধ্যপ্রাচ্যে সেদিন ১১ ই মুহাররম শুক্রবার। কিয়ামত মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ই মুহাররম শুক্রবারে হলে বাংলাদেশে সেদিন ৯ ই মুহাররম থাকার কারনে কিয়ামত হবেনা। আর বাংলাদেশের ১০ ই মুহাররম শুক্রবারে কিয়ামত হলে মধ্যপ্রাচ্যে ১১ ই মুহাররম থাকার কারনে কিয়ামত হবেনা।তাহলে কিয়ামত কোন দেশের ১০ ই মুহাররম শুক্রবার অনুযায়ী হবে?
৩. বাংলাদেশ থেকে কেউ রোযা শুরু করে রমযান মাসের যে কোন দিন মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে সেখানে ঈদ করলে তার রোযা ২৮ বা ২৯ টি হয়। আবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে কেউ রোযা শুরু করে রমযান মাসের যে কোন দিন বাংলাদেশে এসে এখানে ঈদ করলে তার রোযা ৩০ বা ৩১ টি হয়। ২৮ ও ৩১ রোযার বিধান কি ইসলামে আছে?
৪. অনেকেই বলেন নামাজের ওয়াক্ত মধ্যপ্রাচ্যে ও বাংলাদেশে এক নয় তাহলে শবে কদর এক হবে কিভাবে। তাদেরকে বলি, নামাজের ওয়াক্ত এবং সেহরি ইফতার হয় সূর্য অনুযায়ী কিন্তু যে কোন আরবী মাস শুরু হয় চাঁদ অনুযায়ী। সূর্য ও চাঁদের হিসাব আলাদা। নামাজের ওয়াক্ত এবং সেহরি ইফতার কি চাঁদ অনুযায়ী হয়? আরবী মাস কি সূর্য অনুযায়ী হয়?
দেশ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মাস শুরু করায় নানা সমস্যা…...
এধরনের ভিন্ন ভিন্ন মানদ্বন্দের ভিত্তিতে মাস শুরুর করায় মুসলিম বিশ্বে বিচ্ছিন্নতা এবং ধর্মীয় উৎসবগুলো সার্বজনীনতা ও ধর্মীয় তাৎপর্য হারাচ্ছে ।
* রাসুল (সাঃ) এর মক্কা থেকে মদিনায় হিযরতের দিন ১ হিজরী সাল ধরে ১ তারিখ নির্ধারণ করে ১২ মাসে বছর এভাবে হিজরী সাল গণনা হয় ।
বিভিন্ন মানদ্বন্দে চাঁদ দেখা বা স্বাক্ষীর জন্য হিজরী সাল তারিখের গড়মিল হয়েছে ।
*কুরআন নাযিল হয়েছে লাইতুল ক্বদরে(বাকারা-১৮৫; ক্বদর-১) ।
হযরত আয়েশা (রাজিঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
রমযানের শেষ দশ তারিখের বেজড় রাতসমুহে লাইলাতুল কদরকে তালাশ কর-সহিহ আল বুখারী ২/২৮৪ হাদিস নং ১৮৭৪
কোন দেশের ক্বদরের তারিখে কুরআন নাযিল হয়েছে !!
এক দেশে জোড় অন্য দেশে বিজোড় !!! কাদের তারিখ অনুযায়ী লাইতুল ক্বদর হঠিক হবে !!!
*ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম-
হযরত আবু উবাইদা (রাজিঃ) বলেন, আমি হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাজিঃ) এর সাথে ঈদের নামাজ আদায় করেছি । তিনি বলছেন, এ দুই দিনের রোযা রাখা থেকে নবী (সাঃ) নিষেধ করেছেন ।
প্রথম দিন হলো, যখন তোমরা রোযা শেষ কর, আর দ্বিতীয় দিন হলো, যখন তোমরা কোরবানীর গোস্ত খাবে-সহিহ আল বুখারী ২/২৭২ হাদিস নং ১৮৫১
*আবু সাঈদ খুদরী রা: থেকে বর্নীত, রাসুল (সাঃ) রোযার ঈদের দিন এবং কুরবানীর ঈদের দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন (সূত্র: সহীহ সহীহ বুখারী ৩য় খন্ড/১৮৬৭, ১৮৬৮ ও সহীহ মুসলিম ৩য় খন্ড/২৫৩৭-২৫৪২)
এক দেশে ঈদ অন্য দেশে রোজা রাখে !! কে হারাম কাজ করে ?!!
* আরাফা (জিলহজ্ব মাসের নয় তারিখ) ও আশুরার (দশই মুহাররাম) তারিখের ফযিলত- হযরত আবু কাতাদাহ (রাজিঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
আরাফার রোযা আগের পরের দু’বৎসরের গুনাহ মাফ করে দেয় এবং আশুরার রোযা বিগত এক বৎসরের গুনাহ সমুহ ক্ষমা করে দেয়-আহমাদ, আবুদাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসলিম শরীফ ৪/১২৬ হাদিস নং ২৬১৪
আরাফা ও আশুরার তারিখ কোন দেশেরটা সঠিক !!
* জিলহজ্বের ১০ তারিখে (সউদীর চাঁদের উপর নির্ভর করে) হাজিগণ কুরবানী করেন ।
* হাদীস অনুযায়ী কিয়ামত হবে ১০ই মুহাররমের শুক্রবার ।
কিয়ামত পৃথিবীতে কয়দিন হবে !!
উপরের বিষয়গুলোর তারিখ যা চাঁদের উদয়ের উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয় । যার যার নিজ দেশের চাঁদ উদয়ের উপর নির্ভর করে উক্ত তারিখ গণনা করলে সমগ্র বিশ্বে ভিন্ন ভিন্ন দিন হয় । আবার কোন দেশে ২৯ বা ৩০ দিনে মাস শেষ অন্য দেশে আর ১ দিন বা ২ দিন পরে মাস শেষ হয় । অর্থাৎ
উক্ত দুই দেশে একত্র করলে মাসের দিন হয় ৩০ বা ৩১/৩২ যা শরীয়ায় কোন দলিল পাওয়া যায় না ।
সর্বজন স্বীকৃত যে উক্ত দিন (তারিখ) পৃথিবীতে একটাই হবে এবং আরবী মাস ২৯ বা ৩০ দিনে ।
অতএব উক্ত দিনের তারিখ সঠিক না হলে গুনাহ্গার বা ফযিলত থেকে বঞ্চিত হতে হবে ।
একথা সকলেরই জানা, শবে ক্বদর, আরাফা, পবিত্র ঈদুল আযহা, আশুরা, ঈদ-ই-মিলাদুন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম, পবিত্র শব-ই-মিরাজ, শব-ই-বরাত পালনের দিন তারিখ বেশ কিছু দিন পূর্বেই সংবাদ পাওয়া যায় । যা বিশ্বে একই দিনে পালন করা সম্ভব।
রমযান মাসের ১ম (যে কোন মাসের ১ম) তারিখ নির্ধারন এবং বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছানোর উপর নির্ভর করে ১ম রোজা এবং ঈদুল ফিতর (পরবর্তী মাস) ।
প্রত্যেক মাসের ১ম তারিখ নির্ধারনে বিশ্ব মুসলিম উম্মা এক হলেই সকল ইবাদত একই দিনে পালন করা সম্ভব হবে ।
বিস্তারিত দেখুন- http://sottersondhane.blogspot.com/2013/05/blog-post.html (pls click & read)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন